somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমি এক ক্লান্ত প্রাণ, যে জীবনের উত্তাল ও সফেন সমুদ্রের বুকে যুগ যুগ ধরে পথ হেঁটে চলেছে। চারপাশের চতুর পৃথিবীর কোলাহলে যখন আমি অবসন্ন, তখন প্রকৃতির সুদূর অন্ধকার আর নির্জনতার মাঝেই আমি আমার শান্তি খুঁজে পাই । ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন— https

মানুষ নাকি ফিরে আসেনা!

১৭ ই জুন, ২০২২ রাত ৩:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘মানুষ নাকি ফিরে আসেনা!’ এই কথাটাকে আমি বিশ্বাস করিনা । যদিও বিষয়টা রূপক অর্থের ক্ষেত্রে বললাম আরকি । পাহাড়ের সামনে চিৎকার দিলে যেমন প্রতিধ্বনি হয়ে যেমনটা ফিরে আসে তেমনি মানুষও ফিরে আসে ।

আমি একটা কথা অধিকাংশ সময় ভাবি যে ৩০০০ সাল পর্যন্ত এই পৃথিবীতে আমার ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টের মানুষ, আমি যাঁদের সাথে বেড়ে উঠেছি, যাঁদের সাথে পড়েছি, আড্ডা দিয়েছি, খেলেছি, কাজ করেছি; কেউ-ই টিকতে পারবেনা ।(কিছু সংখ্যক ব্যতিক্রম হবে, যা ধর্তব্য নয়!)

যে কথা বলতেছিলাম মানুষ ফিরে আসে । আমরা যদি আদিম মানুষদের দিকে তাকাই তখনও হক এবং বাতিলের পক্ষের লোক ছিলেন । এটা ধ্রুব সত্য যে বাতিলের পক্ষের এবং তাঁদের অনুসারীদের সংখ্যা বেশী থাকে । তাঁদের শক্তি, মেধা, সাহসও বেশী থাকে ।

কিন্তু তবুও কি বাতিলরা কখনও সম্পূর্ণভাবে জিততে পেরেছে, পারেনি । জিতে গেছে হক, জিতে গেছে সত্য; পরাজয় ঘটেছে মিথ্যার ।

নবী-রাসুলগণের ইতিহাসচর্চা করলেও আমরা জানতে পারি কত নগণ্য সংখ্যক সৈন্য নিয়ে হাজার সৈন্যকে পরাজিত করেছিলেন । আবু জাহেল, ফিরাউন, নমরূদরা কি শেষমেশ জয়ী হতে পেরেছিলো? পারেনি । ইতিহাসে তাঁদের কলঙ্কজনকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, পৃথিবীর ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত তাঁরা মানুষের কাছে নিন্দিত এবং ঘৃণিত হবেন ।

কিংবা হিন্দু ধর্মের রাবণ, অসুররা কি কখনও পৃথিবীতে যুদ্ধ করে জিততে পেরেছে । তাঁদের কি মানুষ শ্রদ্ধা, সম্মান করে; করেনা । তাঁদের অশুভ শক্তিকে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে পুরোপুরিভাবে ।

আবার আমাদের বাংলার নবাব সিরাজুদ্দৌলার কথাই ধরি, তাঁর জনবল কম ছিল । তিনি পদে পদে অপমান, লাঞ্চনা এবং ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছিলেন । তাঁর মৃত্যুর পর কি মীর জাফর, ঊমিচাঁদ, রাজবল্লভ, ঘষেটি বেগমরা ইতিহাসে সুখ্যাতি পেয়েছেন? পাননি ।

কিন্তু এই যে পৃথিবীর বয়স যুগ পেরিয়ে শতাব্দী আসে । নবী-রাসূলগণ মারা গেছেন, নবার সিরাজুদ্দৌলা মারা গেছেন কিন্তু তাঁদের সেই ন্যায় এবং সত্য পৃথিবীতে এখনও টিকে আছে । মানুষ এখনও কথা বলে অন্যায়ের বিরুদ্ধে । অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হন, কেউ জেলে যান, কেউ গুম হন, কেউ খুন হন । তবুও সত্যকে কি চাপিয়ে রাখা যায়!

যুগের পর যুগ ধরে মানুষের সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থাকা, কথা বলার কারণেই পৃথিবী আজও টিকে আছে । কোথাও আইনের শাসন, রাষ্ট্রব্যবস্থা ঠিক না থাকলেও মানুষ সংঘবদ্ধ হয়ে প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে প্রতিবাদ জানান মিডিয়ার কাছে । মুহূর্তেই সেসব ছড়িয়ে পড়ে লক্ষ-কোটি মানুষের কাছে । এক অঞ্চলের মানুষ থেকে ভিন্ন অঞ্চলের মানুষ, এক দেশের মানুষ থেকে অন্য দেশের মানুষ তখন জেনে যায় সেখানে আইনের, বিচারব্যবস্থার অভাববোধের কথা; উদ্বেগ প্রকাশ করেন ।

এভাবেই পৃথিবীর ঐকিক নিয়মে কিছু মানুষ সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কথা বলে যাবেন, লড়াই-সংগ্রাম করে যাবেন । যাঁরা আমরা নপুংসক ক্লীব তাঁরা শুধু নীরব দর্শক হয়ে দেখেই যাবো । কোনো কথা বলবোনা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়বোনা!

আর এইসব না লড়ালড়ির মধ্যে দিয়েই মৃত্যু ঘটে যাবে আমাদের । সৃষ্টিকর্তা নাহয় হাশরের ময়দানে বিচার-সালিশ করবেন কিন্তু পরবর্তী প্রজন্ম যাঁরা পৃথিবীতে ৩০০০ সালের পর টিকে থাকবে তাঁরা আমাদের কিভাবে চিনবে-জানবে । আমাদের মধ্যেই কেউ হবে নবাব সিরাজুদ্দৌলা আবার কেউ হবে মীর জাফর ।

এভাবেই সরলরেখার মতো করে আমাদেকে জানবে পরবর্তী সময়ের মানুষগুলো । চে গেভারা’রা পৃথিবীতে বারবার ফিরে আসে । মুশতাক আহমেদ(কুমির ভাই)’রা পৃথিবীতে বারবার ফিরে আসে । হয়তোবা অন্য কারোর মধ্যে দিয়ে...

সাব্বির আহমেদ সাকিল
০৩ আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | শুক্রবার | ১৭ জুন ২০২২ ইং
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুন, ২০২২ রাত ৩:২৯
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×