somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমি এক ক্লান্ত প্রাণ, যে জীবনের উত্তাল ও সফেন সমুদ্রের বুকে যুগ যুগ ধরে পথ হেঁটে চলেছে। চারপাশের চতুর পৃথিবীর কোলাহলে যখন আমি অবসন্ন, তখন প্রকৃতির সুদূর অন্ধকার আর নির্জনতার মাঝেই আমি আমার শান্তি খুঁজে পাই । ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন— https

একটি সভ্য রাষ্ট্রে এ-ও সম্ভব!

১০ ই জুন, ২০২২ রাত ১২:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



মিডিয়া কি সুন্দর আমাদেরকে সবকিছু ভুলিয়ে দিতে জানে । আমাদের দুঃখ, গ্লানি, হতাশা যেন এক নিমিষেই হারিয়ে দিতে জানে! অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে কি সুন্দর ৬ মাসের বাচ্চা কামড় দিয়ে সাপ মেরে ফেললো সেটা দিয়ে ভুলিয়ে দিলো । গত ৫ই জুন কি ভয়াবহ একটা ঘটনা ঘটে গেলো । শুধু পাঁচ তারিখ-ই নয়, ছয়-সাত-আট তিন দিন-ই বিভিন্ন জায়গায় আগুন লেগেছে । ৪৯ জন তো বিএম ডিপোতেই মারা গেলেন । মানুষের জীবন্ত ভস্ম দেখলাম বিভিন্ন নিউজে । কত জান-মালের ক্ষতি বয়ে গেলো । কত পরিবার সন্তানহারা, সম্বলহারা হয়ে গেলেন । দু'শোর অধিক মানুষ বার্ন ইউনিটে কাতরাচ্ছেন এখনও । কারোর শরীরের ৪০-৮০% পুড়ে গেছে ।

আমাদের সোনার ফাইটাররা জীবন বাজি রেখে জীবন বাঁচাতে গিয়ে বারো জন পুড়ে গেলেন । অথচ এধরনের ঘটনা না ঘটলে তাঁরা দিব্যি ভালো থাকতেন । নিজের ডিউটি পালন করলেন ।

আচ্ছা এই বারোজন ফায়ার ফাইটার তো সরকারি চাকরি করতো । সরকারি বেতন, ভাতা, রেশন পেতেন । সবসময় সরকার যে নির্দেশনা দিতো তাঁরা সেটা পালন করতেন । কোনো জাতীয় দিবসে তো ঘরে বসে ঘুমাননি, তাঁরা ঠিকই প্রোগ্রামের দিন জোগাড়যন্ত্র করেছেন । ভোরে আলো ফুটতেই সব ঠিকঠাক করে রাখতেন । সরকার এবং সরকাি কাজে সর্বদায়ই সাহায্য করে গেছেন ।

সব দপ্তরের মানুষগুলোই করেন । পুলিশ, র‍্যার, বিজিবি, সেনাবাহিনী, বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী সবাই সরকারের জন্য কাজ করেন । একজন পুলিশ সদস্যের পা’ও উড়ে গেলো সেই বিস্ফোরণে । সারাজীবনের জন্য পঙ্গু হয়ে গেলেন ।

আচ্ছা এই যে ক্ষয়ক্ষতি হলো সরকারি মানুষদের, সাধারণ মানুষদের । সাধারণ মানুষদের জীবন নাহয় নগণ্য, স্বল্প টাকাতেই(পঞ্চাশ হাজার বিনিময়মূল্যে) কিনতে পাওয়া যায়; মূল্যহীন জীবন তাঁদের ।

কিন্তু সরকারি লোকগুলো যে মারা গেলো, একটা সভ্য রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কি একটা মিনিটের জন্য হলেও জাতীয় শোক ঘোষণা করা যেতনা । অন্তত সরকারি লোকগুলোর জন্য হলেও । অথচ আমরা বিভিন্ন সময় নিউজে দেখেছি বৈদেশের অনেকেই মারা গেলে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করার হয় । কিন্তু আমার দেশের লোকগুলো কি জাতীয় শোকের বাহিরে ছিলো? আমি জানিনা, সত্যিই জানিনা!

আমি বলছি শুধু সরকারি লোকগুলোর জন্য একটু জাতীয় হোক পালন করা হতো । অন্তত সরকারি লোকগুলো জানতো যে বীরের মতো জীবন দেয়ার পর তাঁদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হয় । যাঁরা সরকারের জন্য সর্বস্বতা দিয়ে কাজ করে যান । প্রয়োজনে সরকারের জন্য সাধারণ মানুষদের সাথে যেকোনো আচরণ করেন ।

আরেকটি পয়েন্ট নিয়ে বলবো, সবেমাত্র দেশে এক বড় দূর্ঘটনা ঘটে গেলো । যাঁরা দূর্ঘটনায় মারা গেলেন তাঁদের কুলখানির আয়োজনও বোধহয় এখনও করা হয়নি । কারণ আমি যতদূর জানি, মৃত্যুর সাতদিনের মধ্যে কুলখানি করা হয় এদেশে ।

অথচ এঁর মধ্যেই আজ ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে কোক স্টুডিও বাংলার আয়োজনে বিশাল কনসার্টের আয়োজন চলছে । গান-বাজনা চলছে, হৈ-হুল্লোড় চলছে । মানুষ মেতে উঠেছে আনন্দে-উল্লাসে । কি ভয়াবহ ব্যাপার ।

আমাদের দুঃখ-কষ্ট, বেদনাগুলো এত সহজলভ্য হয়ে গেলো কবে থেকে । এতই সস্তা হয়ে গেলো আমাদের আবেগ-অনুভূতি? একটু অন্তত লজ্জা থাকা দরকার এই জাতির । বড্ড সেল্যুকাস আমরা!

সাব্বির আহমেদ সাকিল
২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | বৃহস্পতিবার | ০৯ জুন ২০২২ ইং
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জুন, ২০২২ রাত ১২:৩৪
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাতীয় জন্মসনদে ভুলের ভূত আর সাভারের জালিয়াতি চক্র: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি কোনোদিন থামবে না?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০



আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। অথচ বাস্তবতা যেন এই স্লোগানের একদম উল্টো! সরকারি নথিতে যখন সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ, উদ্বাস্তু এবং রোহিঙ্গা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



দেশভাগের অনেক পরে আমার জন্ম।
আমি দেশভাগের ইতিহাস জানি। দেশভাগের পরে যা হয়েছে, অতি মন্দ সব ঘটনা ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার নারী নির্যাতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টারজান থেকে আইনস্টাইন

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাস। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা।
প্রচন্ড শীতে এক বালক রাস্তা দিয়ে একাএকা হাঁটছে। বালক জানে না- তার বাবা কে, মা কে? ক্ষুধা পেলে একটা খাবার দোকানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার দৃষ্টিতে - 'ব্লগার ওমর খাই-আম' বনাম 'ব্লগার সত্যপথিক শাইয়্যান'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩২



চ্যাটজিপিটিকে আমার এবং ওমর খাই-আমের ব্লগপেইজের লিংক দিয়ে বলেছিলাম মূল্যায়ন করতে। সে আমাদের রেটিং দিয়েছে এরকম -
সত্যপথিক শাইয়্যানঃ 8.0/10, আর ব্লগার ওমর খাই-আমঃ 7.8/10!!!

বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×