আমিও অবিকল তোমার মতো ছিলাম।
শৈশবের আমিটার সঙ্গে সমকালিন তুমি নিশ্চয়ই পেরে উঠতে না।
আসলে ছোটোবেলায় ভেদাভেদের কবলে পড়িনি,
কিমবা পড়েও বুঝিনি!
অনেক প্রানবন্ত ছিল আজকের এই
অস্থিচর্মসার দেহ!
হয়তো তোমাকেউ ছাড়িয়ে যতো।
সেই শৈশবের প্রানোচ্ছাস থেকে
আজকের জির্নতা অনেকটা পথ!
যতই বড়ো হয়েছি পারিপার্শ্বিক পরিবেশ জটিল হয়ে গেছে!
হাতের মাটির পুতুল ছিনিয়ে কোদাল ধরিয়েছে অন্নহীন জঠর..
দশম শ্রেণী উত্তীর্ন হওয়ার আগেই
খাতা-কলম কেড়েছে পারিবারিক চাহিদা..
নবম শ্রেনীতে অঙ্কতে একশোয় একশো পেয়েছিলাম!
মনে পড়ে? সেবছর তুমি মোটেই
পঁয়ত্রিশ পেয়েছিলে!
ভুলে গেছো নিশ্চয়,
আমি ভুলিনি।।
আজ সেই একশো পাওয়া
প্রিয় ছাত্রটি পঁয়ত্রিশের কারখানায়
একশো মজুরের মধ্যে একজন!
দুমড়ানো শিরদাঁড়ায় ধানের বস্তা
আর চিবুক বেয়ে ঘাম।
অর্থব্যাবস্থা আজ শৈশবের
ভেদাভেদহীন দুই প্রানীকে জগতের দু-প্রান্তরে সরিয়ে দিয়েছে।
জানতে পারলে হয়তো পঁয়ত্রিশ পাওয়া তুমিটা ব্যাঙ্গ করবে!
তাই তোমাকে আজও বলিনি,
তোমার ফ্যাক্টরি _র কাঁচাপাকা দাঁড়িতে জির্ন দেহের প্রানীটি
তোমারই শৈশববন্ধু নিশীথ।।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে মার্চ, ২০১৮ সকাল ১০:০৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





