somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিমানী ভালবাসা- ২ :(( :(( :((

১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অভিমানী ভালবাসা-১

অঙ্কটা কোনভাবেই মিলাতে পারছেনা অনিক। না এরকম কখনো হয়নি তার। গনিতে বরাবরই সে একশতে একশো। তাই টিউশনির বাজারে তার কাটতি ভালই। প্রতি মাসে সে টিউশনি করে যে টাকা আয় করে তাতে সে ঘরে পাঠিয়েও দিব্বি আরামসে মাস চালিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এভাবে যদি অঙ্ক না মিলে তাহলে টিউশনির বাজারে সেই কাটতি সংকোচিত হয়ে যাবে


স্টুডেন্ট এর বাসার কাজের মেয়েটি চা দিয়ে গেল। এই স্টুডেন্টকে অনিক পড়াচ্ছে বেশিদিন হয়নি। তবে আর বেশিদিন পড়াবে না ভাবছে। এর কয়েকটি কারনের মধ্যে একটি কারন হল বেলা বিস্কুট। একবার সে পর পর ৩দিন সেইম বেলা বিস্কুট দেয়ার পর একদিন প্লেট ভর্তি সেই বিস্কুট সে ব্যাগে করে নিয়ে গিয়েছিল যাতে আর দিতে না পারে। কিন্তু এর পরের দিন নতুন বেলা বিস্কুট এর আমদানি হল। বেলা বিস্কুট অনিকের একদম পছন্দ না। কিন্তু আজ বেলা বিস্কুট নয় তার ধ্যান অন্য কিছুতে। পাঁচ দিন ধরে রিনির কোন ফোন নেই। সাহস করে গত কাল একবার ফোন দিয়েছিল। কিন্তু রিনি ধরেনি। টেক্সটও দিয়েছিল। কোন উত্তর আসেনি।


বরাবরই রিনির মুখে অনুভূতিহীন অপবাদ শুনে আসা অনিক এর আজ কিছু ভাল লাগছেনা। তাহলে কি রিনি এতদিন মিথ্যা বলেছে ওকে অনুভূতিহীন বলে!! সে ভাবতে পারছেনা। না আজ অঙ্কটা আর মেলানো গেল না। স্টুডেন্ট কে অর্ধেকে রেখেই বেড়িয়ে পড়ল সে। আনমনা হয়ে হাঁটতে লাগলো। সে বুঝতে পারছেনা সে কোথায় যাবে। একবার ভাবল সে সাড়ে দশে চলে যাবে। মিরপুরের ওখানটায় রিনিদের বাসা। কিন্তু বাসা সে চিনে না। আবার ভাবে কেন যাবে!! গিয়েই বা কি বলবে!!!


‘শুনেন বাস্তবতা যেদিন দরজায় ধাক্কা দিবে সেদিন স্বপ্নে বাঁধা ঘর ক্ষণিকের মধ্যেই উবে যাবে’ রিনি একবার অনিককে এ কথা বলেছিল। অনিক রিনির কোন কথা ভুলে না যতই গম্ভীর ভাব ধরুক। কিন্তু আজ সব ফেলে অনিকের এ কথা মনে পড়ার কারন কি? হাঁটতে হাঁটতে টং দোকানে বসে টঙের মামাকে একটা সিগ্যারেট দিতে বলে অনিক। কি যেন কি ভেবে ধরাতে গিয়ে অনিক সিগ্যারেট উল্টো ধরিয়ে ফেলে। না হবে না, হচ্ছে না কিছুই ঠিক মত আজ। ঘোরের মধ্যে সময় যাচ্ছে অনিকের।


চোখ বন্ধ করে ঝিম ধরে কিছুক্ষন বসে রইল অনিক। হ্যাঁ অনিকের অনুভূতি আস্তে আস্তে জানান দিচ্ছে সে রিনিকে খুব মিস করছে, তার বুক ধড়ফড় করছে, সে স্থির হতে পারছেনা। ইচ্ছে করছে রিনিকে এক বার বুকে জড়িয়ে ধরতে। না আর দেরি করা যাবে না। বন্ধুরা বলেছে দেরি করলেই নাকি লেইট হয়ে যায়। এবার বুকের মধ্যে পুষে রাখা গোপন কথাটি গোপন না রাখার সিদ্ধান্ত নিল অনিক। না আর গম্ভীর ভাব না ধরারও সিদ্ধান্ত নিল সে। ঠিক সেই মুহূর্তে অনিকের ম্যাসেজ টোন বেজে উঠল।


দূরত্ব নাকি ভালবাসা বাড়ায়। দূরত্বই বুঝিয়ে দেয় ভালবাসার প্রবলতা। ভালবাসায় স্বার্থপরতা থাকা চায়, থাকা চায় হিংসা, থাকা চায় ডমিনেশান। এতে করে দুজন মানুষ নিজেদের ভালবাসাকে পরখ নিতে পারে। বুঝতে পারে ভালবাসার শক্তি। কিন্তু অবহেলা? ভালবাসায় অবহেলা থাকতে নেই। কারন অবহেলা ভালবাসায় পচন ধরায়। আর ভালবাসায় পচন ধরলে যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়না। আর মনের যন্ত্রণা অত্যন্ত কঠিন একটা অসুখ।


ও হ্যাঁ রিনির ফোন থেকে একটা টেক্সট পেয়েছে অনিক। যাতে লেখা-

“আজ আমার বিয়ে, দোয়া করবেন।”

বিদ্রঃ লেখা লিখেই পরে যখন পড়ি, বুঝতে পারি খুব নিম্ন মানের লেখা। কিন্তু কি করব সামুর বড় বড় গল্পকারদের মত তো আর আমার মাথা নয়। তারপরও মাথায় যা আসে লিখে ফেলি।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৯
৯টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাষ্ট্রভাষা নিয়ে জিন্নাহর সেই ভাষণ। কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


জিন্নাহর সেই ভাষণ
সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে ভাষা আন্দোলন নিয়ে জিন্নাহর একটি বক্তব্য যাতে দাবী করা হচ্ছে তিনি নাকি আমাদের ওপর উর্দু যেভাবে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে এতকাল “প্রচার”... ...বাকিটুকু পড়ুন

গালিব সাহেব, মিথ্যারও তো একটু সামাজিক মর্যাদা আছে!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩



মির্জা গালিব বলেছেন -
“পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিথ্যা বলা হয় ধর্মগ্রন্থ ছুঁয়ে, যেটা আদালতে। আর সবচেয়ে বেশি সত্য বলা হয় মদ ছুঁয়ে, যেটা পানশালা।”

গালিব সাহেব, আপনার কথায় যুক্তি আছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

লাউঞ্জ এন্ড ফুড রিভিউ; দ্যা সেন্স

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৪২


নিয়মিত-অনিয়মিত গত এক যুগ ধরে ভ্রমণ করছি এবং প্রায়োরিটি পাস দিয়ে বিভিন্ন দেশের এয়ারপোর্টে লাউঞ্জ ব্যবহার করছি প্রায় ৪ বছর ধরে। দীর্ঘ ফ্লাইট, লং ট্রানজিটের মধ্যে এয়ারপোর্টে ফ্রিতে দৃষ্টিনন্দন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

অধরা বালিকা

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:১৮




লোভনিয়া তুমি এক অধরা বালিকা
ঘুমগুলো কেড়ে নাও ধুম করে তুমি
অথচ আমার জন্য তুমি মরুভূমি
পর ঘরে মহারানি হয়ে থাক চাই।
পরের হৃদয় রাজ্যে থাকবে মালিকা
তেমনটা আশাকরি। তাতেই যে আমি
অনেক প্রশান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

যেখানে খোদা নেই; সেই ঠিকানার সন্ধানে( একটি দীর্ঘ সুফি দার্শনিক আত্মজিজ্ঞাসা)

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


প্রথমেই জানাই আমার এই লেখাটি ব্লগার মরুভুমির জলদস্যুর লেখা “শরাব পিনে দে”
হতে উৎসারিত, তাই তাঁর প্রতি জানাই কৃতজ্ঞতা ।

সেই লেখাটিতে তিনি মির্জা গালিব এর বিখ্যাত শেরটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×