আজকাল আর গান শুনিনা! আগে গান শুনতাম। আসলে আজকাল গান উপলব্ধি করি বা উপলব্ধির চেষ্টা করি। এখন সুর শুনিনা বা বাক্যের অর্থ খুজিনা। আজকাল গানের প্রতিটি শব্দের ব্যবহার আর সেই শব্দের মর্মার্থ বোঝার চেষ্টা করি। আর ভাবি যিনি গান বা গানের কথা লিখেছেন তিনি সেই সময় কোন মুডে ছিলেন বা কি ভাবছিলেন? দারুণ লাগে গানের পিছনের বা লিখবার সেই সময়টা নিজের মত করে অনুধাবন করতে।
একটা অন্য রকম ভালোলাগা কাজ করে এতে করে। কখনো কখনো একা একাই হাসি!
গত পরশু সন্ধায় একটু হাটতে বের হলাম। বেশ ফাঁকা রাস্তা দিয়ে হাটছিলাম। ছেলের হাত ধরে। বেশ কাছ থেকে একটি পরিচিত ও ভালোলাগা সুর কানে এসে লাগলো। কানকে একটু সজাগ করলাম। হঠাৎ পরিচিত ও নরম সুরের মাঝেই আচমকা আর খুবই অস্বাভাবিক ভাবে কান-মাথা আর মননে বোমার মত ছেয়ে গেল হাইবিট! সেই গানের সুরের সাথেই! আজব?
কি ব্যাপার? বুঝতে হবে তো ব্যাপারটা, তাই দাড়ালাম। শুরু হল গান...... ক্ষীণ সুরের মাঝে মাঝেই শেষ দিকে এসে হাইবিট আর প্রতিটি কলির শেষে অতি-আধুনিক!! দুই একটি গা ঘিনঘিনে শব্দের সংযোগ! এমন......
আমারো পরাণো যাহা চায়... ( হোয়াট, হোয়াট? হাই বিটে!)
তুমি তাই, তাই-ই গো...... (ওহ রিয়েলি...!)
তোমা ছাড়া আর এ জগতে...... ( ইয়েস, ইয়েস!)
মোর কেহ নাই, কিছু নাই গো...... (সিওর, সিওর...!)
এরপর...
তুমি সুখও যদি নাহি পাও...... (সো হোয়াট?)
যাও সুখেরও ও সন্ধানে যাও (নো নো নো...!!)
আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয়ও মাঝে (ইয়া ইয়া)
আর কিছু নাহি চাই গো...... (গট ইট, গট ইট!!!)
এরপর আর কিছু শোনার ধৈর্য আমার হলনা... মন চাইছিল দেয়ালের সাথে নিজের মাথা নিজেই ঠুকি!
আর সেই গানের সাথে সদ্য স্কুল পাশ করা মেয়েগুলো, ভয়াবহ কিছু পোশাক পরেছে! যেন তাদের শরীরের পুরো অবকাঠামো স্পষ্ট থাকে আর সবাই যেন এক ঝলকেই অবলোকন করতে পারে! কি যে অসহ্যতা বলে বা লিখে বোঝানোর সাধ্য আমার নাই।
মন চাইছিল সবগুলোর চুলের মুঠি ধরে কিছুক্ষণ দেয়ালের সাথে ইচ্ছেমত ঠুকি আর গরম লাল রড দিয়ে পা থেকে মাথা পর্যন্ত পিটাই!
আর রবীন্দ্রনাথ তো মরে গিয়ে বেঁচে গিয়েছে!
কিন্তু আমি বলি কি......?
রবীন্দ্রনাথ? তুই আবারো মর.........!!!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই নভেম্বর, ২০১৫ সকাল ১০:২৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



