somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাব্বির আহমেদ সাকিল
আমি এক ক্লান্ত প্রাণ, যে জীবনের উত্তাল ও সফেন সমুদ্রের বুকে যুগ যুগ ধরে পথ হেঁটে চলেছে। চারপাশের চতুর পৃথিবীর কোলাহলে যখন আমি অবসন্ন, তখন প্রকৃতির সুদূর অন্ধকার আর নির্জনতার মাঝেই আমি আমার শান্তি খুঁজে পাই । ফেসবুকে আমার সাথে যুক্ত হতে পারেন— https

৩০ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে ফেনীতে আমার সাথে ঘটে যাওয়া নির্মমতার ২য় পর্ব ।

২৯ শে আগস্ট, ২০২৫ রাত ১০:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ভয়াবহ বন্যা পরবর্তী ফেনীতে ফিরি ২৮ আগস্ট বুধবারে । রুমে গিয়ে দেখি রুমে পায়ের টাখনু পর্যন্ত কাদা সাথে কালো-লালচে ময়লা পানি রয়ে গেছে । রুমে থাকা যেগুলো খাতা, স্যাম্পল, লিটারেচার, তরিতরকারি নিতে পারিনি সেগুলো পঁচে গিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে ।

বাসার মালিককে ডেকে তাঁকে বললাম আপু রুমটা পরিষ্কারের ব্যবস্থা করে দিন । তিনি দু’জন ছেলে ডেকে পরিষ্কারের ব্যবস্থা করে দিলেন । সাথে আমিও হাত লাগালাম ।

রুম পরিষ্কার করে কাজে চলে যাই । বাসায় ফেরার পথে মোড়ের হোটেল থেকে পরোটা কিনে আনি রাতে খাওয়ার জন্য । খেয়ে ঘুমিয়ে যাই । হঠাৎ রাত ১টার দিকে জেগে উঠি । শরীরে ঠান্ডা অনুভব করি । পরে কাঁথা মুড়ি দেবার পর কেমন যেন ঝিম ধরে আছে মনে হচ্ছিল । গা-মাথা গুলিয়ে যাচ্ছিল । জ্বরের উপস্থিতি টের পেলাম ।

পরদিন সকালে হোটেল থেকে খিচুড়ি খেয়ে কাজে যাই । বলা বাহুল্য বন্যার পানিতে আমার পুরো মোটরসাইকেল পানিতে ডুবে যাওয়ায় নষ্ট হয়ে যায় । একটা মোটা অঙ্কের টাকা লেগে যায় সেটা সারাতে । সেদিন রাতে সার্ভিসিং করে নিই কাজের সুবিধার্থে ।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে একটি মেডিসিনের দোকান থেকে পেমেন্ট নেয়ার জন্য বাহিরে অপেক্ষা করছি । জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছিল । হঠাৎ দোকানের সামনেই বমি করে ফেলি । আমার সাথে থাকা ইবনে সিনা এবং আরেকটি কোম্পানির ঔষধ প্রতিনিধি আমারে ধরে সামলান । পরে গায়ে হাত দিয়ে দেখেন শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক ।

তখন তাঁরা ম্যানেজারকে শাসান । বলেন যে এমন অসুখের মধ্যে আপনি কিভাবে ছেলেটাকে দিয়ে কাজ করিয়ে নিচ্ছেন । তখন ম্যানেজার আমাকে রুমে যাওয়ার অনুমতি দেন । (সারাদিন জ্বরভাব নিয়ে উনাকে মোটরসাইকেলের পেছনে করে এক মার্কেট থেকে আরেক মার্কেটে ঘুরি । উনাকে বারবার বলছিলাম স্যার আমার খুব জ্বর, আমি মাথা তুলতে পারছিনা । আমাকে রুমে যেতে দিন । কিন্তু তাঁর একটাই কথা মান্থ ক্লোজিং তাই ছাড়া যাবেনা ।)

বাসায় ফেরার পথে ফেনী সদর হাসপাতালে যাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে । চিকিৎসক সরাসরি এন্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করেন । তখনই বুঝে যাই এ জ্বর সাধারণ কোনো জ্বর নয় । এরমধ্যে আমার পরিচিত এক ডাক্তার বড়ভাইকে আমার জ্বরের বিষয়টি জানাই । তিনি আমাকে বলেন বন্যা পরবর্তী ডায়রিয়া, জ্বর খুব কমন । তিনি আমাকে বিশুদ্ধ পানি এবং ডাব খাওয়ার পরামর্শ দেন ।

সেদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে এরিয়া ম্যানেজার আব্দুল জলিল খান আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, আগামীকাল সকালে আমি যেন ৮টার মধ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে তাঁর বাসার সামনে থাকি । ঢাকা থেকে কয়েকজন অফিসার আসবেন বন্যা কবলিতদের মাঝে ফ্রি মেডিসিন দিতে । যেহেতু আমি জ্বরে কাতর সেহেতু আমি তাঁকে বলি আমার তো খুব জ্বর যেতে পারবো কি-না বলতে পারছিনা ।

সেই সারারাত আমি শুধু এপাশ-ওপাশ করেছি । পুরো শরীর শুধু থরথর করে কাঁপছিল । ফজরের আগে আগে সম্ভবত ঘুমে তলিয়ে যাই । শুক্রবার সকালে আমার কোনো হুঁশ ছিলোনা । তেমন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এরিয়া ম্যানেজার এবং আমার সাবেক কলিগ সোহেল ভাই আমার রুমে আসেন ।

উনারা এসে আমার রুমে গ্রিল ধরে ধাক্কাচ্ছিলেন । আমি বেশ খানিকটা সময় পর বুঝতে পারি কেউ ডাকছে । আমি বিছানা থেকে উঠে রুমের দরজা খুলতেই এরিয়া ম্যানেজার আমাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন । তাঁর গালির মধ্যে ‘মাগির পোলা, চুদমারানি, নটীর পোলা’—এজাতীয় শব্দ ছাড়াও আরওকিছু বরিশালের গালি ছিল ।

এছাড়াও তিনি আমাকে ‘ড্রাগ অ্যাডিক্ট’ বলেও গালি দেন ।

এরপর তিনি আমাকে বলেন তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে মোটরসাইকেল বের করতে । আমি যেখানে শরীর-ই খাঁড়া করতে পারছিলামনা সেহেতু আমি তাঁকে বলে আমার যাওয়ার মতো শক্তি নেই । তখন তিনি আরও এক চোট গালি দিয়ে আমার রুম ত্যাগ করেন ।

সাব্বির আহমেদ সাকিল
১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, শরৎকাল | শুক্রবার | ২৯ আগস্ট ২০২৫ ইং | গাবতলী, বগুড়া
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে আগস্ট, ২০২৫ রাত ১০:২৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আশা রাখি: কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ রাষ্ট্রপতি হবেন

লিখেছেন অপলক , ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৪০



আমার দেখা সকল রাষ্ট্রপতিগন ছিলেন ডায়াবেটিকস রোগীদের মত। যাদের রাজনৈতিক জীবনীশক্তি ছিল না বললেই চলে। প্রধানমন্ত্রীর অলিখিত আজ্ঞাবহ মাত্র। ফর্মালিটি আছে কিন্তু কাজের স্বকীয়তা ছিল না। কোন আইকোনিক ডিসিশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৫৬৩৫-৩৬

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৯

মন কথনিকা-৫৬৩৫
খেতে খেতে গেল জীবন, নজর যে নাই স্বাস্থ্যের পানে
খেয়ে গেছি যা পেয়েছি, যা পেয়েছি বামে ডানে
বাড়লো চর্বি, কমলো যে জোর, শান্তি হারাই পদে পদে
এই না জীবন পার করতে চাই,... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত ৮ টায় বিপণিবিতান-দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ | দেশজুড়ে বইছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৩৫



দেশজুড়ে বহু বহু করে বয়ে যাচ্ছে গণতন্ত্রের সু-বাতাস, চারিদিকে পতপত করে উড়ছে গণতন্ত্র নামক শান্তির পতাকা- সারা বংলায় এমন শান্তিময় পরিবেশ স্বাধীনতা পরবর্তীকালের ইতিহাসে আর দেখা যায়নি কখনো; এরই ধারাবাহিকতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০০১ সালেও বিএনপিকে ডোবানোর দায়িত্ব নিয়েছিল টুকু!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৫১


ভয়াবহ লোডশেডিং। মধ্যরাতে ঢাকবাসীর হাঁসফাঁস। হঠাৎ করে এতো লোডশেডিং হওয়ার কোন কারণ নেই অথচ মধ্যরাতে ভয়াবহ লোডশেডিং। গ্রামে বিদ্যুৎ থাকেনা বললেই চলে। গ্রামে বিদ্যুৎ যাওয়ার সময় আছে কিন্তু আসার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে বাষ্ট্রপতি নির্বাচন নাকি রাষ্ট্রীয় খরচে তামাশা!!!

লিখেছেন শাহিন-৯৯, ১৩ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


বাংলাদেশে সম্মানিত রাষ্ট্রপতি (হবু)


নির্বাচন, এই শব্দটি শুনা মাত্র যে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে তা হচ্ছে ভোট প্রদানের যোগ্য ভোটারদের স্বাধীন ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যাক্তিকে দায়িত্ব অর্পণের জন্য নির্বাচিত করা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×