somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প : উনি আমার বয়ফ্রেন্ড

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১০:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ক্লাসরুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে মেয়েটি সিঙাড়া খাচ্ছিল । আমরা পাঁচজন মেয়েটির ক্ষাণিকটা দূরেই । মেয়েটি দেখতে বেশ সুন্দরীই বলা চলে । চুলগুলো ভীষণ সুন্দর ! খোলা চুল । মৃদু হাওয়ায় চুলগুলো দুলছে । তবে আমার কাছে মেয়েটিকে ভীষণ দেমাগী মনে হচ্ছে । আমরা পাঁচ-পাঁচটা ইয়াং ছেলের সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটি সুন্দরী মেয়ে; অথচ আমাদের কারো দিকেই মেয়েটির কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই । অন্যদিকে ফিরে আপন মনে সিঙাড়া চিবাচ্ছে । উফ্‌, অপমান, স্রেফ অপমান !
আমি, অভি, সুদীপ, সৈকত— আমরা সবাই এক এক করে দৃষ্টি সরিয়ে নিলাম । কেবল আদিত্যটা এখনো তাকিয়ে আছে । অপলক মেয়টির দিকে তাকিয়ে আছে । এই তাকিয়ে থাকার রহস্য আমরা সহজেই অনুমান করতে পারি ।
‘চল্‌ সালমান, চল্‌ সুদীপ , চল্‌ তোরা সব । এইখানে দাঁড়ায়া দাঁড়ায়া এই ঢঙ্গিলার ঢং দেখার চেয়ে মুরাদ চত্বরে গিয়া বিড়ি টানি । সেটাই আরামদায়ক । চল্‌, চল্‌ ।’ অভি আমাদেরকে তাড়া দেয় ।
‘চল্‌ , চল্‌ ।’ আমি সায় দিই ।
‘না, না— আর একটু , একটু... প্লিজ ।’ আদিত্য আমাদেরকে আটকে রাখতে চাইছে ।
‘আরে মাম্মা, এইভাবে অনাহারী অর্ধহারী কাউয়্যার মত তাকায় থাইক্যা প্রেম হয় না । ওটার জন্য বুকের ফাটা লাগে, বুঝলা, বুকের ফাটা ।’ সুদীপ আদিত্যকে খোঁচা দেয় ।
‘ কী কইতে চাস্‌ তুই ! আমার বুকের ফাটা নাই ? এক্ষন, এই মূহূর্তে মেয়েটারে আমি প্রফোজ করুম । বাজি ?’
‘ওকে বাজি ।’
‘কত ?’
‘কত ফত না । আমি এক বসায় পাঁচ স্টিক গাঞ্জা টানুম একলা ।’
‘ আচ্ছা, গাঞ্জার টাকা দিবে কে ?’ অভি মাঝখান থেকে বলে ।
‘আমার পকেটের টাকা দিয়াই কিনুম ।’ সুদীপ বুক ফুলিয়ে বলে ।
‘ওকে, ওকে । দেখা যাইব কেমন পারেন আপনে ।’ আদিত্য প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলে । মনে হয়, বাজিতে জিতেই গেছে ।
‘ তোরা আসলে কী শুরু করছোস্‌ ! আর কোনো ধান্দা-ফান্দা খুঁজে পাস্‌ না ? একজনে প্রফোজ করবে, আর একজন বিনিময়ে একাই পাঁচ স্টিক গাঁজা টানবে । ফালতু যত্তসব !’ সৈকত বিরক্ত ।
‘আচ্ছা, আচ্ছা— সবই বুঝলাম । মেয়েটি যদি আদিত্যের প্রফোজে রাজি না হয়, তখন কী হইব ?’ অভি একটা পয়েন্টের দিকে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে ।
‘আরে প্রফোজ করা পর্যন্তই কথা । রাজি বেরাজির কথা আসল ক্যান !’ আমি মতামত দিয়ে সুদীপের দিকে দৃষ্টি ফিরাই ।
‘না, না— তা আমি মানমু না । রাজি না হলে তো আদিত্য হাইরাই গেছে । বালের হিসাব নিয়া আছো তুমি ।’ সুদীপ ক্ষেপে উঠে ।
‘ওকে ফাইন । রাজি না হলে তোমার গাঞ্জা টানা লাগব না ।’ আদিত্য সুদীপের আপত্তি মেনে নেয় ।

মেয়েটির সিঙাড়া চিবানো শেষ । সিঙাড়ার খালি প্লেট হাতে নিয়ে ক্যান্টিনের দিকে হাঁটা ধরল ।
‘এই শুনো ।’ আদিত্য মেয়েটিকে ডাক দেয় ।
মেয়েটি এদিক ওদিক তাকিয়ে আমাদের দিকে দৃষ্টি ফেরায় । এক -পা দু-পা করে এগিয়ে আসছে মেয়েটি । ভীষণ ঘামাচ্ছে আদিত্য । হাত-পা দুটোও একটু একটু কাঁপছে ।
‘এক্সকিউজ মি, আমাকে ডেকেছেন ?’ মেয়েটি হাসি মুখেই জিজ্ঞেস করে ।
‘হ্যাঁ । তোমাকেই । তোমাকে বলব বলে অনেক কথাই বুকে জমে আছে, অনেক কথা...’ আদিত্য ঠিক মঞ্চনাটকের অভিনেতার মত রোমান্টিক সুরে টেনে টেনে বলে ।
‘মানে ? চিনি না, জানি না— এর আগে ক্যাম্পাসে কোনোদিন আপনাকে দেখেছি বলেও মনে হয় না; আর আপনার বুকের ভিতর নাকি আমাকে বলবেন বলে কথার বন্যা বইছে ! তো বলেন শুনি, আপনার অনেক কথা ।’ মেয়েটির হাবভাব একটু বেগতিক । তবে আমি এখনো আশান্বিত । আদিত্যেরই জয় হবে ।
আর কিছু না বলে আদিত্য হুট করে মেয়েটির হাত ধরে ফেলে ।
‘স্টুপিড কোথাকার !’ হাত ছাড়িয়ে নিয়ে মেয়েটি সোজা আদিত্যের গালে একটা চড় কষিয়ে দেয় ।
‘লম্পট, এত্ত সাহস ! কাকে টাচ করেছিস জানিস ?’ মেয়েটির চোখ-মুখ থেকে যেন আগুনের ফুলকি ঝরে পড়ছে ।
‘চিনিস উনারে ? উনি আমার বয়ফ্রেন্ড । জানতে পারলে তোর এই হাত ... শুয়ার !’ ভবনের মেইনগেটের দেয়ালে একটা পোস্টারের দিকে মেয়েটি আঙুল তোলে ।
পোস্টারে একটা বিরাট মানবমূর্তি । শ্যামল দত্ত । ওয়ান অফ দি মোস্ট পাওয়ারফুল পলিটিক্যাল লিডার এই ক্যাম্পাসে । সর্বনাশ ! এ কোথায় হাত দিল আদিত্য । আমরা সবাই আতঙ্কিত ।
আদিত্য মাথা নীচু করে আছে । আমরা সবাই চুপচাপ দাঁড়িয়ে জর্জরিত আদিত্যের আপমানের দৃশ্যটা প্রত্যক্ষ করছি ।
‘নেক্সট টাইম এমন বাজে ডিস্টার্ব করলে...’ কথাটা শেষ না করেই মেয়টি হন হন করে হেঁটে চলে যায় ।

পরাজিত আদিত্য এখনো মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে । টুপ টুপ করে চোখ থেকে অশ্রুফোঁটা ঝরছে । আমাদের অন্য কারো চোখে অশ্রু না থাকলেও ভিতরটায় একটা জমাট কান্না অনুভূত হচ্ছে । বাজিতে বিজয়ী সুদীপের মুখেও বিন্দুমাত্র হাসির চিহ্ন নেই । সেও ভয়ানক বিমর্ষ ।
মুখ তুলে আমাদের দিকে তাকায় আদিত্য । আমি মানুষের এমন বিধ্বস্ত মুখ এর আগে কোনোদিনও দেখে নি । অশ্রু মুছে একটু হাসে আদিত্য । এই হাসির আড়ালে আমি ভয়ানক একটা কষ্টের দাবনল দেখতে পাচ্ছি । হয়ত আরো বহুকাল আদিত্যকে এই দাবনলে পুড়তে হবে ।

এই ঘটনার পরে আমি শ্যামল দত্তকে বহুবার দেখেছি ক্যাম্পাসে। মেয়টিকেও দেখেছি । তবে কখনো শ্যামল দত্তের সাথে মেয়েটিকে দেখতে পাই নি ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×