অভিমানী ভালবাসা-১
অঙ্কটা কোনভাবেই মিলাতে পারছেনা অনিক। না এরকম কখনো হয়নি তার। গনিতে বরাবরই সে একশতে একশো। তাই টিউশনির বাজারে তার কাটতি ভালই। প্রতি মাসে সে টিউশনি করে যে টাকা আয় করে তাতে সে ঘরে পাঠিয়েও দিব্বি আরামসে মাস চালিয়ে দিতে পারে। কিন্তু এভাবে যদি অঙ্ক না মিলে তাহলে টিউশনির বাজারে সেই কাটতি সংকোচিত হয়ে যাবে
স্টুডেন্ট এর বাসার কাজের মেয়েটি চা দিয়ে গেল। এই স্টুডেন্টকে অনিক পড়াচ্ছে বেশিদিন হয়নি। তবে আর বেশিদিন পড়াবে না ভাবছে। এর কয়েকটি কারনের মধ্যে একটি কারন হল বেলা বিস্কুট। একবার সে পর পর ৩দিন সেইম বেলা বিস্কুট দেয়ার পর একদিন প্লেট ভর্তি সেই বিস্কুট সে ব্যাগে করে নিয়ে গিয়েছিল যাতে আর দিতে না পারে। কিন্তু এর পরের দিন নতুন বেলা বিস্কুট এর আমদানি হল। বেলা বিস্কুট অনিকের একদম পছন্দ না। কিন্তু আজ বেলা বিস্কুট নয় তার ধ্যান অন্য কিছুতে। পাঁচ দিন ধরে রিনির কোন ফোন নেই। সাহস করে গত কাল একবার ফোন দিয়েছিল। কিন্তু রিনি ধরেনি। টেক্সটও দিয়েছিল। কোন উত্তর আসেনি।
বরাবরই রিনির মুখে অনুভূতিহীন অপবাদ শুনে আসা অনিক এর আজ কিছু ভাল লাগছেনা। তাহলে কি রিনি এতদিন মিথ্যা বলেছে ওকে অনুভূতিহীন বলে!! সে ভাবতে পারছেনা। না আজ অঙ্কটা আর মেলানো গেল না। স্টুডেন্ট কে অর্ধেকে রেখেই বেড়িয়ে পড়ল সে। আনমনা হয়ে হাঁটতে লাগলো। সে বুঝতে পারছেনা সে কোথায় যাবে। একবার ভাবল সে সাড়ে দশে চলে যাবে। মিরপুরের ওখানটায় রিনিদের বাসা। কিন্তু বাসা সে চিনে না। আবার ভাবে কেন যাবে!! গিয়েই বা কি বলবে!!!
‘শুনেন বাস্তবতা যেদিন দরজায় ধাক্কা দিবে সেদিন স্বপ্নে বাঁধা ঘর ক্ষণিকের মধ্যেই উবে যাবে’ রিনি একবার অনিককে এ কথা বলেছিল। অনিক রিনির কোন কথা ভুলে না যতই গম্ভীর ভাব ধরুক। কিন্তু আজ সব ফেলে অনিকের এ কথা মনে পড়ার কারন কি? হাঁটতে হাঁটতে টং দোকানে বসে টঙের মামাকে একটা সিগ্যারেট দিতে বলে অনিক। কি যেন কি ভেবে ধরাতে গিয়ে অনিক সিগ্যারেট উল্টো ধরিয়ে ফেলে। না হবে না, হচ্ছে না কিছুই ঠিক মত আজ। ঘোরের মধ্যে সময় যাচ্ছে অনিকের।
চোখ বন্ধ করে ঝিম ধরে কিছুক্ষন বসে রইল অনিক। হ্যাঁ অনিকের অনুভূতি আস্তে আস্তে জানান দিচ্ছে সে রিনিকে খুব মিস করছে, তার বুক ধড়ফড় করছে, সে স্থির হতে পারছেনা। ইচ্ছে করছে রিনিকে এক বার বুকে জড়িয়ে ধরতে। না আর দেরি করা যাবে না। বন্ধুরা বলেছে দেরি করলেই নাকি লেইট হয়ে যায়। এবার বুকের মধ্যে পুষে রাখা গোপন কথাটি গোপন না রাখার সিদ্ধান্ত নিল অনিক। না আর গম্ভীর ভাব না ধরারও সিদ্ধান্ত নিল সে। ঠিক সেই মুহূর্তে অনিকের ম্যাসেজ টোন বেজে উঠল।
দূরত্ব নাকি ভালবাসা বাড়ায়। দূরত্বই বুঝিয়ে দেয় ভালবাসার প্রবলতা। ভালবাসায় স্বার্থপরতা থাকা চায়, থাকা চায় হিংসা, থাকা চায় ডমিনেশান। এতে করে দুজন মানুষ নিজেদের ভালবাসাকে পরখ নিতে পারে। বুঝতে পারে ভালবাসার শক্তি। কিন্তু অবহেলা? ভালবাসায় অবহেলা থাকতে নেই। কারন অবহেলা ভালবাসায় পচন ধরায়। আর ভালবাসায় পচন ধরলে যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়না। আর মনের যন্ত্রণা অত্যন্ত কঠিন একটা অসুখ।
ও হ্যাঁ রিনির ফোন থেকে একটা টেক্সট পেয়েছে অনিক। যাতে লেখা-
“আজ আমার বিয়ে, দোয়া করবেন।”
বিদ্রঃ লেখা লিখেই পরে যখন পড়ি, বুঝতে পারি খুব নিম্ন মানের লেখা। কিন্তু কি করব সামুর বড় বড় গল্পকারদের মত তো আর আমার মাথা নয়। তারপরও মাথায় যা আসে লিখে ফেলি।
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:৫৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




