somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মায়ের প্রতি সহানুভূতি নয় আসুন ভালবাসা দেখাই

২৯ শে মে, ২০১৩ রাত ১০:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টেলিভিশনে আগে একটা বিজ্ঞাপন দেখাতো। একটা ছেলে চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছে এবং একজন মধ্য বয়স্ক লোক এসে বলছে, "এত দেশ দেশ করে কি হবে? দেশ আপনাকে খাওয়ায় না পড়ায়? যত সব ফালতু সেন্টিমেন্ট ! " ঠিক তখনই ছেলেটা ওই ভদ্রলোকের মাকে উদ্দেশ্য করে বলে , " এত মা মা করে কি হবে? মা আপনাকে খাওয়ায় না পড়ায়? যত সব ফালতু সেন্টিমেন্ট ! " এতে লোকটা খেপে গিয়ে ছেলেটাকে বলে , "মাকে নিয়ে আর একটা খারাপ কথা বললে কিন্তু...!" কথার মাঝখানে ছেলেটা ভদ্রলোককে থামিয়ে বলে , " দেশটা মা না? "

এখন হয়ত এমন বিজ্ঞাপন বানাতেও বিজ্ঞাপন নির্মাতারা লজ্জা পান। কারণ এই যুগে এই প্রেক্ষাপটে তো এই বিজ্ঞাপন মূল্যহীন। পাবলিক খাবে না। যেই সন্তান মাকে (অথবা বাবাকে) বৃদ্ধ হওয়ার সাথে সাথে কাঁধের বোঝা মনে করে , তাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসতে পারে তার কাছে দেশের মূল্য যে কি তা বলাই বাহুল্য। কোনক্রমে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারলেই হল ব্যাস তাকে আর পায় কে ! তখন প্রতি মা দিবসে মার জন্য একটা নতুন wish করার কথা আর মনে থাকে না , মনে থাকে না ছোট বেলায় পড়ার টেবিলে বসে মাকে বলা সেই কথা যে মা আমি অনেক বড় হয়ে তোমাকে বিদেশে ঘুরতে নিয়ে যাব। আমরা হলাম বৈজ্ঞানিক যুগের মানুষ। আমরা একক পরিবার মানে Nuclear Family তে আস্থাবাদী। স্বামী , স্ত্রী , একটি বড়জোর দুটি সন্তানই যথেষ্ট। ছেলে বড় হলে বিয়ের পর স্ত্রী-সন্তান নিয়ে হয়ে যায় আলাদা পরিবার। দেশে থেকেই কাজের জোগাড় করতে হয়তো তাই দেশটাকে আর ছাড়তে পারি না। যদি বিদেশে সবারই কোন না কোন স্থায়ী থাকার ব্যবস্থা হত তাহলে দেশকেও হয়ত বেচে দেয়ার আগে দুবার ভাবতো না কেউ। আমরা মদ খেয়ে মাতাল হওয়া লোককে দেখেই বুঝতে পারি যে তিনি বেহুঁশ। কিন্তু যখন কেউ তার মাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসতে যায় তখন আমরা বলি না যে সে মাতাল অথবা সে বেহুঁশ। সে নিজেও বুঝে না যে সে বেহুঁশ। কেউ যখন মাতাল হয়ে তার আশেপাশে তাণ্ডব চালায় তখন তাকে হাজার বুঝালেও সে থামে না। কিন্তু নেশা ছোটার পরেই সে বুঝতে পারে যে এতক্ষন কি কাজের কাজটাই না সে করেছে ! অপরাধী অপরাধ করার সময় কখনই ভাবে না সে অপরাধ করছে , তার মাথায় এই চিন্তাই আসে না তখন। কিন্তু অপরাধটা করার পরক্ষনেই তার মনে অপরাধ প্রবণতা জাগে। ঠিক তেমনি আমরা যখন মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসি তখন আমরাও বুঝি না যে আমাদের মা-বাবা আমার কাছে কি চায়? আমরা ভাবী ভালই তো মা সারাক্ষণ যত্নে থাকবে ,সময়মত খাওয়াদাওয়া করবে , তাছাড়া মা কে তো আমি সময় দিতেই পারি না । কিন্তু যখন আমরা নিজেরা বার্ধক্যে পৌঁছাব তখনই বুঝতে পারব যে কি নির্বোধের মত কাজ করেছিলাম তখন ! এমনও হতে পারে এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমার সন্তান আমার সাথেও করতে পারে। কিন্তু হায় ! তখন এই অপরাধের জন্য ক্ষমা চাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও ক্ষমা পাওয়ার কোন উপায় ততদিনে আর থাকবে না। বাকি জীবনটা এই অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়েই কাটাতে হবে।

তাই আসুন সময় থাকতে একটু মা-বাবার দেখাশোনা করি। আর কিছু করতে না পারি অন্তত দিনের মধ্যে একবারের জন্য হলেও মায়ের দিকে হাসি মুখ করে জিজ্ঞেশ করি , "মা তুমি কেমন আছো? " এটা মায়ের প্রতি সহানুভূতি নয় এটাই ভালবাসা।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে মে, ২০১৩ রাত ১০:০৬
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×