somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হ্যাপীনেস ইজ........

০১ লা এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার কাছে সব সময় মনে হয় কাজ এক ধরণের নেশা। এমন এক নেশা যে নেশা করায় কেউ তাকে খারাপ বলেনা, উলটো ভালো বলে। মানে এটা একটা পজিটিভ নেশা। আমি দেখেছি আমার ডিপার্টমেন্টে যে শিক্ষকগুলো বিদেশী পি. এইচ. ডি ডিগ্রিধারী, তারা সারাটা সময় তার চেম্বারে বসে কাজ করে, দুপুরে যায় আবার সন্ধ্যায় এসে কাজ করে। অথচ তার অফিসের কোন কাজ না থাকলেও নিজের কাজ করেই যাচ্ছে, করেই যাচ্ছে! অবাক ব্যাপার। আর এক দল শিক্ষক যারা বাংলাদেশ থেকে ডিগ্রি করেছে, ফাঁকি দেয়ার সুযোগ পেয়েছে তারা আজীবন ফাঁকিই দিয়ে যাচ্ছে (বিঃ দঃ সব বাংলাদেশি ডিগ্রি ধারীই ফাঁকিবাজ না, তবে সব বিদেশী ডিগ্রিধাড়িই কর্মঠ!)। তবে আমি কাজের নেশায় পরতে চাই না, আবার ফাঁকিবাজ ও হতে চাই না। কারন একবার এই নেশায় পেলে ছাড়া কঠিন। গত ১৮/১৯ দিন ঘুম, ঠিক টাইম এ খাওয়া-দাওয়া সব ছেড়ে ডিপার্টমেন্টকে বাসা মনে করে কি কষ্টটাই না করেছি। তবু মনে হইছে আরও অনেক কাজ...... অনেকককক......! আজও সাত সকালে ঘুম থেকে উঠে ডিপার্টমেন্টে গিয়ে কাজ শুরু করতেই একটু কাজ থাকায় আবার রুম এ ফিরলাম। ইচ্ছা ছিল ৩০ মিন পর আবার ডিপার্টমেন্টে ফিরে যাবো। কিন্তু এসেই মনে হলো, থাকনা একটা দিন। আজ আর না যাই। এই ভেবে যখন স্থির হয়ে বসলাম, মনে পড়লো কত দিন কোথাও যাই না, বন্ধু-বান্ধব এর সাথে দেখা নাই, কেউ কোন কাজে বা ঘুরতে যেতে বললেও বলছি আর ৭ টা দিন যাক। সেই ৭ দিন আমার শেষ হচ্ছে না। জরুরী কাজে বাজারে যেতে বাধ্য হয়ে সেই সুযোগে এক দোকান থেকে কয়েকটা শাড়ী কিনেই মাসের শপিং শেষ করসি, দ্বিতীয় দোকান দেখার সুযোগ হয়নি। এক মাস হলো ক্লাস না থাকার পরও রংপুর থেকে একবার ঘুরে আসছি না। ৪ দিন হলো আমার সব চেয়ে প্রিয় এক মাত্র ভাগনা বাসায় এসেছে অথচ আমি বাসায় যাবো বলে বার বার বলছি আর দুই দিন পর, তার সাথে মজা করে খেলা হচ্ছে না। কত কিছু লেখতে মন চায়, সময় হয় না। টিভি নামক একটা জিনিস চোখের সামনে মাঝে মাঝে ছাড়া থাকলেও কি হয় দেখি না, শব্দও থাকে না অনেক সময়। কোন মুভি না, গান না, মজার কিছু খাওয়া না, রেস্টুরেন্ট কি জিনিস ভুলেই গিয়েছি। আজ রুম এ বসে যখন চায়ের কাপ হাতে নিয়ে টিভিটা দিয়ে রিলাক্সে বসেছিলাম, কি যে শান্তি লাগছিলো। মনে হলো জীবনে কাজ জরুরী। তবে এতটা বোধয় না যে নিজেকে ভুলে যাবো। আকিবকে দেখি সারা দিন বাস্ত, বাসায় বসেও যদি থাকে তাউ ল্যাপটপ আর ফোন। একটা মাত্র ছুটির দিনেও কি কি সব রিপোর্ট আর অফিসের ফোন নিয়ে বাস্ত। এর মাঝে অনেক কষ্টে খুঁজে বের করে নিজের জন্য কিছু সময়। বাস্ততা যেন পিছুই ছাড়ে না। আমি এই কয়দিন যখন কাজ করছি তখন মনে হইসে আরও করতে হবে, অনেক কিছু। কিন্তু আজ মনে হচ্ছে আমি আসলে অনেক কিছু করতে গিয়ে ভুলে গিয়েছিলাম নিজের অনেক কিছু। জীবনটাতো একবারই। এত ক্যারিয়ার, এত বাস্ততা, এত অস্থিরতা, এত দৌড়, অবশেষে নিজেকে ভুলে যাওয়া...... কি দরকার? জীবন তো একটাই। একটা জীবন, একটু না হয় সুখেই কাটালাম। তবে তা কাজ বাদ দিয়ে অলসতায় না, আবার কাজের নেশায় ও না। ৫০-৫০। অর্ধেকটা সময় জীবনের জন্য আর অর্ধেকটা কর্মের। সব কিছু নাহয় নাই হলো এক জীবনে পাওয়া, এর পরিবর্তে সুখটাকে পেলে...ভালোই তো!
ফেসবুক এর হ্যাপীনেস অ্যাপস এর মতো বলতে হয়......

সুখ হল অনেক অনেক মজা পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে।
সুখ হল অলস বিকেলে মধুর স্মৃতিগুলো মনে করা জীবন কে ঘিরে।
সুখ হল চায়ের কাপ হাতে টিভি দেখা প্রিয়জনের ভীরে।
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ১:৪৯
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×