somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নতুন আলো

২৩ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ৮:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্ব:১

চোখ মেলেই দেখলাম ফ্যান চলছে আস্তে আস্তে চারপাশে তাকাচ্ছি এখনো বুঝতে পারছি না আমি কোথায়, মাথায় খুব ব্যাথা হচ্ছে হাতটাও নাড়তে পারছি না, উপরে তাকাতেই দেখলাম স্যালাইনের প্যাকেট এত্তক্ষনে বুঝলাম আমি হাসপাতালে।।পাশে তাকাতেই দেখলাম আম্মা,নানু,আব্বু,আমার শাশুড়ি বসে আছে।।চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পরছে আমার।।আস্তে করে আম্মু কে ডাক দিলাম,
-আম্মা
-অরণি!এই যাও ডাক্তারকে ডেকে নিয়ে আসো।কি হইছেরে মা? (কাঁদো কাঁদো কন্ঠে)
-পানি খাবো একটু পানি দাও(আমি)
পানি খেয়ে জিজ্ঞাসা করলাম আজকে কত তারিখ?
-আজকে ২০তারিখ।কেন?তোর শরীর কেমন লাগচ্ছে এখন?বসতে কষ্ট হচ্ছে?শুইয়ে দিব?কেমনে পরছোস তুই??(মা)
আমি কিছু বলার আগে আমার শাশুড়ি বলে উঠলো,
-আরেহ বললাম না গোসল করতে গিয়ে পরছে।যদি রাফি বাসায় না থাকতো তাহলে কেমনে যে আমি কি করতাম আল্লাহ জানে..কত বার বলছি সাবধানে চল আপনার মেয়ে কি আমারে পাত্তা দেয় নাকি..আল্লাহর কাছে শুকড়িয়া রাফি সময় মত ওরে হাসপাতালে নিয়ে আসচ্ছে।।(শাশুড়ি)
-(মনে মনে বললাম বাহ কত্ত ভালোই না নাটকটা করছেন,আমি সত্যি গোসল করতে গিয়ে পরছিলাম নাকি আপনার ছেলে আমার এই অবস্থা করলো?? রাগে আমার চোখ থেকে শুধু পানি পরছে।আজকে যদি ২০তারিখ হয় তাহলে ২টা দিন পরে আমার জ্ঞান ফিরলো।)
জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আকাশ দেখচ্ছি আর ভাবচ্ছি,
আমার বিয়ের ১মাস চলে আজ।গত মাসের এই ২০তারিখেই আমার বিয়ে হয়।বিয়ে সবার জন্য আর্শীবাদ কিন্তু আমার জন্য আভিশাপ ছাড়া আর কিছুই না।আমার জীবনের সব থেকে বড় আভিশাপটা হল এই বিয়ে।হয়তো এইটা ইফতির এ আভিশাপ।ইফতির সাথে আমার ৩বছরের রিলেশন ছিল দুজনের চোখে হাজারো স্বপ্ন ছিলো ঘর বাঁধা থেকে শুরু করে সব কিছু নিয়ে।।আমার ফ্যামিলি সব স্বপ্ন এক নিমিষে শেষ করে দিল।আমার বাবা মা এর প্রেম করে বিয়েটা পছন্দের না তারা আমায় ইফতির সাথে বিয়েও দিবে না।আমার সাহসও ছিলো না বাবা মা এর মুখের উপর কিছু বলার তার উপর আমি ছিলাম ফ্যামিলির বড় মেয়ে বাবা মা এর ডিসিশন মুখ বুঝে মেনে নিলাম।।ইফতিকে ছেড়ে বাবা মা এর পছন্দ করা ছেলে রাফিকে বিয়ে করলাম।চুপচাপ চোখের জলের আড়ালে নিয়তিটাকে মেনে নিলাম।
বিয়ের দিন রাতে বাসর ঘরে বসে ভাবচ্ছি মানুষটাকে আমি চিনি না,জানি না কিভাবে মানুষটাকে মেনে নিব তাও জানি না।ইফতির জায়গাটা আমি কাউকে দিতে পারবো না।ভাবতে ভাবতে রাফি রুমে ডুকলো কি বলবো বুঝতে পারচ্ছি না কিছু বলার আগেই রাফি আমার উপর হায়নার মত আমার উপর জাফিয়ে পরলো...না ও মানুষ না একটা জানোয়ার মনে হচ্ছে এখন আমার কাছে।তার পুরুষত্ব খাটাচ্ছে আমার উপর মনে হচ্ছে আমি আমার রুমে ধর্ষিত হচ্ছি..আমার শরীরটা ও যেন ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাচ্ছে...আমার বুকটা কষ্টে ফেঁটে যাচ্ছে আমিতো কখনো চাইনি আমার জীবন সঙ্গী এমন হক, তার কাছে আমার মনের দামটা আমার শরীরের থেকেও বেশি হবে কিন্তু আফসোস আমার ভাগ্যে তা লিখা ছিল না।বিয়ের পরের দিন থেকেই তার রূপটা আমার কাছে প্রকাশ পেতে থাকলো..বিয়ের ৩দিন পর ও আমার গায়ে হাত তুলা শুরু করলো। দিনে তার চলতো আমার উপর শারীরিক,মানুষিক নির্যাতন আর রাতে তার পাশবিক নির্যাতন। কথায় কথায় আমার গায়ে সে হাত তুলে আমার শাশুড়ি সব সময় তাকে উসকে দিত। গত ১মাসে আমি সত্যি মরে গেছি ওরা আমায় মনের দিক থেকে একবারে মেরে ফেলছে। বিয়ের ১৭দিনের মাথায় সহ্য করতে না পেরে চুরি করে বাবার বাড়ি চলে এলাম।তাদের সব খুলে বলার পর আম্মা আব্বা দুজনেই কেঁদে দিল রাফিকে ডাকা হল সব মিটমাট করে আমাকে বুঝিয়ে আবার শুশুড় বাড়ি পাঠিয়ে দেয়া হল।তারা আমার সাথে ৩দিন ভালো ব্যবহার করলো। ৩দিন পর সব আবার আগের মত..১৮তারিখ সকাল বেলা রাফির জন্য ডিম ভাজতে দেরি হল কেন ও আমার হাতটা ধরে অনকে মারলো মনে হচ্ছিল তখন আমার হাত বুঝি ভেঙ্গে গেল। আমার শাশুড়ি, ননদ দাঁড়িয়ে দেখছে আমার বাঁচানোর জন্য একবারও এগিয়ে আসলো না তাদের কাছে আমি চিৎকার করে সাহায্য চাচ্ছিলাম কিন্তু তারা আমায় তা না করে বোকে যাচ্ছিল শেষে রাফি আমায় একটা ধাক্কা দিল ফ্লোরে সম্ভবত পানি পরে ছিল আমি স্লিপ কেটে কিসের উপর পরলাম আমার আর কিছুই মনে নাই।মানুষ বিয়ের ১মাস পর যায় হানিমুন করতে আর আমি হসপিটালে...আহা ভাগ্য আজ আমায় কোথায় নিয়ে আসলো...
চলবে....
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

লিখেছেন চারাগাছ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:৪৮



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম: দাদীর মুষ্টি চালের গন্ধমাখা একটি হারিয়ে যাওয়া শৈশব

​ক্যালেন্ডারে নামটা দেখেছেন হয়তো— ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম।
​ছোটবেলায় স্কুলে পড়েছেন যারা, তাদের অনেকের কাছেই নামটা পরিচিত। কারণ, এই নামটার সঙ্গে জড়িয়ে আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×