somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শাবাব বিন জাহাঙ্গীর
নিজের সম্পর্কে যতোটুক কম জানা যায় ততটুকু ভালো... বেশী জানলে নিজের প্রতি সম্মানটা কমে যাই...

আমেনা বেগমের ছেলের অপেক্ষা

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৫:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাল ১৯৭১ এপ্রিলের মাঝামাঝি
দিকের কথা.. হবিগঞ্জ জেলার
বানিয়াচং এর মন্দিরা গ্রাম.. ছবির
মত সুন্দর গ্রাম.. কিন্তু গত দুই দিন
ধরে প্রচুর উত্তেজনা বিরাজ করছে..
খান সাহেবের বাড়ির উঠোনে
মানুষের ভিড়.. কেন্দ্র একটি কালো
রেডিও..
রেডিওতে কিছুক্ষন পর পর শেখ
মুজিবুর রহমানের ভাষন শুনানো
হচ্ছে.. আর যুদ্ধের খবর জানানো
হচ্ছে.. বেলা এগারোটা বাজে খবর
এলো খবর এলো সিলেট সদর পাক
বাহিনী দখল করে নিয়েছে.. তারা
এখন হবিগঞ্জের দিকে এগুচ্ছে..
.
খবর শুনার পর উত্তেজনা আরো
বেড়ে গেলো.. সদর থাকানার পুলিশ
সড়কে ব্যারিকেড দিয়েছে.. গ্রামের
ছেলেরা যে যা পারছে তা নিয়ে বেরিয়ে
পরছে..
.
গ্রামের একদম দক্ষিনের দিকের
তালপাতার ছালের মুন্সীর বাড়ি..
মুন্সীর ছোট ছেলে আলি ক্লাস ৯ এ
পড়ে.. খবর শুনেও সেও বেড়িয়ে
পরছিলো.. তার মা আমেনা বেগম তার
পথ আটকালো..
: কোথায় যাস.?
: শুনোনি, কারা যেন আমাদের দেশটা
দখল করতে আসছে? তাদেরকে
আমরা না আটকালে কে আটকাবে?
: তুই এসবের কি বুঝস? বাসা থেকে
এক কদমও বেরোবি না..
না সেদিন আমেনা বেগম পারেনি তার
অবাধ্য ছেলেকে ঘড়ে বেধে রাখতে..
মাত্র দাড়ি গজানো ছেলে তার
দেশের জন্য ঘর থেকে বেড়িয়ে
গিয়েছিলো..
.
অক্টোবরের মাঝামাঝি.. কেন জানি
হঠাৎ বৃষ্টি হতে শুরু করলো সেদিন..
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সাজানো
গ্রামটা যেন ধ্বংসস্তুপ.. গ্রামের
স্কুলের একটা বিল্ডিং অর্ধেক
ভেঙ্গে গেছে গোলাগোলিতে..আর
বাকিটাতে পাক বাহিনীর ক্যাম্প..
রাস্তাঘাট যেন শ্বসানের মত
নিস্তব্দ.. আসরের নামাজ শেষে
আমেনা বেগম জাইনামাজ থেকে
উঠার আগেই দরজায় দুটো টোকা
পড়লো.. আমেনা বেগম ভয়ে ভয়ে
জিজ্ঞাস করলো কে.? কোন উওর
নেই, আবার দরজায় টোকা.. ভয়ে
ভয়ে দরজা খুললেন.. দরজা খোলার
সাথে সাথে একজন ভিতরে ঢুকে
দরজা বন্ধ করে দিলো..
.
আমেনা বেগম দেখল তার খোকা তার
সামনে দাড়িয়ে সারা শরীরে কাদা..
কথা না বলে আমেনা বেগম তার
ছেলেকে জড়িয়ে ধরলো.. ছেলেটা
কেমন যেন বড় হয়ে গেছে গত কয়েক
মাসে, মুখে খোচা খোচা দাড়ি..
: কেমন আছিস খোকা?
: মা, এমন কেন হলো.?
: কি হয়েছে খোকা.?
: এটাতো আমাদের খেলার বয়স
ছিলো মাঠে, কেন আমাদের নিজের
সামনে বন্ধুদের লাশ উঠাতে হচ্ছে,
যে হাতে কলম থাকার কথা কেন সে
হাতে আজ বন্দুক.? কেন আমি
পারিনা তোমার পাশে এসে জরিয়ে
ধরে শুয়ে থাকতে.. বলতে বলতে
ফুপিয়ে উঠলো আলী..
.
একটু পরেই সে বলে উঠলো মা
আমার জন্য দোয়া করো.. আজ
রাতে অপারেশন আছে.. আমেনা বেগম
তার ছেলেকে আজ ও আটকাতে
চেলো.. তার অবাধ্য ছেলেটা আজও
চলে গেলো.. বলে গেলো সে ফিরবে,
মার জন্য দেশটাকে উপহার হিসাবে
নিয়ে ফিরবে..
.
ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ দেশ স্বাধীন
হলো.. সবাই ফিরতে শুরু করলো..
জানুয়ারীর মাঝামাঝি আমেনা
বেগমের খোকা এখনো ফিরে নি.. যে
রাতে খোকা এসেছিলো সে রাতে
অনেক গোলাগোলি হয়েছিলো..
লোকজন বলে সে দিন দুজন
মুক্তিযোদ্ধা ধরা পরে যাদের নদী
পারে গুলি করে মারে পাক বাহিনী..
আমেনা বেগম প্রতিদিন দোয়া করে
নামাজে বসে, আল্লাহ যেন তার
ছেলেকে বাচিয়ে রাখে.. দিন যায়
আমেনার উদ্ধিগ্নতা বাড়তে থাকে..
.
জানুয়ারীর শেষ দিকে.. আসরের
নামাজে জাইনামাজে তখনো বসা
আমেনা বেগম.. হঠাৎ দরজায় টোকা..
বুকটা ধুপ করে উঠে আমেনার.. আবার
জিজ্ঞাস করেন কে.? উত্তেজনা
বুকে নিয়ে দরজার দিকে এগিয়ে
যাচ্ছেন.. আর দোয়া করছেন.. খোদা
এটা যেন আমার খোকা হয়.. আর
কিছু চাওয়ার থাকবেনা তোমার
কাছে..
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চিকিৎসকের অবহেলা

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:২১



বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবিদের দৈনিক ডিউটি টাইম বা কাজের সময় কতো ঘন্টা? সমগ্র বাংলাদেশে, সমগ্র বাংলাদেশে যে কোনো সরকারি হাসপাতালে ডাক্তারগণ দৈনিক কতো ঘন্টা ডিউটি করেন?

সরকারি হাসপাতালে পড়ালেখা করে, সরকারি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাজনীতি নাকি ক্ষমতানীতি

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৬:৫১


রাজা কোথায়?
রাজমুকুট আজ জাদুঘরের কাঁচে
রাজদণ্ড ইতিহাসের ধুলোমাখা পৃষ্ঠায়
বহু দেশেই রাজতন্ত্রের সিংহাসন বহু আগেই
নেমে গেছে মানুষের নির্মিত প্রজাতন্ত্রের পথে
তবু আমরা বলি রাজনীতি।

কেন বলি?
শব্দটি এত পরিচিত
যে পরিচয়ের আড়ালে প্রশ্নটি হারিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতা

লিখেছেন জিনাত নাজিয়া, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২৭

" অদেখা দূরত্ব "

তুমি ছিলে আমার সেই নাম যা আমি উচ্চারণ করতে পারিনা,
তবে বুকের ভিতর হাজার বার জপ করি।
তুমি আমার সেই আলো যা আমি চোখে দেখিনা,
লুকিয়ে রাখি হৃদয়ের অভ্যন্তরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×