somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৩০ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে ফেনীতে আমার সাথে ঘটে যাওয়া নির্মমতার ২য় পর্ব ।

২৯ শে আগস্ট, ২০২৫ রাত ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভয়াবহ বন্যা পরবর্তী ফেনীতে ফিরি ২৮ আগস্ট বুধবারে । রুমে গিয়ে দেখি রুমে পায়ের টাখনু পর্যন্ত কাদা সাথে কালো-লালচে ময়লা পানি রয়ে গেছে । রুমে থাকা যেগুলো খাতা, স্যাম্পল, লিটারেচার, তরিতরকারি নিতে পারিনি সেগুলো পঁচে গিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে ।

বাসার মালিককে ডেকে তাঁকে বললাম আপু রুমটা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করে দিন । তিনি দু’জন ছেলে ডেকে পরিষ্কারের ব্যবস্থা করে দিলেন । সাথে আমিও হাত লাগালাম ।

রুম পরিষ্কার করে কাজে চলে যাই । বাসায় ফেরার পথে মোড়ের হোটেল থেকে পরোটা কিনে আনি রাতে খাওয়ার জন্য । খেয়ে ঘুমিয়ে যাই । হঠাৎ রাত ১টার দিকে জেগে উঠি । শরীরে ঠান্ডা অনুভব করি । পরে কাঁথা মুড়ি দেবার পর কেমন যেন ঝিম ধরে আছে মনে হচ্ছিল । গা-মাথা গুলিয়ে যাচ্ছিল । জ্বরের উপস্থিতি টের পেলাম ।

পরদিন সকালে হোটেল থেকে খিচুড়ি খেয়ে কাজে যাই । বলা বাহুল্য বন্যার পানিতে আমার পুরো মোটরসাইকেল পানিতে ডুবে যাওয়ায় নষ্ট হয়ে যায় । একটা মোটা অঙ্কের টাকা লেগে যায় সেটা সারাতে । সেদিন রাতে সার্ভিসিং করে নিই কাজের সুবিধার্থে ।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে একটি মেডিসিনের দোকান থেকে পেমেন্ট নেয়ার জন্য বাহিরে অপেক্ষা করছি । জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছিল । হঠাৎ দোকানের সামনেই বমি করে ফেলি । আমার সাথে থাকা ইবনে সিনা এবং আরেকটি কোম্পানির ঔষধ প্রতিনিধি আমারে ধরে সামলান । পরে গায়ে হাত দিয়ে দেখেন শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক ।

তখন তাঁরা ম্যানেজারকে শাসান । বলেন যে এমন অসুখের মধ্যে আপনি কিভাবে ছেলেটাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন । তখন ম্যানেজার আমাকে রুমে যাওয়ার অনুমতি দেন । (সারাদিন জ্বরভাব নিয়ে উনাকে মোটরসাইকেলের পেছনে করে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে ঘুরি । উনাকে বারবার বলছিলাম স্যার আমার খুব জ্বর, আমি মাথা তুলতে পারছিনা । আমাকে রুমে যেতে দিন । কিন্তু তাঁর একটাই কথা মান্থ ক্লোজিং তাই ছাড়া যাবেনা ।)

বাসায় ফেরার পথে ফেনী সদর হাসপাতালে যাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে । চিকিৎসক সরাসরি এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করেন । তখনই বুঝে যাই এ জ্বর সাধারণ কোনো জ্বর নয় । এরমধ্যে আমার পরিচিত এক ডাক্তার বড়ভাইকে আমার জ্বরের বিষয়টি জানাই । তিনি আমাকে বলেন বন্যা পরবর্তী ডায়রিয়া, জ্বর খুব কমন । তিনি আমাকে বিশুদ্ধ পানি এবং ডাব খাওয়ার পরামর্শ দেন ।

সেদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে এরিয়া ম্যানেজার আব্দুল জলিল খান আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, আগামীকাল সকালে আমি যেন ৮টার মধ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁর বাসার সামনে থাকি । ঢাকা থেকে কয়েকজন অফিসার আসবেন বন্যা কবলিতদের মাঝে ফ্রি মেডিসিন দিতে । যেহেতু আমি জ্বরে কাতর সেহেতু আমি তাঁকে বলি আমার তো খুব জ্বর যেতে পারবো কি-না বলতে পারছিনা ।

সেই সারারাত আমি শুধু এপাশ-ওপাশ করেছি । পুরো শরীর শুধু থরথর করে কাঁপছিল । ফজরের আগে আগে সম্ভবত ঘুমে তলিয়ে যাই । শুক্রবার সকালে আমার কোনো হুঁশ ছিলোনা । তেমন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এরিয়া ম্যানেজার এবং আমার সাবেক কলিগ সোহেল ভাই আমার রুমে আসেন ।

উনারা এসে আমার রুমে গ্রিল ধরে ধাক্কাচ্ছিলেন । আমি বেশ খানিকটা সময় পর বুঝতে পারি কেউ ডাকছে । আমি বিছানা থেকে উঠে রুমের দরজা খুলতেই এরিয়া ম্যানেজার আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন । তাঁর গালির মধ্যে ‘মাগির পোলা, চুদমারানি, নটীর পোলা’—এজাতীয় শব্দ ছাড়াও আরওকিছু বরিশালের গালি ছিল ।

এছাড়াও তিনি আমাকে ‘ড্রাগ অ্যাডিক্ট’ বলেও গালি দেন ।

এরপর তিনি আমাকে বলেন তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে মোটরসাইকেল বের করতে । আমি যেখানে শরীর-ই খাঁড়া করতে পারছিলামনা সেহেতু আমি তাঁকে বলে আমার যাওয়ার মতো শক্তি নেই । তখন তিনি আরও এক চোট গালি দিয়ে আমার রুম ত্যাগ করেন ।

সাব্বির আহমেদ সাকিল
১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল | শুক্রবার | ২৯ আগস্ট ২০২৫ ইং | গাবতলী, বগুড়া
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০২৫ রাত ১০:২৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×