
রফিক আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারবোনা।
আমিও জান আমিও, খুব আবেগ দিয়ে মেয়েলি আর আহ্লাদী গলায় একটু জিহ্বায় বাজিয়ে উত্তর দেয় রফিক, আমিও তোমাকে ছাড়া এক মুহূর্ত বাঁচতে পারবোনা জান পাখি। খুশি হয় ফারিয়া; বলে, যতদিন বেঁচে থাকি যেন একসাথে বাঁচি। আর মরে গেলেও যেন একসাথে মরি। আল্লাহ যেন আমাদের এক সাথে মরন দেয়, আমি তো সারাক্ষন আল্লাহর কাছে এই কথা বলি, তুমিও বলবা ঠিকাছে রফিক??
বলবো বলবো কাঠ খোট্টা জবাব দেয় রফিক। মনে মনে ভাবে কার মরন কোথায় কীভাবে হয় ঠিক আছে! যদি এই মেয়ে আগে মরে আমার কি ঠেকা লাগছে এর সাথে মরার! আজাইরা যত্তসব। ফাজিল মেয়ে আল্লাহর কাছে যত খুশি নিজের মরন চেয়ে আন, আমারটা চাস ক্যারে!
রিক্সায় করে বেড়াতে যাচ্ছিলো ওরা, যেতে যেতে রিক্সাটা হঠাৎ লাগলো একটা অটোর সাথে ধাক্কা, রফিক ধরে ফেলবার আগেই ফারিয়া ধাক্কা সামলাতে না পেরে নিচে পরে গেল, পরেই শব্দ করে কান্না জুড়ে দিলো পা পা করে, কাছে এগিয়ে গেল রফিক। জান কলিজা ময়না পাখি কি হইছে?? বেশি ব্যাথা পাইছ!!? তোমাকে এখুনি হসপিটালে নিয়ে যাব চল! ধরতে যেতেই ফারিয়া আরও জোরে কান্না জুড়ে দেয়, আচ্ছা ফাজিল মেয়ে তো চারপাশে লোকজন জমে যাচ্ছে যে!! আরে!! একটু দূরে কয়েকটি মেয়ের সাথে ওটা টুম্পা না!? (টুম্পা রফিকের ছোট বোন) ও তো দেখছি এদিকেই এগিয়ে আসছে!!!
এইরে টুম্পা যদি দেখে ফেলে বাসায় গিয়ে মাকে বলে দিলেই সেরেছে, মা বলবে এই জন্যই তো বলি পড়াশুনা মাথায় উঠেছে কেন!! এখুনি এই বয়সে মনে এত প্রেম জাগছে!!চল তোরে বিয়া করাইয়া দেই তাইলে, কি বলিস!!
ওহ! রফিক আর কিছু ভাবতে পারছেনা!! ঝট করে আস্তে আস্তে ভিড়ের ভেতর হারিয়ে যেতে যেতে একছুটে সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসে ও!
এত দূর থেকেও ফারিয়ার বিলাপ শোনা যাচ্ছে!! মেয়ে তো নয় যেন ডাইনী একটা!! কোন নরমাল মেয়ে এত জোরে চিৎকার করতে পারে নাকি!!! মাইকের আওয়াজ ও তো এত দূরে আসতো না!!!।


অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

