১। নিত্যদিনের বাজার-সদায় বলতে আমরা মূলত শাক-সবজি জাতীয় জিনিসগুলো কেনাকেই বুঝে থাকি। আপনি কি জানেন কোথায় আপনি ভালো, সতেজ শাক-সবজি পাবেন? ধরেন আপনি ঢাকাশহরের আশেপাশের কোন শহরে থাকেন। আপনার এলাকায় দুটি বা তার বেশি বাজার আছে। তবে সেগুলোর মধ্যে একটি বিশাল বড় এবং বাকি দুটো ছোট প্রকৃতির। নিশ্চয়, সবাই বলবেন বড় বাজার থেকে বাজার করাই ভালো কিন্তু আমার অভিজ্ঞতায় দেখেছি, ছোট বাজারে শাক-সবজির আইটেম কম থাকলেও যদি সকাল সকাল যান তবে বেশ টাটকা শাক-সবজি পেয়ে যাবেন। দামও কিন্তু খুব বেশি নিবে না। নিশ্চিন্তে বাজারটা সেরে ফেলতে পারেন।

২। ঈদের শপিং করবেন, মানে জামা-কাপড়-জুতো ও এই জাতীয় জিনিস কিনবেন। আপনার এলাকায় বেশ কয়েকটা মার্কেট আছে। ভাবলেন ভীড়ের মধ্যে বড় মার্কেটটায় গিয়ে লাভ নেই। বরং বাসার কাছের ছোট মার্কেটটা দিয়েই শপিং সেরে ফেলি। তবে বলব, চরম ভুল করলেন। দামে যেমন ঠকবেন, মানেও ঠকবেন শতভাগ নিশ্চিত। এই জাতীয় জিনিস সব সময় বড় মার্কেট দিয়ে কিনতে হয়।

৩। মাছ-মাংস কেনা একটা ঝক্কির কাজ। অনেকেই বিরক্ত হন। তবে বলব সরাসরি আড়ৎ বা তার আশেপাশে চলে যান, ছোটখাটো দোকান থেকে ভালো মাছ পাবেন না। যে বিক্রেতার দোকানে ভীড় বেশি দেখবেন, সেখান থেকে কেনার চেষ্টা করবেন (এটাকে গড্ডালিকা প্রবাহ ভাববেন না। যে কোন জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়ে আমজনতা একটু পিছিয়ে থাকলেও সংসার-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তারা অনেক এগিয়ে।)

৪। দুপুরে কাজের ব্যস্ততায় লাঞ্চ করার সুযোগ পাচ্ছে না। অবশেষে পড়ন্ত দুপুরে খাওয়ার ফুসরৎ মিলল। কোন একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকবেন। দেখলেন আশেপাশে তিন চারটা আছে। ভাববেন একটু আরামে বসে, নিরিবিলি খাই। তাই কম ভিড়ের রেস্টুরেন্টে ঢুকলেন। ব্যস্ নিম্নমাণের খাবার আপনার পেটকে স্বাগতম জানাবে। ওখানে ওয়েটার আপনার সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহার করবে। তরকারির ঝোলও একটু বেশি দিবে কিন্তু জেনে রাখবেন মান খারাপ। ব্যস্ততার পথে কোন রেস্টুরেন্টে খেতে হলে অবশ্যই চেষ্টা করবেন ভিড় বেশি যে রেস্টুরেন্টে সেখানে খেতে বসতে। ওয়েটার হয়তো একটু অবজ্ঞা করবে কিন্তু তুলনামূলক ভালো মানের খাবার পাবেন।

৫। বন্ধুরা মিলে একটু চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিতে চাইছেন। এবার কিন্তু অচল দোকানের দিকেই এগিয়ে যাবেন। ভিড় কম, চা খেতে খেতে আড্ডা দিবেন। বিক্রেতাও রাগ করবেন না। কারণ তিনি বুঝবেন, এককাপ করে না অন্তত দু’কাপ করে চা সবাই খাবেন। সাথে ‘টা’ তো থাকবেই।

৬। ডেটিং-এ যেতে চান কিন্তু জায়গা পাচ্ছেন না। মনে মনে খুঁজবেন নিরিবিলি জায়গাতে বসে একটু একান্তে কথা বলার জন্য কিন্তু মনে রাখবেন বিপদ কিন্তু ওখানেই ওৎ পেতে থাকে। শুধু শুধু প্রেমিকাকে ও নিজেকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না ফেলতে চাইলে মোটামুটি মানুষজন আছে এমন জায়গায় বসেন। [আমি ডেটিং বিশেষজ্ঞ নেই। আর এটা নিয়ে আপত্তি আসবে অনেকের তবু যা মনে হল বললাম]

৭। বাজেট কম, ভুল করেও ডির্পাটমেন্টাল স্টোরে ঢুকবেন না। বের হওয়ার সময় দেখবেন কোন না কোন অদরকারি (অন্তত ঐ সময়ে)জিনিস কিনে ফেলেছেন। [অবশ্য যারা নিয়মিত ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে যান, তাদের কথা আলাদা]

৮। ইলেকট্রনিক ডিভাইস সংক্রান্ত সমস্যাগুলো আমরা সাধারণত এলাকার আশেপাশের দোকান থেকেই করে থাকি। তবে একটু কষ্ট করে যদি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মার্কেটে যান তবে ভালো সার্ভিস পাবেন। [অবশ্য এলাকার দোকানদার পূর্বপরিচিত হলে সমস্যা নাই]

[বি.দ্র: কথায় আছে ‘নতুন ফকির হাটে বেশি’, আমার হয়েছে সেই দশা। কেন বললাম, বুদ্ধিমানরা বুঝে গেছেন। অতিরিক্ত পণ্ডিতি করছি হয়তো। আসলে সামুতে আসার পর কেন যেন লেখা প্রকাশের একটা তীব্র তাগিদ বোধ করছি। স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে যত বার কোন দেয়ালিকা, বার্ষিক ম্যাগাজিনে লেখা দিয়েছিলাম কখনই ছাপা হয়নি। বন্ধুরা বলত আমি ভালোই লিখি কিন্তু লেখা না ছাপার কারণটা বুঝতে পারিনি। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে বুঝতে পেরেছি ‘লবিং’ শব্দটার শক্তি ব্যাপক। ফাস্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ারেও লেখা ছাপাতো না কেউ, পরে সিনিয়র হওয়ার পর লেখা দেয়ার জন্য ফোন পেতাম। এখন্ও পাই। অবশ্য এখন পর্যন্ত জাতীয় দৈনিকে কোন লেখা দেয়া হয়নি। আর সামুতে ঘটেছে অন্য একটা ঘটনা। ‘নির্বাচিত পোস্ট’ বিষয়টা বুঝিনি। মনে হয়েছে যে পোস্টগুলোতে বেশি মন্তব্য পড়ে বা যে পোস্টগুলো বেশি পঠিত হয়, সেগুলো বোধ হয় সংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত পোস্ট হয়ে যায় কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। আমার একটা পোস্ট অল্প পঠিত ও মন্তব্য পাওয়া সত্ত্বেও নির্বাচিত পোস্ট হয়ে গেছে। বুঝলাম মডারেশন বোর্ড পড়েছে এবং নির্বাচন করার মতো ভেবেছে। ব্যস্ আর পায় কে! ‘নতুন ফকির হাটে বেশি’ হয়ে যাচ্ছে। পোস্ট বেশি বেশি দিচ্ছি। আর ছুটিতে আছি বিধায় লেখালেখিতেও মন দিতে পারছি। উপরের বক্তব্যগুলো আমার একান্ত চিন্তাপ্রসূত। ভুল থাকলে সংশোধন করে দিবেন সে প্রত্যাশা রাখি। অার ছবিগুলো ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত।]
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে জুন, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


