সামুতে প্রায়ই ব্লগারদের মুঠোফোন নিয়ে স্মৃতিমূলক পোস্ট দেখতে পাই। তাই ভাবলাম ২০০৪-২০১৪, এই দশ বছরে মুঠোফোনের সাথে আমার স্মৃতি নিয়ে একটি পোস্ট হয়ে যাক।
২০০৪ সালে স্কলারশীপের অনেকগুলো টাকা হাতে পাওয়া মাত্রই মোবাইল ফোন কিনলাম। মটোরলা এম.৩৫৮৮ মডেলের ঢাউস সাইজের এই ফোনটি এখনও চলে তবে বয়সতো কম হয়নি তাই ভার নিতে পারেনা। যত্ন করে সাজিয়ে রেখেছি ফোনটিকে সেই মোবাইল চেয়ারটির উপরে যা তখন কিনেছিলাম ফোন স্ট্যান্ড হিসেবে।
![]()
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কিছু দিন আগে ২০০৫ সালে ছোট চাচা হাতে তুলে দিলেন সিমেন্স এ-৫০। সত্যিকারের মুঠোফোন যাকে বলে আর কি! কত শত ফিচারইনা ছিল এটাতে! মুঠোফোনের আসল মজার শুরু ছিল এখানেই।
![]()
বাবার জন্য সিম কিনলাম একদিন কিন্তু মোবাইল ফোনতো একটাই তাই এ-৫০ বাবাকে দিয়ে ২০০৮ এ নিজের জন্য কিনলাম মটোফোন। এখন পর্যন্ত এমন অদ্ভুত ফোন আমি আর দেখিনি! ডিসপ্লে তা কেমন যেন আর ফোনটি ছিল খুবই স্লিম। বলা চলে ইউনিক কিছু একটা।
![]()
বিধি বাম! মটোফোনটি হাত ফসকে তলিয়ে গেল হোস্টেলের ইউরিন্যালে। তড়িঘড়ি করে কিনলাম মোটরলা সি-১১৮ সেই ২০০৮ এ।
![]()
কাজিনের কাছে ছিল সিমেন্স সি.এক্স-৬৫। ২০০৯ এ মটোরলা সি-১১৮ ওকে দিয়ে সিমেন্সটা নিলাম। আমার প্রথম ক্যামেরা মোবাইল! এটার সর্বোচ্চ ব্যবহার করেছি। সারা খুলনা খুজে এর জন্য ডাটা কেবল, সফ্টওয়্যার সংগ্রহ করেছিলাম যাতে ক্যামেরা ও বাকী ফিচারগুলোর মজা লুটতে পারি। ইনফ্রারেড ব্যবহার করে ফাইল ট্রান্সফার! ফোনটি ছিল আমার কাছে প্রযুক্তির ঝলক!
![]()
বলা নেই কওয়া নেই, সি.এক্স-৬৫ নষ্ট হয়ে গেল। বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডী ঠেকে বেরিয়ে সবেমাত্র নতুন জব শুরু করেছি। তাই একটা চায়না ফোন নিলাম কিছু দিনের জন্য। আর তা নিয়ে ২০১০ এ ঢাকায় পাড়ি জমালাম।
![]()
২০১০ এর মাঝামাঝি জমানো টাকায় কিনলাম গ্রামীনফোনের সি-১০০ ফোনটি। ফোনটি খুব স্লিম আর হাল্কা ছিল তবে ব্যাক লাইটের কটকটে নীল রং আমার অপছন্দের ছিল।
![]()
ঢাকা থেকে খুলনা ফিরে নতুন জবে জয়েন করলাম এবং প্রথম স্মার্টফোন কিনলাম স্যামসাং চ্যাম্প ২০১০ সালের শেষের দিকে। ফোনটি তখন সবেমাত্র বাজারে এসেছে। টাচ্ ফোনের সাথে ওটাই আমার প্রথম পরিচয়।
![]()
২০১১ সালে নকিয়া ১২০২ কিনলাম চ্যাম্পের সাথে বেসিক ফোন হিসেবে রাগের শিকার হয়ে বেচারা একদিন নষ্ট হয়ে গেল। তবে সযত্নে রেখেছি তাকে।
![]()
প্রবাসে এসে এন্ড্রয়েডের দুনিয়ায় প্রবেশ করলাম স্যামসাং গ্যালাক্সি ট্যাব ২.৭ দিয়ে ২০১২ সালে। এখন অবধি এটা আমার প্রতি সেকেন্ডের সঙ্গী। ব্লগে লেখা-লিখির হাতে খড়ি এটা দিয়েই।
![]()
ট্যাবের সাথে বেসিক ফোন হিসেবে স্যামসাং গুরু ই১২০০ কিনলাম যা পরে ২০১৩ সালে অদল-বদল করলাম ই১২০০ এফ.এমের সাথে।
![]()
![]()
২০১৩ সালের শেষে এসে ব্লাকবেরী কিনতে মন চাইল। সেভিংস কমল কিন্তু হাতে এল ব্লাকবেরী কার্ভ ৯২২০। কথা বলা, টেক্সট করা বা মাঝে-মাঝে ব্রাউসিং করা......সবমিলিয়ে ব্লাকবেরীর ভক্ত হয়ে গেছি আমি। যতদিন চলবে, এটাই চলুক।
![]()
নকিয়া এক্স পরখ করব ভেবেছিলাম কিন্তু ব্লাকবেরীর যাদুতে মোহিত আপাতত তাই নতুন কোন মুঠোফোন এখনই নয়।
দশ বছর, ১৩টি ফোন, ১৩টি গল্প, ১৩বার উচ্ছাসে ভেসে যাওয়া.......মুঠোফোনগুলোকে মিস করি খুব তাই প্রায় সবাইকে সযত্নে রেখেছি সংগ্রহশালায়। ভবিষ্যতে স্মৃতি রোমান্থনে কাজে দিবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



