somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কোনো নারীর দিকে ১৪ সেকেন্ড তাকালেই শাস্তি!???

১৭ ই আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৪:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পত্রিকায় শিরোনাম দেখে আমি উচ্ছ্বাসিত এবং খুশি হয়ে পুরো প্রতিবেদনটা পড়ে আর উচ্ছ্বাসিত ব্যাপারটা রইলো না, কারন কথাটা আমাদের দেশের জন্য নয় এবং এই ধরনের কোন আইন ওই দেশেও নেই, ভারতের এক পুলিশ কর্মকর্তার এটি উক্তি মাত্র,

আমি পথে ঘাটে রোজ এই ঘটনার শিকার হই, এবং ওই মুহূর্তটা পার হতে হতে যেন আমি জাহান্নাম অতিক্রম হচ্ছি এমন অনুভব হয় মাথা নষ্ট হতে হতে ভাবি এই বুঝি গন্তব্বে পৌঁছে যাব, একজন পুরুষ যখন আমার মুখের দিকে খুব খারাপ চোখে আমায় দেখতে থাকে এর থেকে নিরব অত্যাচার আর কিই বা হতে পারে!! কেউ হয়ত ভাবতে পারেন আপনি কি করে জানলেন লোকটি আপনার দিকে খারাপ মনোভাব নিয়ে তাকিয়ে আছে! এক্ষেত্রে আমি বলবো মানুষের মনের ভাব ৮০ ভাগ তার চেহারায় ফুটে ওঠে, খুব চালাক এবং খুব বুদ্ধিমানরা হয়ত কেউ কেউ তা গোপন করতে পারে তাই বলে সবাই নয়। আর মেয়েদের একটা বাড়তি ক্ষমতা হয়ত প্রকৃতিগত পেয়েই থাকে যে পুরুষের কু – মনোভাব এর দৃষ্টি ধরতে পারা। তাছাড়া এ কেমন কথা হল বিনা কারনে ঘণ্টা ব্যাপী অচেনা পুরুষ আমাকে দেখতেই থাকবে আর তাকে কিছু বলা ও যাবেনা। কখনো কিছু বলিনি তা নয় বলেছি এবং তার উত্তর আরও আরও বিব্রতকর।
১।তাকিয়ে আছেন কেন?
-আপনাকে দেখি।
২। তাকিয়ে আছেন কেন?
-ইচ্ছা
৩। তাকিয়ে আছেন কেন?
- আল্লাহ চোখ দিছে তাকানোর জন্য, চোখ বন্ধ রাখার জন্য নয়।
কিন্তু আমার দিকে তাকিয়ে আছেন কেন?
- আপনার সমস্যা? বেশি সমস্যা হইলে প্রাইভেট কারে যান।
এই প্রাইভেট কারে যান কথাটা আজকাল যেন চল হয়ে গেছে,
এখানেও এই জাতীয় কিছু কথা উল্লেখ না করলেই না, যেমনঃ
১। তাকিয়ে আছেন কেন?
- প্রাইভেট কারে যান।
২। একটু সরে দাঁড়ান না
- প্রাইভেট কারে যান
৩। আপনি আমার গায়ের সাথে গা লাগিয়ে বসে আছেন
- প্রাইভেট কারে যান
৪। এটা মহিলা সীট তো?
- প্রাইভেট কারে যান
৫। ধাক্কা দিচ্ছেন কেন?
- প্রাইভেট কারে যান
আমি একদিন এক কুল হ্যান্ডসাম ছেলেকে বললাম বাসে পুরো জায়গা খালি রেখে আপনি আমার সীট ধরে ঝুকে দাঁড়িয়ে আছেন কেন আমার বসতে কষ্ট হচ্ছে।
ছেলে লুইচ্চা আর বেহায়ার চূড়ান্ত, গাধার মত বলে এই জানলা দিয়ে বাতাশ আসছে বেশি কাজেই আমি এখানে দাঁড়াবো, আপনার সমস্যা হলে প্রাইভেট কারে যান।
বাসে ঢুলু ঢুলু দৃষ্টি উপেক্ষা করে মুখে ওড়না পেঁচিয়ে বসে থাকলে ও তবু কাজ হয় না। তখন এরা নিজেদের শো করে ইমপ্রেস করার ভীষণ চেষ্টা করে। সত্যি অনেক অদ্ভুত আর অসুস্থ পরিবেশে রোজ চলতে হচ্ছে, এবং মেনে নিতে হচ্ছে, যারা ইগনোর করে চলতে পারে তারা ওকে আছে। তারপর ও বা কজন ভালো থাকে রোজ কত অঘটনই না ঘটে মেয়েদের চলার পথে, কিছু পত্রিকায় আসে, কিছু রয়ে যায় গোপনে।
যার শুরুটা হয়তো হয় তাকিয়ে থাকা দিয়েই। যে কারনে কোনো নারীর দিকে ১৪ সেকেন্ড তাকালেই শাস্তি! কথাটা কে আমি সাধুবাদ জানাই। এবং অনেক অনেক শ্রদ্ধা জানাই সেই অচেনা পুলিশ কর্মকর্তা কে যে, জঘন্য নোংরা দৃষ্টিতে মেয়েদের দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থেকে যে নিরব অত্যাচার মেয়েদের করা হচ্ছে অন্তত সে ব্যাপারটা অপরাধ হিসেবে সনাক্ত করেছে।

প্রতিবেদনটা তুলে দিলাম কপি পেস্ট করে।

“কোনও নারীর দিকে যদি কোনও পুরুষ ১৪ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকেন, তাহলেই পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা যাবে। এটা দণ্ডনীয় অপরাধ।” ভারতের এক পুলিশ কর্মকর্তার এমন উক্তি নিয়ে চলছে তোলপাড়।

ওই পুলিশ কর্তার নাম ঋষিরাজ সিং। তিনি কেরালা রাজ্যের আবগারি কমিশনার, ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসের অফিসার। তিনি যখন এই উক্তি করেন, তখন পাশেই ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী ই পি জয়রাজন।

তবে মন্ত্রী মহাশয় সবার সামনেই বলে দিয়েছেন, এরকম কোনও আইন নেই। ওই পুলিশ কর্মকর্তা এ ধরনের আইনের কথা বানিয়ে বলেছেন।

ভারতের স্বাধীনতা দিবসের আগে কোচি শহরে ছাত্র-ছাত্রীদের সামনে ভাষণ দিতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন পুলিশ কর্মকর্তার ঋষিরাজ সিং।

ভারতের আইনজীবীরাও বলছেন, এমন কোনো আইনের ধারা ভারতে নেই।

ঋষি রাজ সিং মঙ্গলবার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, “আমি সেদিন যা বলেছিলাম, এখনও সেটাই বলব। আর শুধু ১৪ সেকেন্ড কেন, তার কম সময়ের জন্যও যদি কোনও পুরুষ মানুষ কোনও নারীর দিকে তাকিয়ে থাকেন, যাতে ওই নারীর অস্বস্তি হতে পারে, তাহলেও সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ধর্ষণ আর নারীদের হয়রানি রুখতে ২০১৩ সালে ভারতীয় দণ্ডবিধিতে যে পরিবর্তনগুলো আনা হয়েছে, সেই অনুযায়ী এরজন্য জেলও হতে পারে।”

আইনজীবীরা বলছেন, ঋষিরাজ যে ধারার কথা বলেছেন, তাতেও এ ধরনের কিছু লেখা নেই। এটা তার ভুল ব্যাখ্যা।

মন্ত্রীকে স্যালুট করতে অস্বীকার করা, সহকর্মীদের ওপর বিভিন্ন কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠার অভিযোগ আছে এই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। সূত্র: বিবিসি
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই আগস্ট, ২০১৬ বিকাল ৪:২২
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মরীচিকা

লিখেছেন সামিয়া, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:২৮


তোমার চোখে আমি প্রতিবার দেখি ঝড়ের ঘূর্ণি। সেই ঘূর্ণির ভেতরে জমে থাকে এমন এক শঙ্কা, যার কাছে পৌঁছাতে গেলেই আমার নিজের বুকের ভেতরটাও কেমন অস্থির হয়ে ওঠে। তবু আমি প্রতিদিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোথাও একটা ভুল হচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৪২

একটা ছোট নৌকা পাল তুলে পাড়ি দিচ্ছে-
অনন্ত নক্ষত্রবীথি।
পেরিয়ে যাচ্ছে- গ্রহ নক্ষত্র, মহাজাগতিক উল্কা।
দূরে কোথাও সংঘর্ষ হচ্ছে।
ধীর, অতি ধীর তার গতি। নৌকায় কয়েকজন মানুষ!
একটি শিশু,... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিদারাবাদ থেকে মাছুয়াপাড়া

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৫৫

আপনার সবচেয়ে অপছন্দের খাবার হচ্ছে শুকর। শুধু অপছন্দের না, এটা আপনি ঘৃণাও করেন। কিন্তু আপনার পাশে বসে সবাই শুকর খায়। যে পাতিলে শুকর রান্না করা হয়, সেই পাতিলেই আপনার জন্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পড়ালেখার গুরুত্ব

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৫



পড়ালেখার গুরুত্ব কি, আর কেনো পড়ালেখা করতে হবে? আমার মনে হয় উত্তর সকলের কম বেশি জানা আছে। কিন্তু আমরা বাস্তবে কি করছি? আমাদের দেশে মনে হয় ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কাহিনীটা কী?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৭

কাহিনীটা কী?
বিএনপিকে যারা ২৪ ঘণ্টা অভিশাপ দেয়, গালমন্দ করে, "বিএনপি দেশটা শেষ করে দিয়েছে- আর ছয়মাসও টিকবে না", তারাই আবার বিএনপি কাকে মন্ত্রী বানালো, কাকে উপদেষ্টা করলো- এই হিসাব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×