somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাখালী

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৬:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন ছিল সোম বার। যাচ্ছিলাম মহাখালী। বাহাদুর শাহ্‌ পার্ক হতে বাসে। সময় সকাল ৯ টা। প্রতি সোম বার আমাকে মহাখালী যেতে হয়।

বসেছিলাম সামনের চেয়ারে। সকাল বেলা, রৌদ্র উঠতে শুরু করেছে। তাই জানালার পাশের দিকের চেয়ারটা খালি রেখে অন্যটাতে বসেছিলাম। তখন আর কোনো যাত্রী ছিল না।

বসে থাকার কিছু পরেই সে এল। দ্বিতীয় যাত্রী হিসেবে। গেট দিয়ে যখন ভেতরে এল, তখন চোখে চোখ পড়ে যায়। দ্য ভিঞ্চির ‘লাষ্ট সাপার’ এর মত অনুভূতি শুন্য দৃষ্টি নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম :| :| আমার পাশের চেয়ার টা খালি। ও বসতেও চেয়েছিল। কিন্তু আমার কোনো আমন্ত্রন ছিল না। তাই, কিছুক্ষণ ইতস্তত করে বসল সমান্তরাল ভাবে আমার ঠিক পেছনের চেয়ারে।

চোখে ছিল রিমলেস চশমা। ফাইবার গ্লাস। এই সাঝ সকালেই যে স্নান করে বেরিয়েছে, তা স্পষ্ট। সেই কারনেই বোধ হয়, অনেক বেশী প্রাণবন্ত মনে হয়েছিল।

যেমন নিশ্চুপে এসেছিল, ঠিক তেমনি নিঃশব্দেই বসল চেয়ারে। আমার ছিল দেড় ঘন্টার জার্ণি। বরাবরের মতই, এই সময়ের অর্ধেকটা আমাকে পড়াশোনা করেই কাটাতে হবে। বই খুলেছিলাম আগেই। একটা অনুভুতি নিয়ে পড়া করলাম শুরু, জানালার আলোতেই।

এই পড়াটা আমার জন্য অনেক খানি বাধ্যতামূলক ছিল। কারন, আগের রাতে সবটা পড়া হয় নি। যা কিছু বাকী আছে, তা না শেষ করলে ঝামেলাই হবে। তাই, কিছুক্ষণের জন্য ডুবে গেলাম বইতে।

একটু পরে মনযোগ ভাঙ্গল। ছ্যাঁচড়া টাইপ একজন উঁকি দিল বাসের দরজায়, তৃতীয় যাত্রী হিসেবে। সম্পূর্ণ বাসটাই খালি পড়ে আছে। কিন্তু খুঁজে-খুঁজে গিয়ে সে বসল তার পাশেই।

নিজের উপর জেদ হল, অকারনেই।

কিন্তু যা নির্ধারিত হবার, তা অনেক আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। তাই, যুক্তি বিদ্যা দিয়ে নিজেকে শান্ত হতে বললাম। মনযোগ দিলাম বইতে।

শুনেছিলাম, ম্যাজিক কখনো-কখনো মানুষের লজিক কে হার মানায়। কোলাহল পূর্ণ এই ঢাকা শহরের পাবলিক বাসে তাহার উপস্থিতি ছিল অনেকটা পঙ্কিলতার মাঝে শুভ্র পদ্মের মত। যাহার স্নিগ্ধতা কেবল মন্ত্রের মতই কাজ করে।

আর আমিও মন্ত্রমুগ্ধ হয়েছিলাম। বোধ হয় সে জন্যই, পড়ার মাঝখানে পেছনে ফিরে চাইলাম। চোখে চোখ পড়ল। ধরা পড়ে গেলাম। আর তাই চোখও ফিরিয়ে নিলাম।

আবার মন দিলাম বইতে। কিন্তু নরেশ মালহোত্রার মাল্টিপল রিগ্রেশনের ফর্মূলার পরিবর্তে বইয়ের পাতায় ভেসে উঠল - এক জোড়া চোখ। হাসলাম, মনে মনে ;) ;) ।

ভাবতে লাগলাম, ইজ দেয়ার অ্যানি কোরিলেশন? ইফ দেয়ার, দেন হোয়াট আর দ্যা ভ্যারিয়েবলস? আর ঠিক তখনই সহযাত্রী ঐ ছ্যাঁচড়া ভ্যারিয়েবল কে কন্ট্রোল করে রিগ্রেশনের চিন্তা মাথায় এল।

মনে মনে খুশী হলাম এই ভেবে – রিসার্সের মত রস-কষ হীন সাবজেক্টের একটা ইন্টারেষ্টিং এক্সাম্পল পেলাম। হাসি পেল। এবং হাসি মুখেই তার দিকে আবার ফিরে চাইলাম। আর ধরা পড়ে গিয়ে চোখও নামিয়ে নিলাম আবার। কিন্তু, এর মাঝেও তাহার অধর তরঙ্গ আমাকে ফাঁকি দিতে পারিল না।

যাই হোক, বেলা বাড়িতে লাগিল। বাসও চলিতে লাগিল। আসন সংখ্যা পূর্ণ হইয়া তাহারও অধিক যাত্রী ঝুলিতে লাগিল। এর মধ্যে সূর্য মহাশয় তাহার আধিপত্য একটু একটু করিয়া বাড়াইতেও লাগিলেন। মানে, সব মিলিয়া একটা খিচুড়ি অবস্থা। যে খিচুড়ি মোটেই সুখাদ্য নয় X( X( X(

এই ধরনের দূর পাল্লার জার্ণি যারা করেন তারা কম-বেশী সবাই ঘুমানোর চেষ্টা করেন। এবং এক সময় খেয়াল করলাম সে নিজেও চোখ বন্ধ করে আছে। আর কপালে রচিত হয়েছে - শরতের শিশির বিন্দু। ঘুমানোর মাঝেও না-কি একটা সৌন্দর্য আছে। সেটা পড়েছিলাম ‘ব্রাম ষ্টোকার’ এর বইতে। ষ্টোকার সেখানে ‘লুসি ওয়েষ্টেনরা’র সৌন্দর্যকে সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। আর আজ, আমার কাছে মনে হলো – আমি সেটা বাস্তবে দেখলাম :)

সময় হয়েছে এবার। চেয়ার ছেড়ে আমি উঠে দাড়ালাম গেটের কাছে। একটু পরেই নেমে যাব গন্তব্যে। কিন্তু তাহার মাঝে নামার কোনো চিহ্ন পেলাম না। ঢাকা শহরে যে জনসংখ্যা, তাতে পুনর্বার আমার সাথে তার দেখা হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যের কাছা-কাছি। কোথায় যেন একটা তীব্র অনুভূতি হল।

কিন্তু, চমক ভাঙ্গল বাসের কন্ডাক্টরের কথায় – ‘মহাখালী’। যাবার আগে শেষ বারের মত ফিরে চাইলাম। ফিরে চাইল সেও।

চোখের যে অনেক ভাষা থাকে – অনুভব করলাম, আরো এক বার।

তার পরেই নেমে পড়লাম, মহাখালী।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সন্ধ্যা ৭:০৪
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চন্দ্রপ্রভা

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

চন্দ্রপ্রভা
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তোমাকে দেখে মোহিত হই চন্দ্রপ্রভা
রোদ পড়লে চকচক করে
এতই সুন্দর লাগে
একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকি।
তোমাকে ছুঁতে ইচ্ছে করে
কিন্তু পাই না যে সাহস।
তুমি নাই বলে কি এত ঝড়?
তুমি পাশে নাই বলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনি কি পেলেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬



বাংলার দুই নোবেল জয়ী রবি ঠাকুর আর ডঃ ইউনুসের পিছনে অনেক কথাই তো বললেন।
ব্লগ লেখায় ভরিয়ে ফেললেন!
খোদা তাঁদেরকে যে জায়গা দিয়েছেন, তা থেকে এক চুল কি নিচে নামাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তোমরা নেহা বোরা কে বাংলাদেশের কথা বোলো না

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:০২


নেহা বোরাকে তোমরা বাংলাদেশের কথা বোলো না। বোলো না যে, তিনি যখন বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের ভূয়সী প্রশংসা করছেন, তখন বাংলাদেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুনেরা ক্যাম্পাসে গরু জবাই করে জেয়াফত খাওয়ার আন্দোলন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জগন্নাথবাসীগণ, আমার কথা শুনছেন কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

জগন্নাথবাসীগণ,
আপনাদের গরু কোরবানি যদি হযরত জাবের (রাঃ)-এর মতো
নবীজীর সম্মানে হয়ে থাকে, তাহলে মোবারকবাদ।
আর, শুধু প্রতিবাদ দেখাতে একটি অবলা পশুকে হত্যা করে থাকলে,
তার জন্যে খোদার দরবারে বিচার দিলাম।
...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×