গতবছর ভুটানের কাছে ৩-১ গোলে হেরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নির্বাসিত হয়েছিল বাংলাদেশ। সেই সাথে হতাশায় ডুবে গেছিল দেশের অগনিত ফুটবল প্রেমী। ভাবা হয় তার পর থেকেই এদেশে ফুটবলের মৃত্যু ঘটে।

এমনকি আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত যারা কিনা র্যাংকিং এ আমাদের চেয়ে পিছিয়ে ছিল তাদের আজকের র্যাংকিং ১০৫! আর আমাদের ১৯৬! বাফুফের সালাউদ্দিন সাহেব ভিশন ২০২২ ঘোষনা দিয়েছিলেন। তিনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ২০২২ বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তার উচিৎ এখন ভিশন ২০০ ঘোষনা করা। কেননা এভাবে এগোতে থাকলে অচিরেই আমরা র্যাংকিং ২০০ ছুয়ে ফেলবো।
এই চরম ব্যর্থতার দায় অবশ্যই বাফুফের। কারন বাংলাদেশের আনাচে কানাচে অসংখ্য ফুটবল ট্যালেন্ট রয়েছে।এদেশের ফুটবলারদের ও যথেষ্ট যোগ্যতা ও দক্ষতা রয়েছে। যে জিনিসটার অভাব সেটা হল পরিচর্যা। সদ্য শেষ হওয়া সাফ অনুর্ধ্ব ১৮ চ্যাম্পিয়নশীপে ফুটবলাররা তাদের যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছে। ফেভারিট ভারতকে ৪-৩ গোলে হারায় তারা। অথচ তাদেরকে কিনা পাঠানো হয়েছিল মাত্র চার দিনের অনুশীলন করিয়ে।

এমনকি কিছুদিন আগে এএফসি অনুর্ধ্ব ১৬ বাছাইয়ে র্যাংকিং এ যোজন যোজন এগিয়ে থাকা কাতারকে।২-০ তে হারিয়ে এসেছিল খুদে ফুটবলাররা। সুতরাং এদেশে যোগ্য ফুটবলার আছে, নেই তাদেরকে তুলে আনার/পরিচর্যা করার উদ্যোগ।
বলা হয় এদেশের মানুষের ফুটবলের প্রতি টান নেই। নিচের ছবি দুটি কি বলে?


এগুলো সদ্য তোলা চুয়াডাঙ্গা জেলা স্টেডিয়ামের ছবি। এই ছবিই বলে দেয় এদেশের মানুষের ক্রিকেটের চেয়ে ফুটবলের প্রতি টান বেশী। শুধু দরকার ফুটবলের আয়োজন।
রীতিমত ধানক্ষেতে পরিনত হওয়া বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দিনের পর দিন নির্বীষ দর্শকশূন্য লীগের খেলা চালিয়ে খেলা্টাকে ধ্বংস করার কোনো মানে হয় না। এতে লীগ চলতে থাকবে কিন্তু দেশের ফুটবলের কোনো উন্নতি হবে না।
মানসম্পন্ন ট্যূরনামেন্ট আয়োজন করতে পারলে দর্শক নিজ থেকেই মাঠে আসবে।শুধুমাত্র ঢাকাভিত্তিক লীগ পরিচালনা করে এদেশের ফুটবলকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব না। বাফুফে এভাবে চলতে থাকলে এদেশের ফুটবল ধ্বংস হতে আর বেশী দিন বাকি নেই।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৩:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



