somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পথে ঘাটে পর্ব (১৩)

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৪:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




সে বাসে ওঠার পরপরই পুরো বাস সজাগ হয়ে গেলো, কেউ কেউ সাইট টক, হাল্কা পাতলা ইভটিজিং ও করতে লাগলো, কিছুতেই ভুক্ষেপ নাই তার, বলা যায় এক রকম চিৎকার করেই কথা বলছে সে, ‘অ্যাই ফোন রাখবেনা ফোন রাখবেনা বলছি আমার কথা শোনো তুমি, তুমি আমার কত্থা না শুনে ফোন রাখবেনা, ওকে আমি স্ক্রিন শট পাঠাচ্ছি তোমায়, হ্যাঁ এক্ষুনি, ফোন রাখবেনা।’
খুবই উত্তেজিত কথোপকথন, আশেপাশের দুই একটা কম বয়সী ছেলেরা হাল্কা পাতলা টিজিং করে চুপ হয়ে গেলো, সবার মনে হচ্ছে ঘটনা খুবই সিরিয়াস, সবাই অপেক্ষা করছে নেক্সট কি নেক্সট কি, সবার ভেতর টান টান উত্তেজনা।
ও এসে বসলো আমার পাশেই, কলেজের ড্রেস পরনে, কাধে ব্যাগ, লম্বা শুকনা মেয়েটা খুবই আপসেট, সবাই মেয়েটি আমার পাশে বসায় আরও আগ্রহ ফিরে পেল, এটা হয়তো আমার চেহারার দোষ, আমার চেহারায় রাগী ভাব প্রবল।
ওর পাশে সত্যিই টেকা যাচ্ছিলো না! ওর কথার আওয়াজে! মেয়েটি খুবই চিৎকার করে কথা বলছিল।
ভাবলাম আমি যদি ওকে আস্তে কথা বলতে বলি আমার সাথে না আবার ঝগড়া বেঁধে যায়, সত্যি আমার কান ফেটে যাচ্ছিলো ওর কথার আওয়াজে, তবু আমি অনেক ধৈর্য ধরে চুপ করে রইলাম, পেছনের সিট থেকে মেয়েটিকে নিয়ে ফিসফাস হাসাহাসি, সারা বাসে আমরা মোটে দুটো মেয়েই, তার মধ্যে মেয়েটির কথা গুলোতেও এত আনইজি লাগছিলো,
কি বলতেছ তুমি! আমি ওই ছেলের কি বলছি ? তুমি নিজে কানে শুনছ! কি বললা? ওরে আমি ফোন দিছি! তুমি বিশ্বাস কর আমারে, আর একটা কথা বলবে না, আমি কিন্তু ছাইরা কথা বলুম না, তুমি লাইনে থাকো আমাদের দুই বছরের সম্পর্কের কসম তুমি ফোন রাখবেনা, আমি স্ক্রিন শট দিতেছি।
মেয়েটির হাত কাঁপছে ও ফোনের ভলিউম সাইড আর মাঝের অংশে একসাথে ক্লিক করতে পারছেনা তাই স্ক্রিন শট ও নিতে পারছেনা, বার বার চেষ্টা করছে সাথে আনলিমিটেড ঝগড়া চলছে, আমি বললাম আমি স্ক্রিন শট নিয়ে দেই?
মেয়েটি পাশ ফিরে চাইলো এবং এই প্রথম সে আমাকে দেখল কিছুটা বাস্তবেও ফিরে এলো, একটু নরম গলায় ছেলেটিকে বলল আমার পাশে এক আপু বসেছে সে স্ক্রিন শট নিয়ে দিচ্ছে, একটু অপেক্ষা কর।
ঝগড়া বন্ধ হল তাদের। ঠাণ্ডা হয়ে ফোন রাখল, মন খুব খারাপ খানিকটা চিন্তিত, বিপর্যস্ত, ক্লান্ত।
বললাম সম্পর্কে ঝগড়াঝাটি থাকবেই।
মেয়েটি মুখ খুলল আজ সকালে বাসা থেকে বের হইছি পরিক্ষার কথা বলে, ওর ভাই এর বিয়ের কেনা কাটা করতে যমুনা গেছিলাম, ফিরবার পথে লাগছে ঝগড়া, ও আমার মোবাইল রেখে দিছে, আর ওর একটা মোবাইল আমাকে দিয়ে দিছে,
-কেন তোমার ফোন রাখছে?
-কি জানি আপু, ওর মনে খালি সন্দেহ। এখন ওর মোবাইলে ওর কাজিন না কে জানি কথা বলছে আমার সাথে, সেই নিয়া আবার তার হাজার সন্দেহ।
- কতদিন হল রিলেসনের?
- ২ বছর
- অনেক দিন
- হুম, আমার আব্বা বাদে বাসার সবাই জানে।
- তোমার ফোনে যদি তোমার আব্বা ফোন দেয় আর ও যদি ধরে ফেলে?
- তাই তো!!!
আবার ফোন করা স্টার্ট, আবার খানিকটা ঝগড়া। ফোন রেখে দীর্ঘনিঃশ্বাস।
- কই পড়?
- রাজউক কলেজে, ইন্টারে,
- ও কই পড়ে?
- এ আই ইউ বি তে। বি বি এ, বাসায় একটা ফোন করা দরকার , সেই সকালে বের হয়েছি, যেই জ্যাম রাস্তায়। যেতে তো টাইম লাগবে, এখন আমি কি যে করি,
- ওর মোবাইল থেকেই কল দাও, দিয়ে বল বাসার কাছাকাছি চলে আসছ, মোবাইলের দোকান থেকে ফোন দিছ, তাহলেই হবে,
মেয়েটি তাই করলো, বাকী পথ সে আমার সাথে অনেক অনেক গল্প করতে করতে ফিরেছিল। নামতে নামতে বলল
যাই আপু কথা হবে,
আমি চেয়ে আছি।
নিজের ভুল বুঝল আবার বলল দেখা হলে কথা হবে,
মৃদু হাসলাম
সে কিছুটা এগিয়ে গিয়েছিলো। প্রায় দৌড়ে আবার আমার কাছে ফিরে এলো, যেমনটা আমরা ফিরে যাই প্রিয় মানুষের কাছে, এসে বলল আমরা তো একি দিকে থাকি, পথে চলতে চলতে দেখা তো হবেই । আমি হাসলাম ।

আজকাল কার প্রেম ভালবাসার সম্পর্ক গুলো কেন যে এত জটিল হয়!!!!!

বিঃ দ্রঃ এটা কোন গল্প নয় আমার জীবনে পথে ঘাটে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা।

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই নভেম্বর, ২০১৬ সকাল ১১:৪০
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×