somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমি এক ক্লান্ত প্রাণ, যে জীবনের উত্তাল ও সফেন সমুদ্রের বুকে যুগ যুগ ধরে পথ হেঁটে চলেছে। চারপাশের চতুর পৃথিবীর কোলাহলে যখন আমি অবসন্ন, তখন প্রকৃতির সুদূর অন্ধকার আর নির্জনতার মাঝেই আমি আমার শান্তি খুঁজে পাই । ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন— https

হাসপাতালে ঘুরলেই কি আসলে ডিপ্রেশন কেটে যায়?

২২ শে মে, ২০২২ রাত ৮:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



অনেকেই বলেনা যে ডিপ্রেশন কাটাতে হলে হাসপাতাল-মেডিকেলে ঘুরে আসতে । বলা হয় সেখানে গেলে নাকি উপলব্ধি হয় যে আপনার থেকেও কত খারাপ অবস্থায় আছে মানুষ ।

আমি এই কথাটার সাথে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করি । কারণ দু’টো দু’ধরনের সমস্যা একটা ফিজিক্যাল আরেকটা মেন্টাল । ফিজিক্যাল সমস্যার কারণে যাঁরা হাসপাতালে ভর্তি হোন তাঁদের পাশে দেখবেন কত আপনজন, কতরকম বাহারি খাবার । অর্থ না থাকলেও ধার করে, সুদের হারে টাকা নিয়ে কিংবা জমি-জমা বিক্রি করে চিকিৎসা করায় । শারিরীক কষ্ট থাকলেও অন্তত মানসিক কষ্ট থাকেনা । যেকারণে শারিরীক কষ্টে থাকা মানুষরা কখনও আত্নহত্যা করেননা ।

অথচ মনঃতাত্ত্বিক সমস্যাগুলো এরকম আশা, ভরসা, বিশ্বাসযোগ্য মানুষ পাওয়া যায়না । একটা মানুষের হতাশা বিভিন্ন দিক থেকে আসে, এই সমস্যাগুলো চতুর্মুখী । কখনও পরিবার, কখনও সম্পর্ক আবার কখনও অর্থনৈতিক, কখনও অন্যকিছু ।

একটা বয়সে আমাদের সবথেকে হতাশার জায়গা তৈরি হয় যখন আশেপাশে প্রিয় মানুষজনের অভাব দেখা যায় । আপনার মনের কথা খুলে বলার মতো মানুষজন থাকেনা । আবার আরেকটা জায়গা হলো ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ ।

দুই সমস্যার সাথে লড়তে লড়তে মানুষ হেরে যায় । পৃথিবীতে আত্নহত্যার পিছনের কারণ খুঁজলে দেখা যাবে সমস্যাগুলো শোনার বা ভরসা-আশ্বস্ত করবার মতো মানুষ তিনি পাননি । ফলে নিজে নিজেকে শেষ করেছেন ।

পৃথিবীতে চারদিকে ভেবেচিন্তে কাজ করা মানুষের সংখ্যা খুব স্বল্প । সাধারণত স্বার্থবাদী মনোভাবের মানুষদের মাঝে এটি বেশি লক্ষ্য করা যায় কতটা সুচতুর তাঁরা ।

মৃত্যুর পূর্বে মানুষকে এমনকিছু বিষয় তাড়িত করে যা ভয়াবহ রকমের অস্বস্তির । গলাকাটা মুরগির মতো মানুষ ছটফট করতে থাকে বাঁচবার আশায় । পৃথিবীতে কিছু মানুষের জন্য নির্দিষ্ট দু-চারজন থাকে, থাকা দরকার যাঁরা নতুন জীবন দেন । যাঁরা জ্বলতে সাহায্য করেন ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় রঙীন ছবি মানেই মানুষের জীবন রঙীন নয় । রেষ্টুরেন্টে চেক-ইন দেয়া মানেই তাঁর অর্থনৈতিক কোনো সমস্যা নেই । মানুষকে জাস্টিফাই এভাবে কখনও করা যায়না ।

মানুষ বাঁচে আশায়, ক্ষুদ্র কিছু মানুষের জন্য । মানুষ বেঁচে থাকে কারোর হাসি দেখবার জন্য, কাউকে একটু সুখে দেখবার জন্য, একটু শান্তির জন্য; নয়তো পৃথিবী তাঁর জন্য মিথ্যার বলয় মনেহয় । আর তখনই ঘটে..

সাব্বির আহমেদ সাকিল
০৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | রোববার | ২২ মে ২০২২ ইং
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মে, ২০২২ রাত ৮:১২
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×