somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে ভালোবাসার কোনো কূল কিনারা নাই

১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক
২২ তম ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ রাত ন'টায়। ফুটবল বিশ্বকাপের ৯২ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয় বহুল এ আসরে আয়োজক দেশ কাতার যেমন আয়োজনের মাধ্যমে নানা চমক দেখিয়েছেন ঠিক তেমনি ভাবে আজ আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্সের মধ্যকার ফাইনাল এ ম্যাচ নিয়েও এদেশের ফুটবল প্রেমিকদের মধ্যে রয়েছে টানটান উত্তেজনা ও অপরিসীম কৌতুহল। ভিনদেশী ফুটবল দলের প্রতি এদেশের মানুষের আবেক অনূভুতি ও ভালোবাসা বিস্ময়কর পর্যায়ে।
ঢাকা থেকে ফিরছি। ফাইনাল খেলা দেখার দাওয়াত পরেছে কলিগ ইলিয়াস সাহেবের বাসায়। অন্তত ফাইনাল খেলা সব কলিগ একত্রে দেখতে ইলিয়াস ভাইয়ের আন্তরিকতা অগ্রাহ্য করাটা অান্তরিকহীন হয়ে যায় বলে ফেরার তাড়া ছিল খুব। নিউমার্কেটে যানজটে খেয়ে নেয় বেশকিছু সময়। পথে গাড়ি হয়ে যায় নষ্ট। অন্য গাড়ি ধরতে লাগে আরও কিছু সময়। এই দেশে কিছুতেই সময় মেপে চলা যায় না। ভেবে রাখি এক। পথে গিয়ে দেখি আরেক। তাই যথেষ্ট সময় নিয়ে বের হই। সড়ক ও কাজের গুরুত্ব বিবেচনায় কখনও কখনও আধা ঘন্টার পথ যেতে দুই ঘন্টারও অধিক সময় নিয়ে বের হই। আজও তাই হয়েছিলাম। কিন্তু তারপরও মনে হচ্ছিল ন'টার মধ্যে ইলিয়াস ভাইয়ের বাসায় গিয়ে টিভি সেটের সামনে বসতে পারবো না।
মুক্তারপুর ব্রীজের এপার ওপার দু'পাড়েই প্রজেক্টে সর্বসাধারণের খেলা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শত শত মানুষের চিৎকার চেচামেচি!
গাড়ি থেকে নামি। রাস্তা একপ্রকার ফাঁকা। দোকানপাট খোলা তবে তাদের কোনো ব্যস্ততা দেখলাম না। সবাই দোকানের টিভিতে খেলা দেখায় মনোযোগী। পাশের প্রজেক্টের পর্দায় চোখ যেতেই দেখি খেলোয়াড়েরা মাঠে নেমে পড়েছে। জাতীয় সংগীত গাইছে। ইলিয়াস ভাইয়ের বাসা আরও বেশখানিকটা পথ। রাস্তায় যে কজন রিকশাওয়ালা পাই সবাই যাবে না জানায়। কিছুদূর হেঁটে যাওয়ার পর দেখি এক মুরব্বি রিকশা নিয়ে আসছে। ভাড়া মিটিয়ে চড়ে বসি। একটু এগিয়ে যাওয়ার পরেই বলে, আইজকা মেসিই কাপ নিব।
কথা প্রসঙ্গে জানি, রিকশাওয়ালা কাকা আর্জেন্টিনা চেনে না। অন্যকোনো খেলোয়াড়ও চেনে না। শুধু চেনে মেসিকে।
ইলিয়াস ভাইয়ের গিয়ে যখন পৌঁছাই তখন খেলা পনের মিনিট হয়ে গেছে। উত্তেজনার চরম পর্যায়ে আঘাত করে খেলা শেষ হয়। মেসির হাতে ও মেসিদের হাতে ওঠে ২২ তম ফুটবল বিশ্বকাপ ট্রফি।
শুধু রিকশাওয়ালা কাকা এক নয় এদেশের প্রকৃত ফুটবল প্রেমিকদের আকাঙ্খা ছিল বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মেসির হাতে এবারের ট্রফি দেখার। আকাঙ্খা পূরণ হয়েছে। এ ট্রফি মেসি নামের একজন ফুটবল শিল্পীর সারাজীবনের সাধনার ফসল। নির্ঘুম স্বপ্ন ও সাফল্যের অনন্য উচ্চতা। ইতিহাসে অমরত্ব।

দুই
গতরাতে সমাপ্তি হয়েছে ২২ তম ফুটবল বিশ্বকাপ। চরম উত্তেজনায় ও উৎকণ্ঠার ফাইনাল ম্যাচে ২১ তম আসরের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে পরাজিত করে ৩৬ বছর পর বিশ্বক্রীড়ার সবচেয়ে জনপ্রিয় এ ট্রফি ঘরে তোলে ল্যাটিন আমেরিকার নন্দিত ফুটবল দল আর্জেন্টিনা।
হাটে ঘাটে মাঠে এককথায় চায়ের দোকান থেকে সচিবালয় পর্যন্ত আজ শুধু এ আলোচনা।
অফিসের বাহিরের চায়ের দোকানে গিয়েছি। এক ভদ্রলোক একলাই চায়ের দোকান গরম করে রেখেছে। ভদ্রলোককে আগেও কখনও দেখি নাই। প্রথম দেখায় চোখে চোখ পড়ে। এতেই সে আমাকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুরু করে। আপনিই বলেন, তোরা দুইটা গোল দিছোস, সময় আছে মাত্র আষ্ট মিনিট। এগার জনের বাইশটা পা থাকতে ক্যান হাতে বল লাগবো? যে প্লেয়ার পায়ে একটা বল লাগাইতে পারে নাই সে নাম্মাই হাতে লাগায় ফাও ফাও পেনাল্টি করলো। এইডা কি কোনো খেলা হইল?
ভদ্রলোকের কথায় আমি কিছু বলি না। চোখাচোখির পরিচয়ে আলাপ জমাতে ইচ্ছা করলো না। তবে লোকটা বলে যায়, দুইডা গোলের পর আর গোল দিতে যাইতে অইবে ক্যান? তুই লাক টাকার বল পাইলি আমরা কি পাইলাম? ফাও ফাও রাত জাগাইলি। গোল ওই দুইডা থাকলে তো আর রাত জাগন লাগতো না।

ভাবি, একেই হয়তো বলে সাধারণ মানুষের অসাধারণ ভালোবাসা। কোনো স্বার্থ নাই। কোনো ভাবে যোগাযোগ হওয়ার সম্ভাবনা নাই। শুধু ক্রীড়া নৈপুণ্যে মুগ্ধ হয়ে ভালোবাসা। যে ভালোবাসার কোনো কূল কিনারা নাই।

-সোহাগ তানভীর
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ডিসেম্বর, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:২০
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৪:২১

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
==========================
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি ও বাঙালির মুক্তির অগ্রদূত। ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় শেখ লুৎফর রহমান ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পিতা তোমার জন্মদিনে জানাই শুভেচ্ছা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৩৬


কার ডাকেতে টগবগিয়ে ফুটলো বাংলাদেশ
কার ডাকেতে বিজয় ছিনিয়ে  মুক্ত হলো স্বদেশ?

কার ডাকেতে সমবেত হয়েছিলো দীপ্ত তরুণেরা,
কার ডাকেতে দ্বিধা ভূলে একত্রিত  তারা?

কার ডাকেতে অসাম্প্রদায়িক হলো আমার প্রিয় দেশ
কার ডাকেতে স্বপ্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

তিনি বাংলাদেশী জাতির জনক

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



বঙ্গবন্ধৃ শেখ মজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মানে বাংলাদেশী নাগরিকগণের একাংশ। ১৯৭১ সালের পূর্বে বাংলাদেশী নামে কোন জাতি ছিল না। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের নাগরিকগণের একাংশ পশ্চিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×