somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বৃষ্টি সন্ধা... ও তুমি...

০৯ ই জুন, ২০১৬ সকাল ১১:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অরূপ ঘুমিয়ে ছিল... ছোটরা বারবার কানের কাছে এসে বায়না ধরতে লাগলো, মেলায় যাবে বলে...? বৈশাখের আগেই বৈশাখী মেলা...! কি আজব রে বাবা...! এই উঠি... সেই উঠি করতে করতে উঠলো শেষ বিকেলের একটু আগে। চারদিক মেঘে ছেয়ে গেছে... মাঝে-মাঝে দমকা হাওয়া, এই আছে... তো এই নেই... এই বৃষ্টিও এলো বলে... বাইরে ধুলো উড়ছে... গাছের পাতা গুলোর অস্থির উদযাপন... আম গুলোর নাচানাচি... অরূপ দেখছিল, বেড রুমের সাথে লাগোয়া বেলকনিতে দাড়িয়ে... দাড়িয়ে।

এই বৃষ্টিও এসে গেল ডানা ঝাঁপটে... অরূপ খুশী যতোটা না বৃষ্টির আনন্দে তার চেয়ে বেশী, বাইরে যেতে হবেনা সেই অলসতায়...! বৃষ্টিকে একটু ভালোবাসতে ইচ্ছে করলো... সেটাই স্বাভাবিক। মেঘ আর একটু গাড় হল... সাথে বৃষ্টিও বুঝি খুশী হয়ে আর একটু পাগল হল...! একটু ঠাণ্ডা লাগতেই অরূপ একটি গায়ে একটি টি শার্ট চাপালো। বেলকনির গ্রিল দিয়ে বছরের প্রথম বৃষ্টিতে হাত ছোঁয়াল... অদ্ভুত ভালোলাগা, যেন অরূপার ছোঁয়া...!

অরূপ মনে-মনে ভাবতে লাগলো... ইস এমন হতে পারতোনা... যে অরূপা পিছন থেকে এসে অরূপকে বেঁধে ফেলছে অরূপার দু-হাতের বাঁধনে...! ভাবতে-ভাবতে সত্যিই অরূপকে পিছন থেকে বেঁধে ফেলল, অরূপা...! তার দুই হাতের বাঁধনে...! অরূপ যেন মোহাচ্ছন্ন...! এক অদ্ভুত আচ্ছন্নতায় ছেয়ে গেল অরূপের মন... ইস ভাবনাও এমন করে সত্য হয়...!

অরূপ, অরূপার হাত দুটো হাতে নিয়ে তার চোখে ছোঁয়ায়... আবেশ জড়ানো ছোঁয়া...! নেই কোন কাম বা কামনা... এ শুধুই ভালোবাসা... সত্যিকারের প্রেম-টান-আকর্ষণ-বুঝতে পারা-পড়ে ফেলা মনের ভাষা...! কিভাবে বুঝলে তোমাকেই চাইছিলাম...! ঠিক এভাবেই...?

আমি না বুঝলে কে বুঝবে বল...? আর কেউ কি আছে নাকি...?

চল ভিতরে যাই, বৃষ্টির ছাঁট লাগছে... ভিজে যাবে তো...? আরে লাগুক না হয় একটু বৃষ্টি... ভিজুক না হয় দুই হাত... পায়ের পাতা... মাথার চুল... দুই কপোল... চোখের পাতা...! বৃষ্টিটা ধরে এলো... চল ছাঁদে যাই...! এই সময় ছাঁদ অনেক সুন্দর হবে...! আর আমাদের ছাঁদটাও বেশ... গাছে-গাছে, ফুলে-ফলে, বসার জন্য আলাদা বেঞ্চিতে সাজানো-গোছানো...! আর এখনকার বাতাসটাও খুবই উপভোগ্য... বিশুদ্ধ...! চল যাই...

এই আবার বৃষ্টি এলো...! কি আর করার... তাহলে আবার সেই বিছানা... এটাও বেশ, ঠাণ্ডা-ঠাণ্ডা... কাথা জড়িয়ে... উষ্ণতা খোঁজা...! আরে এখানেও অরূপা...! অরূপের অপলক দৃষ্টি... অরূপার দিকে...!

কি দেখছ...? অমন করে...?

তোমাকে...!

আমাকে...? আমাকে আবার দেখার কি আছে...?

নেই বুঝি.....!

এভাবে গড়িয়ে-গড়িয়ে সন্ধা নেমে এলো... সন্ধা পেরিয়ে প্রায় রাত... বৃষ্টিটা আবার ধরে এলো... এক টুকরো চাঁদও মেলে ধরলো নিজেকে... দূর আকাশে... ঢেকে দিল এক মুঠো জ্যোৎস্না...! বেলকনির ফাঁকা গ্রিল... আধ খোলা কাঁচের দরজা আর বাতাসে দুলতে থাকা পর্দা মাড়িয়ে চাঁদ তার জ্যোৎস্নার আলো ছড়ালো বেড রুমের মেঝেতে...! ঝকঝক করে উঠলো অরূপের চকচকে মেঝে... আর অরূপ গেয়ে উঠলো...

“দূর হতে আমি তারে সাধিব... গোপনে বিরহ ডোরে বাঁধিব...”

আহঃ কি অপার্থিব পার্থিবতা...! সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা না জানিয়ে পারেনা অরূপ। ধন্যবাদ এই সৃষ্টিকে... ধন্যবাদ এই সুন্দরকে আর ধন্যবাদ এই জীবনকে...! সত্যিই ছোট-ছোট সুখ আর আনন্দ গুলোই কি প্রাপ্তির পূর্ণতায় ভরা...! এক জীবনে আর কত চাই...!

ডিনার শেষ করে অরূপ ছাদে যায়, সাথে বিকেলের ছোটরা, মেলায় যাওয়ার অপূর্ণ স্বাদ, ছাদে নিলে পূর্ণতা পাবে...! ঠিক আছে চল... ছাদে বেশ কিছুক্ষণ সাথে অরূপাও আছে... পাশাপাশি দুইজন...! গাছের পাতায় হাত বুলানো... ফুলকে নাড়া দিয়ে জমে থাকা জলের বিচ্ছুরণ... রেলিং এ জড়িয়ে থাকা বৃষ্টি ফোঁটার ঝরে পড়া... ছোটদের ছোটাছুটি... নিয়ন আলোয় মায়াময় অবয়ব...! মেঘ-চাঁদের লুকোচুরি... এসবের মাঝেই অরূপ আর অরূপার হেটে-বেড়ানো, হাতে-হাত রেখে স্বপ্নের আবেশে হারিয়ে যাওয়া... অরূপার গলায় অরূপের খুঁজে পাওয়া সুখ... আলিঙ্গনে বাঁধা মায়া...! নাকি মায়ায় বাঁধা আলিঙ্গন...!

আবার বৃষ্টি এলো সবাই চলে গেল... বসে রইলো অরূপ আর অরূপের, অরূপা...! ছাদের ভিতর ছোট্ট ছাদের নিচে। ছুঁয়ে-ছুঁয়ে একে অন্যকে... কত-কথা, কত-গান, কত-স্বপ্ন আরও কত কি......! বাসার মেয়েটির বুদ্ধি কত চা নিয়ে এলো...! এই বৃষ্টির ভিতরেই... ছাদে...! নাকি অরূপার বুদ্ধি...! কিন্তু অরূপা জানলো কি করে যে এখন একটু চা বা কফি পেলে বেশ হত...!

বাহ, ছাদের ফুলের টবে জলে থাকা নিয়ন আলো... আকাশে বিদ্যুতের চমক... ঝমঝমে বৃষ্টি... দমকা হাওয়া... সামান্ন ভিজে যাওয়া চুল আর গাল সাথে আবারো এক অ-পার্থিবতার, পার্থিবতায় আগমন... এর চেয়ে সুখের আর কি আছে...! চায়ে কি চিনি কম হল... অরূপার জিজ্ঞাসা...?

নাহ... তোমার ছোঁয়া চায়ে কি আর চিনি লাগে বল...!

তোমার একটু বেশী-বেশী... এতো বেশী ভালোনা...!

চল অনেকক্ষণ হল... চল, এবার নিচে যাই... চোখের বালি দেখবো... কাপ গুলো নাও......

হ্যাঁ চল...... অরূপ চায়ের কাপ হাতে নিয়ে সিঁড়ির কাছে গেল... কিন্তু অরূপা কোথায়...? এখানেই তো ছিল...! কোথায় গেল এক নিমিষেই...? নাকি ভ্রম... ঘোর... কল্পনা... অরূপাকে ঘিরে অরূপের ভাবনার আলপনা...!

হাঁয় অরূপা তুমি জানলেনা...! তোমায় নিয়ে অরূপের গভীরতা...! অরূপের জাল বোনা...! অরূপের ব্যাকুলতা...!

খুঁজে না পেয়ে আর বিকেল থেকে রাতের এই মোহাচ্ছন্নতা ভেঙে... অবশেষে অরূপ সেই গান, গুনগুনাতে নেমে গেল... নিচে,
ফিরে গেল বাস্তবতায়.........!

“দূর হতে আমি তারে, সাধিবো... গোপনে বিরহ ডোরে, বাঁধিব...”
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জুন, ২০১৬ সকাল ১১:২১
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝর্ণা জল

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:২১


আমি ব্যস্তবতা দেখি
পানকৌড়ির সাঁতার-
কল্পনায় শুধু স্বপ্ন আঁকি,
মধ্যবিকাল ঢেউ তোলা সাগর
হতাশা ডিঙিয়ে যায়- নিরিবিলি
রাত দুপুরের বাসর।

উড়ে ধোয়া, নিঃশ্বাসে সাদা বক,
খেলা করে যে, প্রণয়ের চক-
নীল মেঘ ভীর জমায়, বর্ষা কাঁদাময়,
ভোরের ক্লান্তি দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×