somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমার ব্লগে ঘুরতে আসায় আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি । আশা করছি আমার লেখালেখি, ফটোগ্রাফি আপনার ভালো লাগবে । ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন— https://www.facebook.com/SA.Sabbir666

একজন কবি হতে চাওয়া মানুষের জীবন-দর্শন | সাব্বির সাকিলের জীবন-দর্শন—০১

০৮ ই জুন, ২০২১ রাত ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি যেখানেই যাই সেখান থেকেই নতুন কিছু জানার চেষ্টা করি‚ শেখার চেষ্টা করি‚ উপলব্ধি করার চেষ্টা করি । বিভিন্ন অঞ্চলের জনপদের মানুষ‚ রাস্তা‚ হাট-বাজার নতুন কিছু শিক্ষা দেয় আমাকে । শুধু এদেশের নয় মাঝেমধ্যে অনেক ভিনদেশীর ফেসবুক প্রোফাইলে তাঁদের জীবনযাত্রা‚ ভাবনা-চিন্তা‚ প্রণয়‚ দর্শন দেখি । ইউটিউবে জীবনযাপন‚ বাজার‚ লাইফস্টাইল দেখি ।

সাধারণত হাট-বাজারের দৃশ্য আমাকে অনেককিছু ভাবায় । সবজি বিক্রেতা‚ ফল বিক্রেতা‚ ডিম-মাছ-মাংস বিক্রেতা‚ মলম বিক্রেতা‚ আংটি বিক্রেতা‚ যৌনবর্ধক ঔষধ বিক্রেতা‚ সাপের খেলা‚ গরু-ছাগল বিক্রেতা‚ সদাই বিক্রেতা‚ দই বিক্রেতা‚ তেল-সাবান বিক্রেতা‚ পেঁয়াজ-মরিচ-আদা-রসুন বিক্রেতা‚ মাটির তৈজসপত্র বিক্রেতা । কিভাবে হাটে-বাজারে বিপনন চলছে ।(হাটের এই লাইনগুলো যখন লিখছি তখন আমার মনে পড়ছে আমার বগুড়ার বনানী হাটের কথা‚ আমি চোখ বন্ধ করে সব দোকানগুলোকে যেন কবজা করে ফেলেছি । কোথায় কিসের দোকান বসে তা নিমিষেই বলে দিতে পারি ।)

হাটে কত মানুষ‚ কত ছোট শিশুরা আসে । মিষ্টির দোকানে ভিড় জমায় । দরিদ্ররাও চেষ্টা করে সামর্থ্য অনুযায়ী সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে কিনে নিয়ে যাওয়ার । হরদম মানুষের দরদাম চলছে । কার কতরকম কথা । যেন হ-য-ব-র-ল । আমি যেন কথাগুলোর মধ্যে মোৎজার্টের সুর শুনতে পাচ্ছি ।

আমি যখন রাজশাহীতে ট্রেনিং এ গিয়েছিলাম তখন একা একাই বের হয়ে পড়তাম শহরের অজানা রাস্তায় কানে থাকতো ইয়ারফোন । গানের সাথে সাথে মাইলের পর মাইল হেঁটে গেছি । হাটে-বাজারে গেছি । সেখানে নতুনকিছু দেখলে পকেটে টাকা থাকলে কিনে এনেছি ।
মাঝরাতে ছাদে গিয়ে আকাশ দেখেছি‚ জোছনা দেখেছি‚ তারা দেখেছি ।

এখনও দেখে চলেছি । মাঝরাতে শহরের ব্যস্ততম রাস্তাগুলোতে গাড়ির সংখ্যা কমে আসে । তখন ছাদে গিয়ে রিলিফ ফিল হয় । বিড়বিড় করে জীবনানন্দ দাশ‚ মহাদের সাহা‚ রবার্ট ফ্রস্ট‚ উইলিয়াম ওর্সওথের কবিতা পড়ি । সুবিশাল আকাশ দেখি । আকাশের মেঘগুলো একস্থান থেকে অন্যস্থানে সরে যায় । পূর্ণিমা রাতে জোছনার জৌলুশ ঝড়ে পড়ে পৃথিবীতে । কখনও মেঘ এসে ঢেকে যায়‚ আবার মেঘ সরে যায়‚ আবার জোছনার মুখ ভেসে আসে পৃথিবীতে । নক্ষত্রগুলো ছুটে যায় কোথায় যে । একপাশ থেকে নক্ষত্র গুনতে শুরু করি‚ আবার দিক-বিদিক হই‚ হিসেবে গড়মিল হয়ে যায় । রাতের মৃদু বাতাসে গায়ের লোম শিউরে ওঠে । অদ্ভুত এক শিহরণ জাগিয়ে দিয়ে যায় । তখন জীবনটাকে অন্যরকম মনে হয় ।

তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে মনেহয় কোটি কোটি বছরের মহাকাল পেরিয়ে যাচ্ছে । এত সুন্দর পৃথিবী থেকে আমি খুব তাড়াতাড়ি যেন মরে যাচ্ছি । আমার আশা‚ স্বপ্ন‚ ভালোবাসা‚ পূর্ণতার সমাপ্তি ঘটতে চলেছে । হাসফাস লাগে । নিজেকে ক্ষুদ্র একটা পরজীবি মনেহয় । পৃথিবীতে কোন এক আহবানে আমি এসেছিলাম । জীবনের মানে খুঁজি । কারোর ভালোবাসা খুঁজি । আশা-ভরসা-বিশ্বাসের হাত খুঁজি ।

আমি যেন কিছুই পাইনা । আমার যেন কিছু পাওয়া হয়না । নিস্তব্ধতা বিরাজ করে চারপাশে । আচমকা ঘুম ভেঙে গেলে ওয়াটার বোতল খুঁজি । আমার দীর্ঘশ্বাসে ঘরে ধূয়ার কুন্ডলী তৈরি হয় । আমি যেন অন্ধকারে ডুবে মরে যাই । রাত কেটে ভোর হয়ে যায় । ঘোর অন্ধকার থেকে সকালের আলো ফুটতে শুরু করে । মেসের বুয়া রান্নাঘরে তৈজসপত্রের ঝনঝনানির সুর সৃষ্টি করে ।

রাতগুলো কত সুন্দর । কত দুঃখের । কত না পাওয়ার । কত বিভীষিকার । তবুও রাত ভালো লাগে । রাত জাগতে জাগতে কোটি কোটি বছর পেরিয়ে যায় আমার ।



সাব্বির আহমেদ সাকিল
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ‚ গ্রীষ্মকাল | মঙ্গলবার | ০৮ জুন ২০২১ ইং | রাত্রি ১০ টা ৪৪ মিনিট | ধানমন্ডি এলাকা‚ ঢাকা

#সাব্বিরসাকিল #জীবনেরকথা #সাব্বিরেরকথা #জীবন #দর্শন #রাত #রাতেরকথা
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়ের বুকের ওমে শেষ ঘুম

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা মে, ২০২৬ সকাল ১০:৪৯



আমার নাম তৃশান। সবে তো স্কুলে যাওয়া শুরু করেছি। আজ আমার খুব আনন্দ! বাবা-মা, দিদি আর দাদু-দিদুন মিলে আমরা মস্ত বড় একটা নৌকায় ঘুরছি। দিদি বলছিল এই জায়গাটার নাম জবলপুর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হিন্দু মুসলমান ভুলে গিয়ে, আমরা সবাই মানুষ হই

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা মে, ২০২৬ দুপুর ১:৫৭

আমি জন্মগত ভাবে মুসলমান।
অবশ্য ধর্মীয় নিয়ম কানুন কিছুই মানতে পারি না। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ। এখন তো আর এটা ফকির লালনের যুগ না। মানবিক এবং সচেতন মানুষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয় একটি নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে হত্যার... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্বনির্ভর অর্থনীতি থেকে ঋণনির্ভর, আমদানিনির্ভর, পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিনত হতে যাচ্ছি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪




মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের কাছে নতজানু হয়ে যে রাষ্ট্রগুলো নিজের অর্থনীতি, কৃষি আর ভবিষ্যৎ বিক্রি করে দেয়- তার পরিণতি কী, তার জীবন্ত উদাহরণ পাকিস্তান। কোটি কোটি মানুষকে ভিক্ষুক বানানোর সেই পথেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এরা খুবই বিপদজনক

লিখেছেন শ্রাবণ আহমেদ, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ১১:০১

যে তোমার সাফল্য দেখে হিংসে করে,
যে তোমার বিপদ দেখে খুশি হয়,
যে তোমার সামনে এক আর পেছনে আরেক।
তাকে তোমার গোপন কথা কিংবা তোমার কোনো পরিকল্পনার কথা বলতে যেও না।
সবসময় তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×