somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমি এক ক্লান্ত প্রাণ, যে জীবনের উত্তাল ও সফেন সমুদ্রের বুকে যুগ যুগ ধরে পথ হেঁটে চলেছে। চারপাশের চতুর পৃথিবীর কোলাহলে যখন আমি অবসন্ন, তখন প্রকৃতির সুদূর অন্ধকার আর নির্জনতার মাঝেই আমি আমার শান্তি খুঁজে পাই । ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন— https

প্রেম-ভালোবাসা-বিয়ে সম্পর্কিত নিজস্ব একটি আলাপ

০৯ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ৩:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘ভালোবাসা’ অনেক জটিল একটা বিষয় । আমাদের সমগ্র জীবনে বহুবার মনেহয় আমি তাকে ভালোবাসি । এই সংখ্যাটা এক হয়‚ একাধিক হয়; কিন্তু বাস্তবিক অর্থে মানুষ কিন্তু সেই একজনকেই চায় । মনের মানুষটিকেই চায় । লালন যেমন সারাটিজীবন ধরে খুঁজে গেছেন‚ “মিলন হবে কত দিনে আমার মনের মানুষেরই সনে!”

আমাদের দেশের প্রচলিত অধিকাংশ ‘প্রেম এবং ভালোবাসা’ দু’টোই হাস্যরত্নক বিষয় লাগে আমার কাছে । তাঁর কারণ বলছি— কোনো ছেলের কোনো মেয়েকে পছন্দ হলে সে চেষ্টা করে মেয়েটাকে বাগে আনতে বা পটাতে । এই বাগে/পটাতে চাইলে স্বভাবতই প্রচুর মিথ্যে কথা বলতে হয় । নানা রঙিন স্বপ্ন দেখাতে হয় । কারণ এটা না করলে মেয়েটি ধরা দিবেনা । যেন এটি একটি বড়শি দিয়ে মাছ ধরার বিষয়!

আবার এই পটানোর ক্ষেত্রে অধিকাংশ মেয়ের লক্ষ্য থাকে ছেলেটির অর্থবিত্ত বেশি আছে কি-না‚ তাঁর ক্যারিয়ার সুউচ্চ কি-না । যখন এই হিসেবনিকেশ আশানুরূপ হয় তখন মেয়েটি রাজি হয়ে যায় । ছেলেটির মিথ্যার প্রভাবে মেয়েটিকে একটি মাকড়সার জালের মতো বিস্তার করে ফেলে । অন্যদিকে মেয়েটি ভাবে আরে সমস্যা নাই তো ওঁর তো টাকা আছে । আমাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবেনা । পুরা লাইফ সেটল!

এই যে মিথ্যা দিয়ে প্রেম শুরু হয়‚ তারপর দু’জন দু’জনকে বলে ‘ভালোবাসি’ । অতঃপর অনেক সম্পর্কের বিয়েও হয় । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রেমের বিয়ে এই সমাজে টেকেনা । কেনো টেকেনা তা ব্যাখা করছি— প্রথমেই মনে রাখা দরকার মিথ্যার রাজ্যে কখনও কোনো সম্পর্ক টেকেনা । সেটা ভালোবাসা হোক কিংবা অন্যসব সম্পর্কও । ঐ যে বিয়ের আগে ছেলেটি অনর্গল মিথ্যে বলে আর মেয়েটি অর্থবিষ্টের মোহে পড়ে সম্পর্কে জড়ায় এটাই মূল কারণ । কারণ বিয়ের পর আস্তে আস্তে দু’জন মানুষের মধ্যে তেমন কোনো বিষয় অজানা থাকেনা । বিয়ের পর তাঁর আসল রূপ বের হয়ে আসে ।

মানুষটি কতটা সাধু কতটা ভণ্ড তা বের হয়ে আসে । তখন ছেলেটি দোষ দেয় মেয়েটির লোভকে আর মেয়েটি দোষ দেয় ছেলেটির মিথ্যা আশ্বাসকে । পরিশেষে সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় । বিচ্ছেদ হয় সম্পর্কের ।

আমি এই সমাজের খুব সীমিত কিছু ভালোবাসার সম্পর্ক দেখেছি । যেটাকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসা বলে । কিছু দেখেছি প্রেম-ভালোবাসা করে বিয়ের সম্পর্ক আবার কিছু দেখেছি বিয়ের পরে ভালোবাসার সম্পর্ক । কি দারুণ তাঁদের সংসার । কত মহব্বত‚ কত শ্রদ্ধা‚ কত মর্যাদা‚ কত প্রাধান্য‚ কত মায়া‚ কত যত্ন‚ কত দায়িত্ববোধ‚ কত অনুগত্য‚ কত ভালোবাসা । এরকম সম্পর্ক দেখলে অনেক ভালো লাগে ।

আর অধিকাংশ যে প্রেম‚ ভালোবাসা‚ বিয়ের সম্পর্ক দেখেছি তাঁর বেশিরভাগই ভণ্ডামি । প্রেম করে সেটাতে ভণ্ডামি‚ বিয়ে করে ভণ্ডামি । দু’জনের মধ্যে পারস্পরিক মেলাবন্ধন‚ শ্রদ্ধাবোধ‚ অনুগত্যবোধ নেই । মিছেমিছি একটা সম্পর্ককে মানুষ টেনে নিয়ে যায় বছরের পর বছর ।

এ সমাজ মানেই কাউকে ভালোবাসা যাবেনা‚ বিয়ে হলে আবার বিচ্ছেদ হওয়া যাবেনা । মানে যত কুসংস্কার আর অজ্ঞতায় ঠাসা তা এ সমাজের ভীতকে একটু চেষ্টা করে দেখলেই জানা যায় । কতটা অনুর্বর কাঠামো‚ যুক্তির মধ্যে দিয়ে এঁরা মহাকালকে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে ।

তাহলে ‘ভালোবাসা’ কখন প্রকাশ পায়‚ কখন ‘ভালোবাসা’ হয় । এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খুঁজতে কত মানুষ মরেছে-মরছে ।

আমাদের মধ্যে কখন ভালোবাসার সৃষ্টি হয় তা অধিকাংশের ক্ষেত্রেই নিজের কাছেই অজানা থেকে যায় । কাউকে পটিয়ে প্রেম করা‚ রাত-বিরেতে কথা বলা‚ রেষ্টুরেন্টে খেতে যাওয়া‚ পার্কে খুনসুটি করা; তবুও কি তাকে ভালোবাসি । কখনও কি শূন্য মনেহয়‚ অস্থির লাগে নিজের কাছে । দেখা যায় প্রেমিকা অনেকাংশে অস্থিরতা কিঞ্চিৎ কমায় আবার প্রেমিকাকে সবকিছু বলাও যায়না । কিন্তু এমন কেউ থাকে যাকে সবকিছু বলা যায়‚ যে মনকে প্রশান্ত করে দেয়‚ অনুপ্রেরণা দেয়; যেটা বেশিরভাগ প্রেমিকা পারেনা । তবে কি সেই মানুষটিকেই ‘ভালোবাসি না?’ তাকেই জীবনভর পেতে চাইনা?’

জীবন একটা বিশাল বড় পাথর । এটাকে একা একা বহন করে নিয়ে যাওয়া অনেক কঠিন । এজন্য আরেকজনের দরকার হয় । যাকে নিঃসংকোচে বলা যায়‚ “হেই‚ আপনি/তুমি/তুই কি আমার এই পাথরটাকে বহন করতে সাহায্য করতে পারবে?” যাঁরা নির্দ্বিধায় রাজি হয় তাঁরা ভালোবাসে । ভালোবাসা থাকলে পরস্পর শ্রদ্ধাবোধ‚ মনের মিল যখন থাকে তখন সবই করা যায় ।

আমরা অনেকসময় বলিনা‚ “তোমাকে নিয়ে গাছতলায় থাকবো‚ ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচবো” । দু’জনের মধ্যে ভালোবাসা থাকলে আসলেই এটি সম্ভব । যদি দু’জনের পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়াটা এককভাবে চলে । পৃথিবীর কত কত প্রেমিক-প্রেমিকা জীবন দিয়েছে শুধুমাত্র ভালোবাসে বলে‚ তবে এটি কি তাঁর থেকেও অসম্ভব যে একসাথে বাঁচা যাবেনা । যায়...আসলেই যায় তয় অধিকাংশের ক্ষেত্রে কিন্তু যায়না । দু-চারজনের মধ্যে যায় ।

সৃষ্টিকর্তার প্রতি বিশ্বাস থাকলে এটিও মানুষকে মানতে হয় যে জীবনে দুঃখ‚ কষ্ট‚ দূর্দশা থাকবে-আসবে আবার চলেও যাবে । এই পৃথিবীর কতজন মানুষ আছে যাঁদের দুঃখ‚ কষ্ট‚ জরা‚ দূর্দশা নেই? সার্ভে করলে হয়তোবা মিলবে তবে সেটি খুবই নগণ্য! এই যে দেখুননা আপনার গ্রাম/শহরের কতজন মানুষ‚ কত পেশার মানুষ‚ কত রকমের বাড়ি । সবাই কি সমানে সমান? অধিকাংশের জীবনেইতো দুঃখ‚ কষ্ট‚ জরা‚ দূর্দশা লেগেই আছে-থাকে ।

তবুও আমরা এই সংখ্যাগরিষ্টতা‚ অধিকাংশকে মেনে নিতে পারছিনা । যেকারণে আমরা অস্থির হয়ে পড়েছি । যান্ত্রিকতা‚ লোভ‚ অভিলাষ আমাদের ভালোবাসার সেই সত্তাকে বারবার কুঠারঘাত করছে । ফলে সারাজীবন অস্থিরতা‚ অসুখী হয়েই কাটিয়ে দিচ্ছি ।

সবার জীবনেই একটা মানুষের দরকার হয় । আপনার দাদার হয়েছে‚ দাদার দাদার হয়েছে‚ তাঁর দাদার দাদার হয়েছে‚ আপনার বাবার হয়েছে আপনাদের অনেকেরই হয়েছে কারোর হবে । তবে সেই মানুষটি কেমন হবে‚ কেমন চাই সেটা শুধু আপন মন-ই জানে । হুমায়ূন আহমেদের ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমাতে বারী সিদ্দিকীর একটি গান ছিলো‚ “কেহ গরীব অর্থের জন্য‚ কেহ গরীব রূপে । এই দুনিয়ার সবাই গরীব কান্দে চুপে চুপে রে কান্দে চুপে চুপে ।”

ভালোবাসা হতে হয় স্বচ্ছ কাচের মতো । যেন একপাশের মানুষটি অন্যপাশের মানুষটিকে পরিপূর্ণরুপে দেখতে পারে । ভালোবাসা হয় দু’টি সত্যের মিশ্রণে । মিথ্যা দিয়ে পৃথিবীতে কখনও ভালোবাসা হয়না । মিথ্যা দিয়ে হয় পরাজয়‚ জয় নয় । মিথ্যা দিয়ে যেটা জয় করা যায় সেটা সাময়িক আর সত্য দিয়ে যেটা জয় হয় সেটা অনন্তকাল স্থায়ী ।

পৃথিবীর ভালোবাসাগুলোর জয় হোক ।



সাব্বির আহমেদ সাকিল
২৫ শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ‚ শরৎকাল | সোমবার | ০৯ আগস্ট ২০২১ ইং | রাত্রি ০৩ টা ০৮ মিনিট | ধানমণ্ডি এলাকা‚ ঢাকা

#সাব্বিরসাকিল #ভাবনা #ভালোবাসা #প্রেম #বিয়ে #জীবন #জীবনধারা #পৃথিবী
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০২১ রাত ৩:২৪
১০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×