somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পথেঘাটে -৩

১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পার্কের বেঞ্চে আমাকে একলা বসে থাকতে দেখে এক মলিন জীর্ণ শীর্ণ দেহের মহিলা অনুমতি চাইলো বসার জন্য, বসেন বলার পর মহিলাটা নির্ধারিত দূরত্বে সসম্ভ্রমে বসে আমার দিকে তাকিয়ে এমনভাবে বললো, যেন এই কথা সে হাজারবার হাজার জনকে বলেছে, আর এই হাজারবার বলেও অভ্যস্ত হতে পারে নাই, বললো-
- কানতে কানতে আমার চোখ নষ্ট হইয়া গেছে আপা। এখন চোখে ঘোলা দেখি। মাঝেমাঝে হঠাৎ অন্ধকার ও হয়ে যায় সব।
আমি ভাবলাম এইরে সাহায্য চাওয়ার ধান্দা নির্ঘাত, আস্তে করে বললাম,
এত কাঁদছেন যে চোখ নষ্ট হয়ে গেছে! কি অদ্ভুত কথা, এমন কথা গল্প উপন্যাসে পরেছি নাটক সিনেমায় দেখেছি কিন্তু বাস্তবে এমন হয় নাকি!! সত্য সত্য কাঁদতে কাঁদতে চোখ নষ্ট হয়ে গেছে আপনার?
সে একটা লম্বা নিশ্বাস ছাড়লো। ওই নিশ্বাসের ভেতরেই যেন অনেক বছরের বেদনা জমা। বললেন
- জামাই অসুস্থ আছিল। বেলাড ক্যান্সার।
আমি চমকে বললাম,
-ব্লাড ক্যান্সার?
- হ। ওইটাই। আমরা গরীব মানুষ আপা। তাও কত চেষ্টা করছি। কত টেকা খরচ করছি। জামাইরে বাঁচাইতে পারি নাই।
- ও! জামাইর জন্য কাঁদতে কাঁদতে চোখ নষ্ট হয়েছে?
সে আমার দিকে তাকালো। চোখের দৃষ্টি স্পস্ট নাই এরকম আসলেই মনে হলো।
- হ্যার জন্য তো কানছি আপা। কিন্তু আরেকজনের জন্যও কানছি।
- আরো একজন?
মহিলাটা হঠাৎ চুপ হয়ে গেল। কয়েক সেকেন্ড। তারপর আস্তে আস্তে বললো
- আমার সাত মাসের পোলা।
সে আমাকে বলতে থাকলো, খুব সাধারণ ভঙ্গিতে যেন পার্কের ভেতরের লোকজন প্রতিদিন অনবরত হাটেন এইরকম সাধারন কথা।
- আমি বালতিতে পানি ভইরা রাখছিলাম। বালতিটা আমার পেছনেই আছিল। জামাই মরার দুইদিন আগে। হ্যার কাপড় ধুইতেসিলাম। ভাবছিলাম, পরদিন হাসপাতালে নেবো।

এইখানে এসে সে থামলো আর আমাদের চতুর্দিকে হঠাৎ একটা অদ্ভুত নীরবতা নামলো।
সে চোখ মুছলো না। শুধু বললো,
- একবার যদি পিছে তাকাইতাম আপা, আমার সাত মাসের পোলাডা কখন আমার কাছে এসে পিছে রাখা বালতির পানি দিয়ে খেলতে খেলতে মাথাডা বালতির মধ্যে পড়ে গেলো।
কাপড় কাঁচার শব্দে কিচ্ছু টের পাই নাই।
আমি আর কিছু বলতে পারলাম না। সেই আবার বললো
- যে জন্য কাপড় ধুইলাম, হ্যার হাসপাতাল যাওয়াও হইলো না। পোলাডাও মরলো। পোলার বাপেও মরলো।

তারপর? একা?
সে মাথা নাড়লো।
-না। আরেকটা বিয়া করছি।
আমি একটু অবাক হয়ে তাকালাম। সে নিজেই হালকা হাসলো। তারপর উদাস হয়ে বললো
- জীবন কি আর কারো জন্য থাইমা থাকে।
বললাম
- না। জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না। সব কিছু একরকম একই গতিতে চলতে থাকে, শুধু… কিছু কিছু মানুষ পথ চলতে চলতে চিরতরে হারিয়ে যায়।
মহিলা আর একটা কথাও বলল না। আমিও চলে আসতে আসতে একবারও পেছনে তাকালাম না। কারন জীবন কি আর কারো জন্য থেমে থাকে!।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩৮
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পথেঘাটে -৩

লিখেছেন সামিয়া, ১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২



পার্কের বেঞ্চে আমাকে একলা বসে থাকতে দেখে এক মলিন জীর্ণ শীর্ণ দেহের মহিলা অনুমতি চাইলো বসার জন্য, বসেন বলার পর মহিলাটা নির্ধারিত দূরত্বে সসম্ভ্রমে বসে আমার দিকে তাকিয়ে এমনভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আবোল তাবোল ইচ্ছে মনে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:০৩


ইচ্ছে করে গড়ে তুলি
হাঁস মুরগির এক খামার,
শ' কবুতর পালার ইচ্ছে
বুকের ভেতর আমার।

ইচ্ছে করে পুকুর জলে
ছাড়ি মাছের পোনা
জল পুকুরে সাঁতার কাটি
হয় যে স্বপ্ন বোনা।

ইচ্ছে করে বিড়াল রাখি
বাইরে রাখি কুকুর,
শালিক ময়না রাখি... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাতীয় নির্বাচনের আগেই ঢাকায় নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৩০


বাংলাদেশের রাজনীতি যখন এক মহাসন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, ঠিক তখনই ঢাকার রাজপথে পা রাখলেন এক পরিচিত মুখ—ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। ঘড়ির কাঁটা বলছে সোমবার (১২ জানুয়ারি, ২০২৬) সন্ধ্যা। শীতের কুয়াশা মোড়ানো শাহজালাল আন্তর্জাতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুভি "হক" : ডিভোর্সীর হক আবার কি জিনিস, খায় না মাথায় দেয়! :P

লিখেছেন সোহানী, ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৫



একটা ঘটনা শেয়ার করি। আমার কলিগ মারিয়া, মধ্য বয়সী সিঙ্গেল মাদার। চৈাদ্দ ও সাত বছরের দু'টো বাচ্চা তাঁর। স্কুল জীবনের সুইটহার্টের সাথে পনেরো বছর সংসার করার পর ডিভোর্সের পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মা ও খোকার রাজ্যপাট

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৩ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৪১


নদীর তীরে কাশের বন সেথায় ছোট্ট কুঁড়েঘর,
আমি থাকি মা-ও থাকে আর কেউ নেই আপন-পর।

ঘরের পাশে বাঁশের বন তার ওপারে সুদূর মাঠ
সেই মাঠেতে কাটে দিন সভা-সদ বিহীন রাজ্যপাট।

শান্ত শীতল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×