আমার সহজ সরল বন্ধু রাকু একটু আজব কিসিমের। ওর ধারনা দুনিয়ার সব বিষয় সম্পর্কে আমার গিয়ানের পরিধি। তাই যে কোন প্রশ্ন মাথায় আসলেই সে আমার কাছে আসত। তারে কখনো বুঝাতে পারিনি আমারও নলেজ তোর মত হাঁটুর সমান। তবে সাধারণ গিয়ানে আমার বন্ধু রাকু বরাবরই অসাধারণ।
স্কুলে পড়ার সময় একবার মনে আছে সে আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল আম্রিকার পররাষ্ট্র মন্ত্রীর (সেক্রেটারি অব স্তেইট) নাম কি। তাকে বলেছিলাম কনডুলিজা রাইজ। এক ঘণ্টা পরে সে আমাকে এসে বলে “দোস্ত তার নাম কনডম না কি যেন বলসিলি ভুলে গেসি, আবার বল”।
একবার কোন এক ছোট্ট চাকরীর ইন্টার্ভিউ দিতে যাবে তাই তার কিছু জেনারেল নলেজ শেখা দরকার। দোস্ত আমাকে বলল “দোস্ত যদি ইন্টার্ভিউ বোর্ড এ কোন প্রশ্ন না পারি কি বলব?”। বললাম “বলবি সরি স্যার আমার অটাতে ডেপ্ত নলেজ নেই ওর আই ওয়িল গেট ব্যাক টু ইউ লেটার। আর একবারে যদি না পারিস কুইজ প্রোগ্রামের মত বলে দিবি পাস”। পাস কথাটা স্রেফ মজা করে বলেছিলাম।
তবে সেইবার পরীক্ষা দিয়ে এসে তার মুখটা দেখার মত ছিল না। জিগাইলাম “সমস্যা কি?”। দোস্ত বলিল “ইন্টার্ভিউ বোর্ড থেকে অপমান করে বের করে দিসে”।
বললাম “কেন কেন?”
“আসলে বোর্ড এ ঢুকে আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। মুখ দিয়ে কোন কথায় বের হচ্ছিল না। যেইটা জিগায় বলি পাস। দুয়েকটা পাস বলার পর একজনে জিগাইল হোয়াটস ইউর ফাদার’স নেইম? সাহস করে না বুঝেই তাড়াহুরু করে বললাম স্যার অটাতে আমার ডেপ্ত নলেজ নেই আই ওয়িল গেট ব্যাক টু ইউ লেটার। এরপর ঝারসে”।
আমি জানতাম ষে এরকম কিছু করে আসবে। কারন তাকে আমি কিছু বললে সেটাই সে ধর্ম ধইরা রাখে। জাস্তিফাই করেনা। একবার ক্লাস সেভেনে বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় আমাকে পিছন থেকে খুব ডিস্টার্ব দিচ্ছিল। হঠাৎ আমাকে জিজ্ঞেস করল “দোস্ত পদ কাকে বলে”।
এমন সময় ইনভিজিলেটর স্যার আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে বিধায় চোখে স্যারকে দেখিয়ে সাবধান হাওয়ার ইশারা করলাম। এরপর দেখলাম সে খুশিমনে লিখতে লাগলো। পরীক্ষার পর এসে বলল “দোস্ত একটা সংজ্ঞা তো এটলিস্ট হবে”। বললাম “কোনটা”। সে বলল “ওই যে তুই দেখিয়ে দিলি পদ কাকে বলে”। কিন্তু আমি কখন ওকে দেখিয়ে দিলাম পদ কাকে বলে জিজ্ঞেস করতেই সে বলল “ওই যে তোকে জিজ্ঞেসের পর স্যার যখন হেঁটে যাচ্ছিল স্যার এর হাঁটার দিকে ইশারা করলিনা, তখন বুঝে নিসি যে আমরা যে রাস্তা দিয়া হাঁটিয়া যায় তাকে পদ বলে”। সেইবার এই ‘পদ’ যে সেই ‘পথ’ না তা আর তারে বুঝানোর দুঃসাহস দেখায়নি।
ব্যাকরণ ক্লাসে তার আরেকটা প্রবলেম ছিল গুরুচণ্ডালী দোষ। তারে সেন স্যার শেষ পর্যন্ত শিখাইতে পারে নাই সাধু ভাষা নাটক সংলাপে ব্যবহার করা যায়না কিন্তু চলিত ভাষা যায়। এর জন্য সেন স্যারের কাছে সে কম মার খেত না। একবার স্যার এবং সে একই বাসে করে কোথাও যাচ্ছিল তবে ভিড়ের মধ্যে বাসে সামনে পিছনে একটু দূরে ছিল দুজন। হঠাৎ স্যার কে দেখে সে বাসেই চিৎকার দিতে লাগলো “মহাশয়, অর্থের ব্যাগ্র খানা লোপাট করিতে লাগিল”। স্যার কোনভাবেই বুঝে উঠতে পারলনা। পরের দিন ক্লাসে এসে স্যার কে দেখে সে হেসে হেসে বলল “স্যার আপনার মানি ব্যাগ পকেট মার হওয়ার সময় আমি বলেছিলাম কিন্তু আপনি খেয়াল করেননি”। এরপর স্যার পকেট মারের উপর সব রাগ তার উপর ঝারসিল।
এখন আমার সহজ সরল বন্ধুটি এলাকায় একটা মুদি দোকান দিয়ে খুব ভালই আছে। শুনলাম মনস্থির করেছে বিয়ে করবে। এখন বিয়ের রাতে বিড়াল কিভাবে মারতে হয় সেটা আমাকে না জিগাইলেই হয়। জিগাইলেই কমু-
টুট টুট টুট…………………………….
বিদ্রঃ পোস্টটিতে আমি আমার বন্ধুকে অপমান বা এরকম কিছু করিনি। কারন সে নিজেও জানে সে এরকম।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৫ রাত ৮:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


