
নির্দিষ্ট কোন ধর্মের প্রতি আমার খেদ কোন কালেই ছিল না,তাই বন্ধুদের তালিকায় অন্যধর্মালম্বীর সংখ্যাই বেশি।স্বাধীন দেশে আমাদের বাদ দিয়ে,আলাদ করে ' হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ' গঠনেও আমি বিরূপ কিছু দেখাই নি।কিন্তু,ইদানিং সামাজিক মিডিয়ায় অসামাজিকভাবে আমার হিন্দু ভাই মুসলিমদের বিরূদ্ধে একধরনের যুদ্ধেই নেমেছেন বলে মনে হয়।এর আগেও মুক্তমনা নাম দিয়ে সুকৌশলে মুসলিম বিদ্বেষি যত লেখালেখি হয়েছে,তার বেশির ভাগই ওনাদের হাতে- কলমে লেখা,তারপরও অন্য মুসলিমের মতই আমি তাদের বিরুদ্ধবাদী কোন কিছু লেখি নি।সাম্প্রতিক কিছু জঙ্গী হামলার পর,মুসলিমদের সাথে তাদের যে আচরণ,তা বেশ হতাশাজনক।অনেকে অনেকভাবে ইসলাম এবং মুসলিমকে হেয় করার চেষ্টায়,মুসলিমদের খোঁচাচ্ছেন;এই খোঁচানিটাই একটা সময় জঙ্গীবাদকে উসকে দিয়েছিল বলে আমি মনে করি।সামাজিক যোগাযোগের কোন সাইটে ডুকলে দেখা যাবে,যদি কোন মুসলিম জঙ্গী হামলার নিন্দা জানায়,তবে কোন হিন্দু ভাই স্বপ্রণোদিত হয়ে সেখানে মন্তব্য করে-" ইসলামে সন্ত্রাসীকাজ হারাম,শুনতে শুনতে কান ভারী হয়ে গেছে"," সন্ত্রাসী কি শুধু মুসলিমদেরই হতে বলছে!?" " আমেরিকা শুধু কি মুসলিমদেরই পায়!" ইত্যাদি মন্তব্যে অবশ্য কিছু মুসলিমও গালি- গালাজ দিয়ে পরিস্থিতি সরগরম করে রাখে!কিন্তু আমার ভাবনায় আসে অন্যকিছু,আমি বলি কি: পৃথিবীতে মুসলিম রাষ্ট্র ছাড়া অন্যকোন রাষ্ট্রের মানুষ কি বিনা কারণে এতটা অত্যাচার সহ্য করছে!?!ঠুনকো অজুহাতে ইরাকের মত রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধ্বংস করে ফেলা হল,হাজারো নারী,শিশু ও অসহায় মানুষ হত্যা করা হলো,এরপর বলা হল:' ইরাক হামলা ভুল ছিল! একইভাবে লিবিয়া,লেবানন,সিরিয়া ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে!এই দেশগুলাতে হামলার আগে আইএসের নামও কেউ শুননি!তারপরও শুরু হল আইএস কাহিনী,কিছু দেশপ্রেমী,কিংবা প্রতিশোধ স্পৃহাধারী মানুষতো থাকবেই,যারা দেশের জন্য লড়বে,নিজের নিজের পরিবারের জন্য লড়বে,তারা কখনো আইএস হতেই পারে না।আর যদি আইএস হয় তবে মুসলিম হতে পারে না।যদি তারা মুসলিম হতো,তবে মসজিদে বোমা হামলা চালাত না,নিরীহ মুসলিম হত্যা করতো না।আর যুদ্ধবিদ্ধস্ত একটি দেশের বাসিন্দা হয়ে যেখানে জীবন বাচাঁনো মুশকিল সেখানে দামী অস্ত্র- গোলাবারুদ আর দামী গাড়ি তারা পায় কোথায়!?গনতন্ত্রের নাম করে বিশ্বের প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ দেশগুলোতেই আমেরিকা কিংবা তার কোয়ালিশন যে সন্ত্রাসদের লালন করছে,সেটা আমি না বল্লেও চলে,বিবেক খাটালেই বুঝা যায়।নাহয়,আমেরিকা কেন আইএস ধ্বংসে পদক্ষেপ নিচ্ছে না,ওরা চাইলে এটা দিন কয়েকের ব্যাপার মাত্র!কিন্তু লোভ আর আধিপত্যবাদের নেশা সেটা করা থেকে তাদের বিড়ত রাখছে,রাখবেও।তবুও শান্তিপ্রিয় মুসলিমরা এই সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সৎ সাহস নিয়েই বলছেঃ ইসলামে সন্ত্রাসী কাজ হারাম।এই সত্য কথাটা আমাদের হিন্দু ভাইদের সহ্য হয় না,অথচ সন্ত্রাসী হামলায় ওনাদের চেয়ে মুসলিমরা হতাহত হয় বেশি।মুসলিমরা যেহেতু কুরআন বিশ্বাস করে,তাই তারা সেটার উদ্ধৃতি দেয়,অন্তত সন্ত্রাসী কাজটাকে সাধারন মুসলিমরা যে ঘৃণা করে সেটাই তার প্রমাণ,কিন্তু বিদ্বেষ ছড়ানো হিন্দু ভাইরা কি কেউ বলতে পারেন,আপনাদের কোন ধর্মগুরু আজ পর্যন্ত ভারত কিংবা মায়ানমারে নিরীহ মুসলিম নিধন 'খারাপ কাজ' কথাটি উচ্চারণ করছে!?!?তারমানে কি এই,আপনাদের ধর্ম এই কাজগুলোর বৈধতা দেয়!?সামান্য গরুর মাংসের জন্য আপনারা মুসলিমদের পিটিয়ে মারেন,কই আপনাদের কোন গুরুকেতো এটার বিরুদ্ধে টুঁ শব্দটিও করতে শুনলাম না,অথচ আপনারাই মুসলিমদের সত্যবাণীতে নিন্দা করেন!মাহমুদ আব্বাসকে দেখলাম,ফ্রান্সে শার্লি হেবদোর কারণে সংঘটিত হামলায় ফ্রান্সে গিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একাত্নতা প্রকাশ করতে,অথচ শার্লি হেবদোই ছিল উসকানিদাতা!কই,মি. ওঁলাদ সাহেবতো একটি বারও বল্লেন না,শার্লি হেবদো কাজটি ঠিক করে নি!কিংবা কখনোই বলতে শুনিনি,ফিলিস্তিনে শত- সহস্র শিশু- কিশোর - নারী হত্যা করে ইসরাইল অপরাধ করছে!তারা কখনো বলেনি,আপনারাও না,বরংচ যারা সত্য বলে,বলতে চায় তাদের রুখে দেয়ার চক্রান্ত করেন: জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার তারই অংশ!
শুধুমাত্র মুসলিমরাই,বলে,বলার সাহস রাখে যে ইসলামে সন্ত্রাসী কাজ নিষিদ্ধ,সেটা হোক মুসলিম কিংবা অন্যকোন ধর্মালম্বী।যে মানুষ কুরআনের বিরুদ্ধাচরণ করে,সে মুসলিম হতেই পারে না,হোক তার নামের আগে মোহাম্মদ কিংবা আহম্মদ।কারণ সে আল্লাহকেই অস্বীকার করেছে।তারপরও যখন কোন মুসলিম নামধারী,কোন সন্ত্রাসী হামলা চালায়,আমরা মুসলিমরা চুপ করে বসে থাকি না,বলি না' সে আমাদের লোক,তার শাস্তি দিও না' বরং বলি,তার প্রাপ্য শাস্তি দাও,যাতে ভবিষ্যতে কেউ তা আবার না করে।এটাই মুসলিমদের সাথে অন্য ধর্মালম্বীর তফাৎ!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

