
আমি উনাকে প্রথম দেখার পর অবাক হই প্রচুর; মনে হয় হ্যান্ডসাম বুঝি একেই বলে, নাক কান চুল চোখ চেহারা দৈহিক গড়ন মিলে বলিষ্ঠ পার্সোনালিটি। উনি গাড়ি থেকে নেমে লবি পাড় হয়ে আমার আগেই লিফটের কাছে পৌঁছে গেলেন; বাটন চাপলেন, লিফট উঠি উঠি করছিলো; সেই মূহূর্তে আমাকে দেখে ওটা থামিয়ে দেওয়ায় আমি চির কৃতজ্ঞ হয়ে মৃদু হাসি দিয়ে ধন্যবাদ বললাম, জবাবে উনি চুপ করে আছেন দেখে আমি দ্বিতীয় বারের মতন উনার মুখের দিকে তাকাতেই মৃদু হাসলেন। ঐ আমাদের প্রথম দেখা।
এইভাবে আমাদের অফিসে কাজে কর্মে দেখা হয়, অপরিচিতের মতন কথা না বলে দিনের পর দিন কেটে গেছে যদিও ততদিনে অন্য সকল ফিমেল মেল কলিগদের সাথে কথা টথা বলে সম্পর্ক নরমাল হয়ে গেছে। কিন্তু এসব নিয়ে কেউ খুব একটা ভাবে না আমিও ভাবিনাই রিজার্ভ থাকতে পছন্দ করা লোক হয়তো।
একদিন অনেক আগের দিনের মতন লিফটে তার সাথে দেখা, সে যাবে আঠারো তলায় আমি একুশ, একটা ঝগড়া করার জন্য রেডি ধরনের মহিলা উঠে উনার কাছে জানতে চাইলো আইটি কোন ফ্লোরে বসে? সে জবাব না দিয়ে হাসলো, একই কথা মহিলা আবার জানতে চাইলেন সে জবাব না দিয়ে আবারো হাসার অপরাধে নানান সব কথা বলে তাকে অপমান অপদস্থ করতে করতে থাকা অবস্থায়; আমি ঘটনার মাঝখানে নাক গলিয়ে বলে দিলাম তার আইটি কই পাওয়া যাবে, সে আমাকে প্রশংসা করতে করতে তাকে অভদ্র টাইটেল দিয়ে বেরিয়ে গেলেন, খুব নিচু গলায় বললাম এইট ফ্লোর বললে তো মহিলা এতগুলো কথা শুনাতো না, সেদিন তার হৃদয় আকাশে জমা ঘন কালো মেঘ ভর্তি চেহারা নিয়ে সরি জাতীয় ইশারা করলেন। আমি ভাবলাম সহজ সরল বোকা লোক।
উনার সাথে আমার দেখা হয়েই যেতো মাঝে মাঝে, নতুন অফিসের একেক বিল্ডিংএ একেক department তারপরও।
সব সময় একমনে উনার কম্পিউটারে মাথা গুঁজে কাজ করতেন; উনি কাজের প্রতি অতিরিক্ত সিনসিয়ার।
এইতো গত মাসে এক অদ্ভুত কথা শুনলাম; আমাদের অফিসে এক কলিগ আছেন খুবই হ্যান্ডসাম কিন্তু কথা বলতে পারেন না, আমার অবচেতন মন তাকেই ধরে নিয়ে আহত হলো সেদিন। গত সপ্তাহে উনার সাথে দেখা, পাঞ্চ করে দরজা খুলে মাথা ঝুকে হাত দিয়ে ইশারা করলো বের হতে, চট করে মাথায় এলো, আচ্ছা একবার কি জিজ্ঞেস করবো! আপনি কথা বলতে পারেন না?! দীর্ঘ লন ধরে হেঁটে সামনে লবি পার হতে হতে ভাবলাম এই কথা কখনোই তাকে জিজ্ঞেস করা যাবেনা,যদি ব্যাপারটা সত্যি হয়ও, তার পায়ে পায়ে হেঁটে চলে যাওয়া সেদিন মূহুর্ত মাত্র অজানা অস্বস্তিতে ফেললো আমায়।
পরের তিন দিন পর পর রোস্টার ডিউটি ছিল আমার, এরপর ফ্রাইডে সাটারডে অফ, এরপর দিনও রোস্টার। ছয়দিন পর অফিসে গিয়ে একে ওকে বলতে শুনলাম আমাদের অফিসে একজন কলিগ আছেন যিনি নাকি কথা বলতে পারতেন না তিনি করোনায় মারা গেছেন।
রক্তের সম্পর্কের কেউ না, তেমন করে পরিচয় ও নেই, কথা নেই, একত্রে চলাফেরা নেই, কোন আবেগ নেই, অনূভুতি নেই, কিন্তু তার উপস্থিতিটাই পৃথিবীতে একটা দরকার হয়ে দাঁড়ানো একটা আত্মিক টানের সম্পর্ক পৃথিবীতে আছে। সেই সম্পর্কের জের ধরে আমার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো।
মরিলেএএএএএএএ
কান্দিস না আমার দায় ।। রে যাদু ধন ……
মরিলে কান্দিস না আমার দায় .......
ছবি: আমার তোলা
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০২১ দুপুর ২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




