somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীরবে 'নীরব' অশ্রপাত

২৪ শে মে, ২০১৬ দুপুর ২:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তখন আমরা টুক-টাক কাজ করি। খ্যাপ মারা টাইপ কাজ। বিনিময়ে যা পাই তা দিয়ে দু-একদিন ফুটানি করি। চানখাঁর পুলে ‌'নীরব হোটেল' এ ভর্তা আর কালাভুনা কিংবা নীলক্ষেতের দোতালার 'মামা হোটেল'র গরুর মাংস সেই ফুটানির অন্যতম অনুষঙ্গ।
এমনই কিছু টাকা হাতে এসেছে। অতঃপর আমাদের বাঁই উঠলো ‌কালাভুনা খাবার। আমি আর সে। (সংগত কারণেই বন্ধুর নাম বলছিনা)
নীরবে ‘ঠাঁই নেই, ঠাঁই নেই’ দশা। গ্রামের বিয়ে বাড়ির মত আমরা চেয়ার ধরে দাঁড়িয়ে আছি। চেয়ারে উপবিষ্ট ব্যক্তি আর তার সঙ্গীনি আসন ছাড়লেই তার দখল নিশ্চিত করার জন্য।
রীতিমত বিব্রতকর পরিস্থিতি। আমরা বিব্রত হইনা, চেয়ারের বর্তমান দখলদারেরাও না। তারা খাবারের নামে রোমান্সে ব্যস্ত। নারী সঙ্গী লোকমা তুলে দিচ্ছে পুরুষ সঙ্গীর মুখে।
মেজাজ খিঁচড়ে গেলেও অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই। সবুরে কালাভুনা পাওয়া এবং খাওয়া যাবে বলে মনকে যথাসম্ভব শান্ত করে দাঁড়িয়ে আছি।
কপোত-কপোতীর দানাগ্রহণ শেষ হতেই আমরা হামলে পড়ে চেয়ারে দখল নিলাম। বসতে না বসতেই খাবারও এসে গেল। ভাত মাখতে মাখতে খেয়ালই ছিলনা আমাদের সামনের চেয়ার দুটিও ফাঁকা হয়ে গেছে। আর সেখানে এসেছে নতুন জোড়া।
বলা নেই কওয়া নেই শুকনো মৌসুমে হঠাৎ বন্ধুর কাশি শুরু হলো। কাশির দমকে তার দম বন্ধ হবার দশা। সামনে তাকিয়ে দেখি বন্ধুর থেকে ঠিক ‘চুম্বন দূরত্বে’ বসে আছে তার সাবেক প্রেয়সী। সাবেকের বর্তমানজন হাত ধুতে গেছে আর সে বজ্রাহত হয়ে বসে আছে।
বন্ধুর বিষম খাবার চমকে আমি রীতিমত দ্বিধায়। বন্ধুর কাশি থামাব না কালাভুনার স্বাদ নেব?
গুরুজনেরা বলেন, খেতে বসে বেশি ভাবতে নেই। অতএব, আমি দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভুলে খাবার সাবাড়েই মনোনিবেশ করলাম।
বন্ধুর কাশি থেমেছে। কিন্তু মনের ঝড়ে বোধহয় সে কাবু। ওপাশেও একই দশা। দুই সাবেক শুধুই ভাত নাড়ছে। বন্ধুর সামনের বাটির কালাভুনা যেন আমায় ডাকছে। আর সে এখনও বেগুন ভর্তার অর্ধাংশ দিয়েই ভাতের কিয়দংশ মেখেই চলেছে।
- মাংস খাবিনা?
- ভালো লাগছেনা।
- আমি নিয়ে নিলাম।
বন্ধুর উত্তরের অপেক্ষা না করেই পুরো বাটি উপুড় করে আমার থালায়...
আমার হাপুস খাওয়া দেখে অপর পাশের পুরুষ সঙ্গীটি বেশ উৎসাহ নিয়ে বলে উঠলো, ঝাল বেশি হলেও কালাভুনাটা আজ কিন্তু বেশি মজা হয়েছে। তাই না ভাই?
মুখে খাবার তাই কোনমতে মাথা নাড়িয়ে সমর্থন জানালাম।
- অ্যাই, তুমি খাচ্ছোনা কেন? খেয়ে ফেল। দারুণ হয়েছে দারুণ।
বন্ধুর সাবেক প্রেমিকাও ঠিক তার মত করেই উত্তর দিল, ভালো লাগছেনা।
খাবার নষ্ট হতে দেখলে আমার বুকের ভেতর প্রচণ্ড কষ্ট হয়। তাই বলেই ফেললাম, খেয়ে ফেলুন ভাই। মাংসের এমন ফাইন সালুন নষ্ট করাও পাপ।
উনি পারলে এঁটো হাতেই আমার সাথে হ্যান্ডশেক করে বসেন। আকর্ণ হাসি দিয়ে বললেন, ঠিক বলেছেন, ঠিক বলেছেন।
বাকি দু’জনের অগ্নিদৃষ্টি আমার দিকে। কালাভুনার প্রচণ্ড ঝাল আর দুর্দান্ত স্বাদের বাইরে আমার যে কোন দিকে তাকানোর সময়ই নেই।
নীরবের গমগমে আসরে তখন ঝরছে দুজনের নীরব অশ্রু...

সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে মে, ২০১৬ দুপুর ২:৫৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:১৩

নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী

নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৭ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৭



আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব  এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু  ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল,  মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×