somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তপন রায়চৌধুরীর “রোমন্থন অথবা ভীমরতিপ্রাপ্তর পরচরিতচর্চা” থেকে কয়েকটি উদ্ধৃতি

২৯ শে আগস্ট, ২০১৪ ভোর ৬:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


বইটি পড়ে যথেষ্ঠ আমোদ লাভ করলাম। প্রগাঢ় রসবোধের বুননে ঠাসা খাস বরিশাইল্যা ভাষায় তাঁর এই আত্মকথন। তার থেকে কিছু বিক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি দেবার লোভ সংবরন করতে পারলাম না। তাঁর জবানীতে নীচে কিছু উদ্ধৃতিঃ

ফার্সির মৌলবী সাহেবের কাছে ফারসী গদ্য-পদ্যর সরল বঙ্গানুবাদ শুনে শুনে ভাষাটা রপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ‘দেলশ্‌ বোলন্দ্‌ বুদ্‌’ কথাটির ব্যাখ্যা করতেন, “বোZলা ত? তেনার দেল খু্ব বোলন্দ আছেলে।”
বুঝতে আর কিছু বাকী থাকতো না। সব প্রাঞ্জল হয়ে যেত। শেখ সাদীর গোলেস্তাঁর একটি আপ্তবাক্য বড় সুন্দর বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। “দরুগ্‌-এ মেছ্‌লেহত্‌-আমিজ্‌ বেহ্‌ আজ রাস্‌ত-এ ফেত্‌নাহ্‌-আনগিজ্‌ (বঙ্গানুবাদঃ যে মিথ্যাকথায় সম্প্রীতি বাড়ে তা সত্যকথার চেয়ে ভাল)।”

“বোZলা তোমরা? শেখ্‌ সাদী কইথে আছেন, যে দরুগে মেছলেহত চাইগা ওডে হ্যায়া ফেত্‌নাহ চাগাইন্যা হাচা কথার চাইয়া অনেক ভাল।”


সংস্কৃত পন্ডিত মশায় শিখিয়েছিলেন পৃথিবীর যে কোন ভাষার শব্দ সংস্কৃতে ধাতুগত ব্যাখ্যা করা যায়। যেমন, “মূলং জানাতি ইতি মৌলানা”, “ইস্টং পিনদ্ধি ইতি ইস্টুপিড।” ...আরেকটি শ্লোক তিনি বলতেন,

"শীতেতে কাঁকুড়ি-মাকুড়ি মাঘ মাসস্য রাত্রৌ
কন্থাং ভারে বাপুরে মাগোরে লইয়া আয়ো চায়ের পাত্রৌ"।
ব’লে বলতেন, “ ‘পাত্রৌ’ কেন বোঝলা?”
উত্তরঃ “না।”
প্রত্যুত্তরঃ এয়াও বোঝলা না? দ্বিবচন! নরঃ নরৌ নরাঃ। মাঘ মাসের রাত্তিরে এক পাত্তর চায়ে হইবে কি? হেইয়ার লাইগ্‌গা ‘পাত্রৌ’।

শেষ আরেকটি উদ্ধৃতিঃ

...মেঘ যে আরো ঘন হয়েছে সে কথা বুঝলাম যখন সবাই বলতে লাগলো যুক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী আমাদের সর্বজনপ্রিয় হক সাহেব, অর্থাৎ শের-ই-বাংলা ফজলুল হক শত্রু পক্ষের লোক। বরিশালের স্টিমার ঘাটে নেমে, জনসংযোগের উদ্দেশ্য নিয়েই বোধহয়, উনি পায়ে হেঁটে অনেক দূর অবধি যেতেন। অনেক সময়ই পথে আমাদের বাড়িতে থেমে কিছুক্ষণ গল্প করতেন। ... তাঁর বিশাল বপু সাধারণ চেয়ারে ভালো আঁটতো না। তাই উনি বাড়ি এলে জাঁদরেল সাইজের একটি চেয়ারে উনাকে বসতে দেয়া হতো। বরিশালের আর পাঁচজন ভদ্রলোকের মত উনিও স্পষ্ট বরিশালীতে কথা বলতেন, ভিক্টরিও ন্যাকামির ধার ধারতেন না। রাজনীতির খাতিরে উনি একাধিকবার দল বা জোট বদল করেছেন। যে ঘটনার কথা বলতে যাচ্ছি সে ঘটনার সময় উনি মুসলিম লীগের পক্ষে। কৃষক প্রজা দলের ছাত্ররা স্টিমার ঘাটে কালো নিশান নিয়ে বিক্ষোভ দেখাবার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। ...গণ-সমর্থকদের শেখানো হয়েছে, হক সাহেব স্টিমারের সিঁড়ি বেয়ে নামলেই তারা নিশান আস্ফালন করে “Shame! Shame!” বলে ধিক্কার দেবে। কিন্তু ব্যাপারটা একটু গোলমাল হয়ে গেল। ঐ বাঘের মত মানুষটিকে সামনে দেখে নিশানবাহীরা পালাবার পথ পায় না। ছাত্রনেতারা উস্কাচ্ছেন, “চুপ করিয়া ক্যান? ক’, চ্যাঁচাইয়া চ্যাঁচাইয়া ক’।” অতি সঙ্কোচে মুখ হাতে ঢেকে বিক্ষোভকারীরা শ্রীরাধিকার মত নরম সুরে বললো, “শ্যাম! শ্যাম!” হক সাহেব মুচকি হেসে এগুলেন। পরবর্তি স্টপ আমাদের বাড়ি। সেখানে ওর বাল্যবন্ধু ইন্দুভূষন গুপ্ত বসে আছেন সদলেঃ “আইজ আউক! ফজলুরে আইজ ধোয়ামু”- অর্থাৎ সস্নেহ গালিগালাজের তোড়ে শের-ই-বাংলাকে উনি ধৌত করে ছাড়বেন। হক সাহেব ধীরে সুস্থে পাপোষে পা মুছে বৈঠকখানা ঘরে ঢুকলেন। ঢোকা মাত্র ইন্দুবাবুর আক্রমণঃ “ফজলু, তর লইগ্‌গা ভদ্দরসমাজে আর মুখ দ্যাহান্‌ যায় না।” হক সাহেব গভীর সহানুভূতির দৃষ্টিতে বাল্যবন্ধুকে দেখলেন একটুক্ষণ। তারপর বললেন, “হেইলে ত তর বড় মুশকিল! ভদ্দরসমাজে মুখ দ্যাহাইতে পারিস না? তয় হোগাটা দেহাইস।” এই ঋষি বাক্যের পশ্চিমবঙ্গানুবাদ আর দিলাম না। :)
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেখে শূন্য চাকত

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২


কেমন করে সাজাও তুমি?
কলমের সাথে- খাতার প্রেম,
মাটির সাথে মৃত্যুর লাশ,
ঘাসের গায়ে ঘাসফড়িংর কাশ।
শেষ বিকালে ভাবনার সাথে
চিন্তার হয় রে অবকাশ-
সবিই যেনো শূন্যে প্রেমে আশ
হাত গুটানো-জীবনের নাশ;
বাস্তবতার হয় নির্দয় স্বার্থপর
সময়ের শুধুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×