দেশে ফিরলাম ৭ই আগস্ট। দুঃস্বপ্নের ঘোর কাটছে না কোন ক্রমেই। বিভ্রান্ত সমস্ত পরিকল্পনা, নিজের স্বাভাবিক চলাফেরাও দুর্বিসহ হয়ে উঠছে মানসিক অস্থিরতায়। কি করবো? কিভাবে এতো টাকা জোগার করবো? সিএমসি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রায় ১৫ লক্ষ রুপির হিসাব দিয়েছে, সেটা বাংলাদেশি টাকার হিসেবে আরও অনেক। এ কয়েকদিন থম ধরে বসে ছিলাম, মাথায় কিছুই আসছিল না। ভেল্যুর থাকতে ফেসবুকে প্রথম ধাক্কার অনুভূতি লিখেছিলাম, ডাক্তারের কাছে কিভাবে নিরাশার কথা শুনতে হয়েছে সেই ধাক্কা। খুব কাছের (যাদের দীর্ঘনিন যাবত চিনি) বন্ধুদের কয়েক জন ইনবক্স ও আউটক্সে মন্তব্য করেছেন এভাবে,
''এইবার আল্লা-খোদার নাম নে''
''হমিওপ্যাথির চিকিৎসা করান, ভাল হয়ে যাবে; পয়সাও কম খরচ হবে।''
''লেখায় বানান ভুল। 'দারিদ্রতা' হবে না, হয় 'দারিদ্র' হবে নয় 'দরিদ্রতা' হবে। বাংলায় স্নাতকত্তোর সেতুর কাছে এটা প্রত্যাশা করি না।''
''নামাজ পড় বেটা, দেখবি সব অসুখ ভাল হয়া যাবে।'
''ইন্ডিয়া ছাড়া কি দেশ ছিল না ! ডাক্তার দেখাইতে ইন্ডিয়া যাওয়া লাগে?''
''ইন্ডিয়ায় গেলি তো গেলি একবারে শেষ সময়ে, ক্যান আগে যাওয়া গেল না?''
''ডাক্তার তোর লাইফটাইম কয়দিন দিছে?'
এইসব মন্তব্য করেছেন কয়েকজন কাছের মানুষ বলে ভাবি যাদের। আত্মীয়-স্বজন ঘটনা জানার পর আর যোগাযোগ করছে না, ফোন দিলেও অনেকে ফোন ধরছেন না।
এদিকে একটু আশার কথা যে, আমার প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ যে কলেজে আমি পড়াই, আমার সহকর্মী শিক্ষকবৃন্দ একটি উদ্যাগ নিচ্ছে। অধ্যক্ষ মহোদয় আগামি বৃহস্পতিবার একটি জরুরি সভা ডেকেছেন। আমি আশা করি তাঁরা একটি আশার আলো দেখাবেন। কয়েকজন বন্ধু, অনুজ, শিক্ষক এবং শুভার্থী এক হয়েছেন, কিছু করবেন বলে। আমি কখনো হতাশ আবার কখনো এদের তৎপরতায় আশা্ন্বিত হয়ে পড়ি।
আমার নিজের একটি পরিকল্পনা রয়েছে, তা সবাইকে জানানো প্রয়োজন বলে মনে করি। আমার বন্ধুদের অনেকেই জানেন যে, আমার একটি গল্পের বই বাজারে প্রকাশিত হয়েছিল গত ২০১২ সালে। আমি সেই বইটিতে আরও কয়েকটি গল্প সন্নিবেশিত করে একটি বর্ধিত সংস্করণ প্রকাশের কথা ভাবছি। যার বিনিময়ে সমাজের বিবেকবান মানুষ আমাকে একটু সাহায্য করতে পারবে। সকলে হাত বাড়িয়ে দেয়ায় হয়তো বা আমার জীবন প্রদীপ জ্বলবে ।
আমার বন্ধুদের কেউ যদি কোন পরিকল্পনা, তথ্য বা সংযোগ দিয়ে সাহায্য করতে চান তবে কৃতজ্ঞ থাকবো।
আমার মোবাইল নম্বর: ০১৭১৮৫৪২০৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



