somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দু'জনের কলহে তৃতীয় জনের লাভ হয়।

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


একদা এক বনে এক সিংহ ছিল। সেই বনে অন্যান্য প্রাণীরাও সুখে-শান্তিতে বসবাস করে। গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড গরম পড়ে। চারিদিকে কোথাও কোনো পানি নেই। নদী-নালা সব শুকিয়ে যায়। পানির অভাবে বনের গাছপালা সব শুকিয়ে যেতে থাকে। কোথাও কোথাও মাটি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। আকাশে মেঘের ছিটে ফোঁটা নেই। চারিদিকে গরম বাতাস আর কাঠফাটা রোদ।

বনের প্রাণীরা খাবার পানির সন্ধানে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে। বন থেকে বেশ খানিকটা দূরে একটা ছোট্ট ঝরণা। একটি নেকড়ে একদিন সেই ঝরণাটির সন্ধান পায়। অতএব তৃষ্ণার্ত নেকড়েটি মহা আনন্দে, সেই, ছোট্ট ঝরণার দিকে এগিয়ে যায়। ঝরণার কাছে গিয়ে সেই না পানি পান করবে তখন দেখে নেকড়েটি যেখানে দাঁড়িয়ে আছে তার বিপরীত দিকে একটু পেছনে একটা সিংহ এসে পানি পান করার জন্য দাঁড়িয়ে।

সিংহের খুব রাগ। সে হলো বনের রাজা। তার আগে একটা সামান্য নেকড়ে পানি পান করবে, কিছুতেই তা হয় না। এটা সিংহের স্ট্যাটাসে বাধে। তাই সিংহটি কিছুতেই তার আগে নেকড়েটিকে পানি পান করতে দেবে না। তাছাড়া বনের রাজা সে। রাজার সাথে প্রজার পানি পান কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না।

সুতরাং পানি পান করা নিয়ে সিংহ আর নেকড়ের মধ্যে প্রচন্ড বিবাদ শুরু হয়ে যায়। প্রথমে দু'জনের কথা কাটাকাটি, পরে দস্তুর মতো লড়াই বেঁধে যায়। সে এক মারাত্মক লড়াই। অনেকক্ষণ ধরে সে লড়াই চলে। কেউ কাউকে পরাজিত করতে পারে না। সিংহ আর নেকড়ে দু'জনে সমানে সমান। লড়াই করতে করতে দু'জন-ই এক সময় হাঁফিয়ে পড়ে।

তাই একটু হাঁফ ছাড়তে বিরতি দেয়। এমন সময় সিংহ আর নেকড়ে দু'জনই লক্ষ্য করে, তাদের থেকে একটু দূরে গাছের ডালে বসে একটা ক্ষুধার্ত শকুন অপেক্ষা করছে। লড়াই করতে করতে যখন মারা যাবে তখন শকুনটি এসে ছিঁড়ে ছিঁড়ে মাংস খাবে।

এই দেখে সিংহ আর নেকড়ে থমকে যায়। দু'জন-ই চিন্তা করে, শুধু বিবাদ করে শকুনের পেটে যাওয়ার চেয়ে বিবাদ না করাই ভালো। বিবাদ করে আমাদের দু'জনের কারোর-ই কোনো লাভ নেই। বরং আমরা মারা গেলে ঐ ক্ষুধার্ত শকুনের লাভ। সিংহ আর নেকড়ে একটু থেমে কি যেন ভাবতে লাগে।

শকুনটি দেখে ওদের দু'জনেরই মনে শুভ বুদ্ধির উদয় হয়। সিংহ আর নেকড়ে সিদ্ধান্ত নেয়, আর বিবাদ নয়। তাই সিংহ নেকড়ে প্রস্তাব দেয়.....
-ভাই, আমরা আর ঝগড়া-বিবাদ করবো না। মারামারি করে আমাদের মধ্যে যে কেউ মরলে ঐ ব্যাটা শকুনের লাভ। আমাদের মাংস সে মজা করে ঠুকরে ঠুকরে খাবে। সেটি আমরা হতে দেবো না। তার চেয়ে, ভাই নেকড়ে, এসো আমরা বিবাদ মিটিয়ে নিই। তুমি তো আগে ঝরণার পানি পান করতে এসেছো, তাই তুমি ভাই, আগে পান করো।

নেকড়েটি সিংসকে বলে......
- আপনি একজন দয়ালু রাজার মতোই আচরণ করলেন। তাই আপনার প্রতি আমার শ্রদ্ধা বেড়ে গেল। আপনি বনের রাজা। রাজাকে সম্মান জানাতে হয়। তাই আমার অনুরোধ রাজা হিসেবে আপনি আগে পানি পান করুন। তারপর আমি পান করবো।
নেকড়েটি এইভাবে বনের রাজাকে যখন বলে তখন শকুনটি তাদের সব কথা শুনে ভাবে, আর এখানে অপেক্ষা করে কোনো লাভ নেই, আজ তার কপাল মন্দ। এই ভেবে আর সেখানে সময় নষ্ট না করে শকুনটি উড়ে চলে যায়।
(ঈশপের গল্প)

শিক্ষা: দু'জনের কলহে তৃতীয় জনের লাভ হয়।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৮ সকাল ১১:১৭
৮টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সর্বজনীন পেনশন: সুবিধা বাড়ছে, ভবিষ্যৎ কতটা নিশ্চিত ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৪


সরকারের মনোভাব সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন। ফ্যাসিস্ট আমলের বিতর্কিত 'সর্বজনীন পেনশন' প্রকল্পটি বাতিল না করে বর্তমান সরকার উল্টো নতুন নতুন স্কিম চালু করছে এবং এর সুযোগ-সুবিধা দিন দিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ এর পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তান কি বাংলাদেশে জঙ্গি নেটওয়ার্ক গড়ছে?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫৪


পাকিস্তানের জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার সহযোগী সংগঠন জামাত-উদ-দাওয়ার কয়েকজন নেতা দাবি করেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। এই জঙ্গি সংগঠনটির নেতা সাইফুল্লাহ কাসুরি বলেন, তারা ১৯৭১ সালে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫১

অচেনা মাটিই আমার শেষ ঠিকানা !



পাথর বা গ্রানাইটে বেঁধো না তো আমার শেষ শয্যা,
নাম খোদাই করে রেখো না আমায়, দিতে একা থাকার লজ্জা।
চাই না উপাধি, চাই না তারিখ, ধূসর... ...বাকিটুকু পড়ুন

নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:৫২

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের দায় কার?

সমাজে যখন অপরাধ বাড়ে, পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়, সন্তান বাবা-মাকে সম্মান করে না, মানুষ মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারায়, দুর্নীতি-প্রতারণা-সহিংসতা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে- তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাতুকুতু'র কাহিনীনামা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭

কাতুর সাথে কুতু দিয়ে হচ্ছো পগারপাড়,
ফের যদি আসো কাছে বলবো- 'খবরদার!'
একটু হেসে, কাছে এসে, দিচ্ছো বুঝি কাশি,
ঝুলিয়ে দাড়ি, যাচ্ছো বাড়ি, যেথায় আছেন মাসি।

তোমার সাথে, দুধে-ভাতে, গপ্প করছি কত,
তবু কেন, ঘন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×