somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দুঃসময়ের তিনটি কবিতা

০৭ ই মে, ২০২০ রাত ১০:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


এক।

মাঝে মাঝে
মাঝে মাঝে মনের ভেতরে টেনে দেই সরল রেখা
আগপাছ না ভেবে মনে হয় মানুষ বড়-ই একা ।
মাঝে মাঝে মনের পুকুরে একটানা দেই ডুব
মাঝে মাঝে সব কোলাহল ছেড়ে নিশ্চল নিশ্চুপ।
মাঝে মাঝে বড় একা হয়ে যাই শূন্য চতুর্দিক
মাঝে মাঝে ভালো লাগে কেউ আমার খবর নিক।
মাঝে মাঝে আকাশে দেখি নীল সাগরের মেলা
মাঝে মাঝে হতাশায় ভাবি এই বুঝি শেষ বেলা।
মাঝে মাঝে মনে হয় আরে এইতো আছি বেশ
মাঝে মাঝে ইচ্ছা জাগে খুব হবো নিরুদ্দেশ।
মাঝে মাঝে নিজেকে নিজে মেরে ফেলতে ইচ্ছা হয়
মাঝে মাঝে মৃত্যুকেই আমার সবচেয়ে বেশি ভয়।
মাঝে মাঝে একটার পর একটা দেয়াশলাই জ্বেলে
ইচ্ছা করে পুড়ে দেই সব আগুনে পেট্রোল ঢেলে।
অনেক হতাশ আমি ভেবে পাইনা এই জীবনের মানে
হয়ত মারা যাবো তারপর কোথায় কী হবে কে জানে!
তবুও বেঁচে থাকা বেঁচে আছি কত কিছু নিয়ে ভাবি
এত কিছু পেয়েও বারবার কত কিছু নিয়ে দাবি।
এখানে আকাশে নীল মেঘ নেই কালো আধারে ঢাকা
এত কিছু ভেবেটেবে শেষমেশ এভাবেই বেঁচে থাকা।

দুই।

অনেক দিন পর
অনেক দিন পর দেখা হবে এই ভেবে ভেবে পথে
হেটে যাওয়া, অকারণ অস্থায়ী নিজস্ব ঠিকানা হতে-
কত চিঠি লেখা হয় শব্দহীন রাতের গভীরের মতো
অপেক্ষার আশ্বাসে নিজের অস্তিত্ব ক্ষত আর বিক্ষত।
কোন কারণ নেই জানি এমন আদিখ্যেতা সাথে বয়ে
কারো আগমন হয়নি এখানে কোনভাবে আমার হয়ে।
তবু বিশ্বাস নিয়ে বেঁচে থাকা একটু অন্য সম্ভাবনা
পথের উপরে ধুলায় ছড়িয়ে এঁকে যাই আলপনা।
অনেক দিন পরে, হয়তবা অনেক দিনই বলা যায়
এভাবে ব্যয়বহুল সময়ের হাতে ব্যকুল অপেক্ষায়।
এখনো বেঁচে আছি বুকে অনেক প্রত্যাশিত সাক্ষাত
অনেক দিন পার হবে কেটে যাবে বহু দিন বহু রাত।
হয়তো দেখা হবে, সত্যিই; ঠিক অনেকটা দিন পর
ততদিন আমার অপেক্ষার কবিতার নিশ্চিন্ত অবসর।
এখনো বাড়িয়ে রাখা হাত দুটো আহ্লাদী, উৎসুক,
হাতড়াবে হাতে আঁকা ধুলিমাখা আলপনাশ্রী মুখ।
কত কিছু মনে আসে অনেক সম্ভাবনা অনেক বিশ্বাস
অনেকদিন হয়তো পার হয়ে যাবে বছর-দিন-মাস।
হয়তো দেখা যাবে সময়ের মাঝে আমার পারাপার
হয়তো তুমি অন্য কোথাও এখানে আসবেনা আর।

তিন।

আমি যদি মরে যাই
কী ছাইপাশ ভাবি আজকাল এমন কেন যে হয়!
আমি যদি মরে যাই আজ বা কাল যেকোন সময়।
আমার কবরে কী ঘাসফুল হবে আসবে প্রজাপতি
না হয় বুনো ফুল; ভাবনায় কী আর এমন ক্ষতি!
আচ্ছা আমার কবরে কী কখনো বৃষ্টির ফোঁটা এসে
সকালের আগে সব ধুয়ে সাফ আবার বিকাল শেষে।
এমন যদি হয় কেউ জানবেনা কোথায় আমার ঘর
শুনবনা কারো কোলাহল কিম্বা কারো গলার স্বর।
আমার কবরে শুধু আমি আর একরাশ অভিমান
কেউ জানেনা কত ভালোবাসা কার জন্য কত টান।
হঠাৎ কখনো জোৎস্না এসে লুটোপুটি খাবার পর
সব সুখের আলো ছড়িয়ে দেবে কবরের ভেতর।
কখনো তো ভেবে দেখা হয়নি এমন মরণ কবে?
এত জোৎস্না এত বৃষ্টি কবরে আমার সঙ্গী হবে।
গাছের পাতা ঝরে একাকার আমাকে রাখবে ঢেকে
উড়ে নিয়ে যাবে ঠিকানাবিহীন দূরন্ত বাতাস ডেকে।
সকালের পরে দুপুর গাড়িয়ে এখন গোধুলির শেষ
মায়াভারা ক্লান্ত নরম আলো তাকিয়ে দেখি অনিমেষ।
নৌকা ভেড়াতে হবে খুব তারাতারি এসে গেছে কূল
একটু অপেক্ষায় থাকো প্রিয় প্রজাপতি প্রিয় ঘাসফুল।

দক্ষিণ কোরিয়া
৮ মে ২০২০
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জুন, ২০২০ সকাল ১০:৫৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×