somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেতাত্মা

২৩ শে আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পর্ব-১

-দোস্ত তোর প্রেতাত্মা গল্পটা অনেক ভাল্লাগছেরে।জানিস তোর এই গল্পটা পড়ে আমার একটা কাহিনীর কথা মনে পড়ে গেলো। (জামিল)

-তাই?কি কাহিনীরে?(রাফি)

-জানিস আমাদের গ্রামে একটা পুরাতন রাজবাড়ি আছে। (জামিল)

-তাতে কি হইছে?রাজারা বাড়ি বানাই গেছে তাই আছে এটা আবার বলার কি আছে? (ইমন)

-আরেহ কথাটা তো আগে শুনবি তারপর কথা বলিস। (জামিল)

-আচ্ছা দে বল।ওই তোরাও এদিকে আয় জামিল কি কাহিনী শুনাবে আমাদের। (রাফি)

-আমাদের গ্রামে অনেকটা জঙ্গলের মধ্যেয় একটা বাড়ি আছে।সবাই বলে এটা নাকি কোন রাজার ছিলো।বাড়িটা প্রায় ১৫০বছর আগের (জামিল)

-এতো পুরানো বাড়ি!! এখনো ভেঙ্গে পরে নাই? (সফিক)

-নারে এখনো নাকি বাড়িটা আছে।ওইদিকে মানুষ তেমন একটা যাই না সবাই বলে বাড়িটাতে নাকি ভূত আছে (জামিল)

-এত্ত বড় হইছোস ইউনিভার্সিটি পড়ছ এখনো এইসব হাবি জাবিতে তুই বিশ্বাস করছ?শুন এইসব মিথ্যে বানোয়াট বুঝলি? (রাফি)

-তুই যা জানিস না তা নিয়ে কথা বলবি না।আমার দাদু কখনো মিথ্যা কথা বলে না।আমার দাদু আমাদের বারণ করে দিছিলো কখনো যেন ভুলেও ওইদিকে না যাই...আচ্ছা তোর থেকে যখন মিথ্যে মনে হচ্ছে তাহলে তোরে একটা কাহিনী বলি এটা সত্যি।

তখন আমি মনে হয় ক্লাস ফোর কি ফাইভে পড়ি আমাদের গ্রামীরি একটা ছেলে আমাদের সাথেই পড়তো...ওর সাথে সব সময় আমরা খেলাধুলা করতাম।একদিন রাইহান আমাদের এসে বললো ওই রাজবাড়ি টার সামনে নাকি অনেক বড় একটা তেঁতুল গাছ আছে ও নাকি তা সকালে রাজবাড়িটাই গিয়ে দেখছে। (জামিল)

-রাইহান রাজবাড়িতে কেনো গেলো? (অনুপম)

-বলতেছিতো তোরা আমি কথা বলার সময় কথা বলবি না তো।চুপ করে শুন আমি বলতেছি আমার কথা বলা শেষ হলেই তারপর কথা বলবি।

রাইহান নাকি শুনছিলো রাজবাড়িতে নাকি অনেক সুন্দর সুন্দর গুটি পাওয়া যায়।তখন আমরা গুটি খেলতাম।ও গুটি আনার জন্য এ গিয়েছিলো।আমাদের ও গুটি গুলোও দেখাছিলো সত্যি গুটি গুলো অনেক সুন্দর ছিলো আর অমন গুটি আমরাও আগে আর দেখি নাই।গুটি গুলো দেখেই আমাদের লোভ হইছিলো সাথে আরও পাঁকা তেতুলের লোভে আমরা ঠিক করলাম বিকাল বেলা আমরা কাউকে না জানিয়ে ওই রাজবাড়িতে যাবো কিন্তু কেউ কারোর বাসায় জানাবো না।যেই কথা সেই কাজ বিকালবেলা আমরা ৫/৬জন মিলে রাজবাড়িতে চলে গেলাম সাথে ব্যাগ ও নিয়ে নিলাম। বাড়িটা দেখে কেমন জানি লাগলো আমাদের অনেকটা ভূতুড়ে ভূতুড়ে। আমরা তাড়াতাড়ি করে গুটি কুরানো শুরু করলাম অনেক সুন্দর সুন্দর গুটি ছিলো যে যতটা পারছি নিছিলাম এইদিকে সন্ধ্যা ও হয়ে আসছিলো রাইহান বললো যে,

-শুন সন্ধ্যা হয়ে আসছে আমরা কিন্তু বেশি তেঁতুল নিবো না, আগে কয়টা বাসায় নিয়ে দেখি যদি আম্মা আচার দেয়ার জন্য রাজি হয় তাহলে আমরা আবার কালকে আসবো। এককাজ করি গাছে আমি উঠি তেঁতুল গুলো ফেললে তোরে খুঁজে নিস পরে আমরা ভাগ করে নিবো। (রায়হান)

ওর কথাই আমরা সবাই রাজি হয়ে গেলাম।কথা মত ও গাছে উঠে গেলো,

-গাছের উপরের দিকে কি অন্ধকাররে বাবা!এই আমি বেশি উপরে উঠবো না....নে নে এটা ধর (রায়হান)

আমরা নিচে থেকে তেঁতুল খুঁজে নিচ্ছি নিতে নিতে অনেক গুলোয় হয়ে গেলো, হঠাৎ রায়হান ওমা বলে একটা জোরে চিৎকার দিলো,

আমরা সবাই ভয় পেয়ে ওকে জিজ্ঞাসা করলাম,

-কি হয়েছেরে রায়হান??

ও কিছু বলার আগে উপর থেকে নিচে পরে গেলো আমরা উপরে তাকাতেই একটা ভয়ংকর কুৎসিত চেহারার লম্বা চুলওয়ালা কি যেন দেখলাম এটা দেখে যখন আমরা রায়হানের কাছে ছুটে গেলাম ও শুধু হাত উঁচিয়ে রাজবাড়িটার দিকে কি যেন দেখালো সাথে সাথে ওর নাক,মুখ, কান দিয়ে রক্ত বের হওয়া শুরু হলো, আমরা যখন রাজবাড়িটার দিকে তাকালাম তখন দেখলাম একজন বয়স্ক লোক রাগী চোখে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে....আমরা ভয়ে আর দেরি করলাম না ব্যাগ ফেলে রায়হানকে তুলার চেষ্টা করছি কিন্তু রায়হান এতোটাই ভারি হয়ে গেছে যে ওকে আমরা মাটি থেকেই তুলতে পারছি না। রায়হান ও কোনো কথা বলছে না চোখ বড় করে মুখ হা করে শুধু তাকিয়ে ছিলো। আমরা সবাই যখন একসাথে টেনে ওকে উঠানোর চেষ্টা করছি তখনি বাড়িটার ভিতর থেকে ছোট বাচ্চাদের হাসির শব্দ ভেসে আসছিলো।ভয়ে আমরা কান্না কাটি শুরু করে দিলাম।সবাই মিলে রায়হানকে টেনে ধরাধরি করে ওই বাড়ি থেকে নিয়ে রায়হানের বাড়িতে চলে আসলাম।

রায়হানের বাবা - মা ওর এই অবস্থা দেখে ওকে তাড়াতাড়ি হসপিটালে নিয়ে গেলেন।রায়হানের মা ওর এই অবস্থা দেখে কতবার যে সেন্সলেস হইছিলেন। হসপিটালে নেয়ার পরে ডাক্তাররা বলছিলেন রায়হান আরোও আগেই মারা গেছে।
রায়হানের মৃত্যুর পর ওর মা অনেকটা পাগলের মত হয়ে গেছিলো।
আমাদেরও বাসা থেকে অনেক বকাঝকা করা হইছিলো।
তখন দাদু বলছিলো,
এই বাড়িটা নাকি একটা অভিশাপ্ত বাড়ি...এইবাড়িতে যে রাজারা থাকতেন উনি নাকি অনেক অত্যাচারী ছিলো...এই রাজবাড়ির তেঁতুলগাছে নাকি কেউ চোখ তুলেও তাকাতে পারতো না যদি কোনো বাচ্চা ভুল করে ওই গাছ থেকে তেঁতুল পারতো ওই রাজাটা নাকি ওই বাচ্চার প্রানটাই নিয়ে নিতো...শেষবারে ওনার ছেলে নাকি বৃষ্টির মধ্যে তেঁতুল কুড়তে গিয়েছিলো বর্জাঘাতে ওই ছেলে নাকি একটা গাছের পাশে মারা যাই তারপর থেকেই ওই গাছ নাকি ভয়ানক হয়ে যাই সবাই বলে ছেলেটার আত্মা নাকি ওই তেঁতুলগাছেই রয়ে গেছে....তারপর ওই রাজা নাকি কি একটা খারাপ কাজ করছিলো এরপর থেকেই ওই বাড়িতে ধ্বংস নেমে আসে বাড়িটা অভিশাপ্ত বাড়িতে পরিনত হয়। (জামিল)

-কি খারাপ কাজ করছিলো রাজাটা? (রনি)

-তাতো দাদু আমারে বলে নাই শুধু বলছে খারাপ কাজ করছে।এরপরতো আমরা শহরেই চলে আসলাম আজ কত্তবছর হয়ে গেছে গ্রামের বাড়ি যাই না। রাফির গল্পটা পড়েই হঠাৎ ওই কাহিনীটার কথা মনে পরে গেলো।রাফির বর্ণনা করা বাড়িটা আর ওই রাজবাড়িটা একদম সেম তাই বললাম কাহিনীটা। (জামিল)

-হুম বুঝলাম....আচ্ছা শুন আগামী সাপ্তাহ থেকেইতো ভার্সিটি অফ হয়ে যাচ্ছে এই ছুটিতে আমরা না হয় ওই বাড়িটা থেকে ঘুরে আসলাম ঘুরাও হলো, একটু এক্সপেরিয়েন্স ও হবে এডভান্টেজ ও হবে সাথে ওই ভূতটাকেও দেখা হবে কি বলিস? হাহাহাহাহাহাহা.... (রাফি)

-রাফি সব কিছু নিয়ে মজা ভালো না। (জামিল)

-আমরা রাজি রাফি...আমরা তোর সাথে যাবো জামিল তুই ভালোই ভালোই আমাদের সাথে গেলে ভালো না হলে তোরে আমাদের সাথে তুলে নিয়ে যামু।

-দেখ ভাই শুধু শুধু কেনো ঝামেলার মধ্যে পরতে চাচ্ছিস?দরকারটা কি যাওয়ার?


-তুই আমাদের সাথে যাবি কি যাবি না তা শুধু বল। (অমিত)

-তোরা কি সত্যি এ যাবি? (জামিল)

-হ্যাঁ আমরা যাবো।

-তোরা যখন যাবি তখন আর আমার কি বলার থাকে ঠিক আছে আমিও তোদের সাথে যাবো কিন্তু পরে যদি কোনো প্রব্লেম হয় আমারে দোষ দিতে পারবি না। (জামিল)

-হুম আমরা রাজি।।

তাহলে এখন শুধু অপেক্ষা ভার্সিটি অফ হওয়ার আর আমাদের ঘুরতে যাওয়ার........

চলবে......

ফেসবুক আইডি লিংকঃ https://www.facebook.com/sanjidabegum.kingz

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আপনার একান্ত মুহূর্ত কি লুকানো ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে, জেনে নিন শনাক্তের উপায়

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৩৬

আপনার একান্ত মুহূর্ত কি লুকানো ক্যামেরায় বন্দি হচ্ছে, জেনে নিন শনাক্তের উপায়

USB Charger এর ভেতরে লুকানো ক্যামেরার ছবিটি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

ভূমিকা

ভ্রমণ মানেই নতুন জায়গা দেখা, প্রিয়জনের সাথে সময় কাটানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের সেই মানুষগুলো কোথায় গেলো

লিখেছেন অর্ক, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:২৬



স্বাধীনতা পরবর্তী, পচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনা। পচাত্তরের পনেরোই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে। ক্যু হয়েছে দেশে। সামরিক বাহিনীতে সংঘাত। বহু সদস্য হতাহত। জেনারেল জিয়া অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভুটান ও বাক স্বাধীনতা!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৪

ভুটানের নাগরিকদের জন্য দেশটির সরকার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা নিশ্চিত করেছে, যা দেশটির "গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস" (GNH) দর্শনের মূল ভিত্তি। ভুটানের সাধারণ মানুষ মূলত যে সমস্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাঝা

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:০৬



বর্তমানে জনসংখ্যার বিচারে 'বিহার' ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম রাজ্য।
বিহারের রাজধানী পাটনা। বিহার মূলত দরিদ্র অঞ্চল বলা যেতে পারে। এখানে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় আছে। অনেক পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয়। নালন্দা ছিলো মূলত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি ক্যাশলেস সোসাইটি এর জন্য কি পারফেক্ট?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৩ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



এটা বাংলা কিউ আর কোড। বাংলাদেশ ব্যাংক সকল ব্যাবসায়ীদের বাংলা কিউ আর কোড বাধ্যতামূলক করেছেনভ এটার ভালো দিক ও খারাপ দিক দুইটাই আছে। বাংলাদেশের সিস্টেম, কারিগরি দক্ষতা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×