somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এইটা গল্প না। ভালো লাগলো, শেষটা এমন না হলেও পারতো না লিখে ইন্না লিল্লাহ লিখুন

০৩ রা মে, ২০২১ সকাল ১১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি উনাকে প্রথম দেখার পর অবাক হই প্রচুর; মনে হয় হ্যান্ডসাম বুঝি একেই বলে, নাক কান চুল চোখ চেহারা দৈহিক গড়ন মিলে বলিষ্ঠ পার্সোনালিটি। উনি গাড়ি থেকে নেমে লবি পাড় হয়ে আমার আগেই লিফটের কাছে পৌঁছে গেলেন; বাটন চাপলেন, লিফট উঠি উঠি করছিলো; সেই মূহূর্তে আমাকে দেখে ওটা থামিয়ে দেওয়ায় আমি চির কৃতজ্ঞ হয়ে মৃদু হাসি দিয়ে ধন্যবাদ বললাম, জবাবে উনি চুপ করে আছেন দেখে আমি দ্বিতীয় বারের মতন উনার মুখের দিকে তাকাতেই মৃদু হাসলেন। ঐ আমাদের প্রথম দেখা।

এইভাবে আমাদের অফিসে কাজে কর্মে দেখা হয়, অপরিচিতের মতন কথা না বলে দিনের পর দিন কেটে গেছে যদিও ততদিনে অন্য সকল ফিমেল মেল কলিগদের সাথে কথা টথা বলে সম্পর্ক নরমাল হয়ে গেছে। কিন্তু এসব নিয়ে কেউ খুব একটা ভাবে না আমিও ভাবিনাই রিজার্ভ থাকতে পছন্দ করা লোক হয়তো।

একদিন অনেক আগের দিনের মতন লিফটে তার সাথে দেখা, সে যাবে আঠারো তলায় আমি একুশ, একটা ঝগড়া করার জন্য রেডি ধরনের মহিলা উঠে উনার কাছে জানতে চাইলো আইটি কোন ফ্লোরে বসে? সে জবাব না দিয়ে হাসলো, একই কথা মহিলা আবার জানতে চাইলেন সে জবাব না দিয়ে আবারো হাসার অপরাধে নানান সব কথা বলে তাকে অপমান অপদস্থ করতে করতে থাকা অবস্থায়; আমি ঘটনার মাঝখানে নাক গলিয়ে বলে দিলাম তার আইটি কই পাওয়া যাবে, সে আমাকে প্রশংসা করতে করতে তাকে অভদ্র টাইটেল দিয়ে বেরিয়ে গেলেন, খুব নিচু গলায় বললাম এইট ফ্লোর বললে তো মহিলা এতগুলো কথা শুনাতো না, সেদিন তার হৃদয় আকাশে জমা ঘন কালো মেঘ ভর্তি চেহারা নিয়ে সরি জাতীয় ইশারা করলেন। আমি ভাবলাম সহজ সরল বোকা লোক।

উনার সাথে আমার দেখা হয়েই যেতো মাঝে মাঝে, নতুন অফিসের একেক বিল্ডিংএ একেক department তারপরও।
সব সময় একমনে উনার কম্পিউটারে মাথা গুঁজে কাজ করতেন; উনি কাজের প্রতি অতিরিক্ত সিনসিয়ার।

এইতো গত মাসে এক অদ্ভুত কথা শুনলাম; আমাদের অফিসে এক কলিগ আছেন খুবই হ্যান্ডসাম কিন্তু কথা বলতে পারেন না, আমার অবচেতন মন তাকেই ধরে নিয়ে আহত হলো সেদিন। গত সপ্তাহে উনার সাথে দেখা, পাঞ্চ করে দরজা খুলে মাথা ঝুকে হাত দিয়ে ইশারা করলো বের হতে, চট করে মাথায় এলো, আচ্ছা একবার কি জিজ্ঞেস করবো! আপনি কথা বলতে পারেন না?! দীর্ঘ লন ধরে হেঁটে সামনে লবি পার হতে হতে ভাবলাম এই কথা কখনোই তাকে জিজ্ঞেস করা যাবেনা,যদি ব্যাপারটা সত্যি হয়ও, তার পায়ে পায়ে হেঁটে চলে যাওয়া সেদিন মূহুর্ত মাত্র অজানা অস্বস্তিতে ফেললো আমায়।

পরের তিন দিন পর পর রোস্টার ডিউটি ছিল আমার, এরপর ফ্রাইডে সাটারডে অফ, এরপর দিনও রোস্টার। ছয়দিন পর অফিসে গিয়ে একে ওকে বলতে শুনলাম আমাদের অফিসে একজন কলিগ আছেন যিনি নাকি কথা বলতে পারতেন না তিনি করোনায় মারা গেছেন।

রক্তের সম্পর্কের কেউ না, তেমন করে পরিচয় ও নেই, কথা নেই, একত্রে চলাফেরা নেই, কোন আবেগ নেই, অনূভুতি নেই, কিন্তু তার উপস্থিতিটাই পৃথিবীতে একটা দরকার হয়ে দাঁড়ানো একটা আত্মিক টানের সম্পর্ক পৃথিবীতে আছে। সেই সম্পর্কের জের ধরে আমার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়লো।

মরিলেএএএএএএএ
কান্দিস না আমার দায় ।। রে যাদু ধন ……
মরিলে কান্দিস না আমার দায় .......

ছবি: আমার তোলা
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা মে, ২০২১ দুপুর ২:০৩
১৯টি মন্তব্য ১৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×