somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বোকা! বাবার, দুর্ধর্ষ ছেলে......!! (আজ নাকি বাবা দিবস! তাই এই লেখা!!)

১৯ শে জুন, ২০১৬ সকাল ১১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তখন ক্লাস টু বা থ্রি তে পড়ি, ঈদের কয়েকদিন আগে, আমরা নানু বাড়ি যাব, আমি, আব্বা আর আমার ছোট বোন, এই তিনজন, কোন এক কারনে আম্মা পরে আসবে। সেই সময়...... ট্রেনে উত্তর বঙ্গ যেতে হত ময়মনসিঙ্ঘ-জামালপুর-বাহাদুরাবাদ হয়ে...তিন ঘণ্টার যমুনা নদীর স্রোতের বিপরিতে পেরিয়ে, যা প্রচুর সময় সাপেক্ষ এবং ছোট বাচ্চাদ্র নিয়ে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল এই জন্য যে...... ওই সময় ওই অঞ্চলে প্রচুর ডাকাতের উৎপাত ছিল, খুব কম ট্রেন এবং তার যাত্রীরাই রেহাই পেয়েছেন এই যন্ত্রণা থেকে। সেটা আম্মা বেশ ভালোভাবে জানতেন, তাই আব্বাকে বারবার বলে ও বুঝিয়ে দিয়েছেন এইসব ডাকাতের ঝামেলা ও সে ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ে দুটো নিয়ে কি করনীয়......সেই সব......

মনে আছে, আম্মা অনেক খাবার দিয়েছিলেন সাথে করে... পরটা, মাংস, ভাজি, অনেক পানি ও শুকনো খাবার...... যথারীতি গাড়ি চলছে...... ট্রেন লেট হতে, হতে একসময় সকালের ট্রেন জামালপুর পৌঁছালে সন্ধার পরে, সেখানে আরও ঘণ্টা খানেক থেকে ছাড়ার পরে, যথারীতি ঘটলো সেই অনুমেয় বিপত্তি, ডাকাত পড়লো ট্রেনে, আজ এতো দিন পরে মনে হচ্ছে, ট্রেন যেন পরিকল্পিত ভাবে ডাকাতদের জন্যই অতক্ষণ জামালপুরে দাড়িয়েছিল......

যাইহোক, ডাকাতরা বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন রসদ নিয়ে আমাদের কাছে এলো...... আব্বার সাথে বাকবিতণ্ডার শেষে আমাদের দুই-ভাইবোন কে দেখে, কিছুটা দয়া করেই বোধয় কিছু নিলনা! ফিরে যাচ্ছিল... এই সময় হঠাৎ একজন...... ট্রেনের বাঙ্কারের উপরে রাখা আমাদের খাবার টিফিন ক্যারিওর আর ব্যাগ নিয়ে, চলন্ত ট্রেনের দরজা দিয়ে লাফ দিলেন, মুহূর্তের ভিতর ব্যাপার টা ঘটে গেল, কেউ, কিছু বুঝে ওঠার আগেই...... আর আমাদের আব্বাও ডাকাতের পিছনে ছুটে ধরার জন্য লাফ দিতে উদ্ধত হলেন......!!

অন্য যাত্রীরা তাকে জড়িয়ে ধরে পথ আটকালেন আর বললেন “আপনি যে লাফ দিচ্ছিলেন, আপনি কি আর উঠতে পারতেন?? আর আপনার ছোটছোট ছেলেমেয়ে দুটোর কি হত? মানুষ এতো বোকা কিভাবে হয়! এইবার তিনি থামলেন, তার বোধোদয় হল, আমাদের জন্য, অন্য যাত্রীদের কথা...... হাঁয় আব্বা, আপনি এতো বোকা কেন......? এখনো প্রশ্ন করি, প্রায় প্রতিদিনি, খেতে বসে, গল্প করতে বসলে আর আমাদের আব্বা বোকার মতই চেয়ে থাকেন...

আব্বার বোকামি এখানেই শেষ হতে পারত এবং তাই হওয়া উচিৎ ছিল, যদি বোকা না হয়ে সরল হতেন...... কিন্তু ওই যে বলেছি বোকা, সরল নয়! তার প্রমান ওই একই যাত্রায় পরের দিন.........

এভাবে প্রায় দের দিন পরে, অন্য যমুনার অন্য পারে পৌঁছে যেটা করলেন সেটা আরও ভয়াবভ...... যেহেতু আমাদের খাবার ডাকাতরা নিয়ে গেছে, সেহেতু আব্বা, আমাদের দুই ভাইবোন কে একটি ট্রেনে বসিয়ে রেখে, খাবার কিনতে গেছেন...... একটু পরে ট্রেন টি ছেড়ে দিল! কি করবো? এখন...... আব্বাতো ফেরেনি! আমি, আমার বোনের হাত ধরে, দুই ভাইবোন মিলে ট্রেন থেকে লাফ দিলাম!! এবং বসে রইলাম, ওখানেই, আব্বা না ফেরা পর্যন্ত...... আমার ছোট বোন কাঁদছে আর আমি রাগে ফুঁসে উঠছি আব্বার উপর......

কারণ যে ট্রেনে আব্বা আমাদের রেখে গিয়েছিলেন, সেটা আমাদের গন্ত্যব্যের ঠিক উল্টো দিগের ট্রেন! এরপরে ওখানেই আর একটা ট্রেন এসে দাঁড়ালো, আমি গার্ড কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম “এই ট্রেন কোথায় যাবে?” গার্ড বলল, পার্বতীপুর, আমাদের গন্ত্যব্যে...... অনেক্ষন পরে আব্বা এসে জিজ্ঞাসা করলেন...... সেই আমরা নিচে, এখানে কেন? আর সেই ট্রেন কোথায়......!!!!

সেদিন থেকে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, জীবনে আর যাই হই, কখনই, কখনই, কখনই আমার বাবার মত হবনা! হাঁয় আব্বা, আমার জানা মতে, আপনিই বোধয় পৃথিবীর একমাত্র বাবা যার ছেলে তার বোধের আগে থেকেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আপনার মত বোকা বাবা হবেনা.........

কি হত আজ, যদি সেদিন হারিয়ে যেতাম...... কি হত আমাদের দুই-ভাই বোনের? কোথায় থাকতাম আমরা? কে হত আমাদের বোকা আব্বা? এটা তো সিনেমা নয়, যে একদিন খুঁজে পেতাম!

সেই থেকে আমি দুর্ধর্ষ......

সব কিছুতে, চাওয়া-পাওয়ায়, আশা-আকাঙ্ক্ষায়, স্বপ্নে-বাস্তবতায়, ছিনিয়ে নেওয়ায়............

আজ আমার ছেলে সব কিছুতেই আমার মত হতে চায়...... আমি বলি, তুই হ, আরও দুর্ধর্ষ.........

সবকিছুতেই, আমার চেয়েও......... পাহাড়ে, জঙ্গলে, সমুদ্রে, সাহসে আর অপার ভালোবাসায়.........

ছিনিয়ে নিস সবকিছু, তোর মত করে.........

তোর বাবার চেয়েও দুর্ধর্ষ হয়ে.........
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০১৬ সকাল ১১:৫০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×