
যে কোন সম্পর্ক যে কোন সময় ভাঙতে পারে। তাই বলে আমরা একে অপরের ক্ষতি করার প্রতিযোগিতায় কেন যে নামি !
এদেশে রিভেঞ্জ পর্ণের প্রথম শিকার সম্ভবত অভিনেত্রী শমী কায়সার । তার ভারতীয় সাবেক স্বামী বিচ্ছেদের পর অনলাইনে তাদের ব্যক্তিগত ভিডিও ছেড়ে দিয়েছিলেন । যদিও ভিডিওর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ আছে।
এরপর অভিনেত্রী প্রভার ভিডিও ছেড়ে দিয়ে রাতারাতি আলোড়ন সৃষ্টি করেন তার প্রেমিক রাজীব । কিন্তু বিস্ময়করভাবে প্রভা কোন আইনি পদক্ষেপ নেন নি।
ইদানিং এই বিষয়টা ভয়াবহ রকমের পর্যায়ে চলে গেছে। কিন্তু সামাজিক বাস্তবতার কারণে কেউ মুখ খুলতে চায় না।
বিচ্ছেদের পর অনেক পুরুষ তার সাবেক স্ত্রীর ছবি ভিডিও ছেড়ে দিয়ে বিচ্ছেদের প্রতিশোধ নিচ্ছেন।
গত মে মাসে সিআইডি ঢাকা চট্টগ্রাম থেকে কিছু জানোয়ারকে গ্রেফতার করে এসব জঘন্য কাজে লিপ্ত থাকার অপরাধে ।
সাবেক প্রেমিকেরাও দেন ছবি–ভিডিও
সিআইডি সূত্র আরও জানায়, এই অপরাধী চক্রের টেলিগ্রাম গ্রুপ ও চ্যানেলগুলোয় গ্রাহকের সংখ্যা প্রায় সোয়া চার লাখ। আর সেগুলোতে ২০ হাজারের মতো ভিডিও এবং ছবিসহ অন্যান্য কনটেন্ট রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার। মাসে এক থেকে দুই হাজার টাকা দিয়ে তাঁদের সদস্য হয়েছেন দেশ-বিদেশের প্রায় সাড়ে ৭০০ মানুষ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ভুক্তভোগী তরুণীদের সাবেক প্রেমিকেরাও এই টেলিগ্রামে গ্রুপে নতুন নতুন ছবি–ভিডিও দিয়েছেন। ভালো সম্পর্কের সময়ের বিভিন্ন ছবি–ভিডিও তাঁরা সায়েমকে দিয়ে দিতেন। সায়েম তাঁর অ্যাডমিনদের দিয়ে সেগুলোতে মিউজিক বসিয়ে এবং ভুক্তভোগীর ফেসবুক আইডি থেকে ছবি নিয়ে ৩০-৪০ সেকেন্ডের ভিডিও বানিয়ে গ্রুপগুলোতে প্রচার করতেন। এসব দেখে যাঁরা পুরো ভিডিও দেখতে চাইতেন, তাঁদের কাছ থেকে এক থেকে দুই হাজার টাকা করে নেওয়া হতো।
মূল নিউজ লিঙ্ক Click This Link
প্রায় বছর খানেক আগে সাংবাদিক ও লেখক , আশীফ এন্তাজ রবি আরজে কিবরিয়ার এক প্রোগ্রামে এসে নিজের জীবনের গল্প শেয়ার করেছিলেন ।
ফেসবুকে এক নারীর সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল । কিন্তু সেই নারীর একাধিক প্রেমিক ছিল যা রবি জানতেন না। কে বা কাহারা সেই নারীর স্পর্শকাতর কিছু ছবি অনলাইনে ছেড়ে দেয়। ঐ নারী যদিও এগুলো এডিট বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু রবি তার জানিয়েছিলেন , সেগুলো কোনভাবে এডিট না। রবি তার ক্ষমতা ইউজ করে ঐসব ছবি অনলাইন থেকে সরিয়ে ফেলার ব্যবস্থা করেন।
এবার আসা যাক রিভেঞ্জ পোয়েম এর কথায়
আমরা অনেকেই প্রেমে ব্যর্থ হয়ে বিদ্বেষমূলক কবিতা লিখে থাকি ।
যেমন হেলাল হাফিজ লিখেছিলেন...........
ভালোবেসেই নাম দিয়েছি ‘তনা’
মন না দিলে
ছোবল দিও তুলে বিষের ফণা ”
আবার বাংলাদেশে রিভেঞ্জ পোয়েম এর উদাহরণ তসলিমা নাসরিন এবং রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহ এর কবিতা । সম্পর্কের টানাপোড়নে উভয়েই লিখেছেন বিদ্বেষপূর্ণ কথামালা । শুরু করেছিলেন তসলিমা।
তার চেয়ে কুকুর পোষা ভাল
ধূর্ত যে শেয়াল, সেও পোষ মানে
দুধ কলা দিয়ে আদরে আহলাদে
এক কবিকে পুষেছি এতকাল
আমাকে ছোবল মেরে
দেখ সেই কবি আজ কিভাবে পালায়”
প্রতিউত্তরে রুদ্রও কম যান নি । তিনি লিখেছিলেন ।
তুমি বরং কুকুর পোষো
প্রভুভক্ত খুনসুটিতে কাটবে তোমার নিবিড় সময়,
তোমার জন্য বিড়ালই ঠিক,
বরং তুমি বিড়ালই পোষো
খাঁটি জিনিস চিনতে তোমার ভুল হয়ে যায়
খুঁজে এবার পেয়েছ ঠিক দিক ঠিকানা
লক্ষী সোনা, এখন তুমি বিড়াল এবং কুকুর পোষো
শুকরগুলো তোমার সাথে খাপ খেয়ে যায়,
কাদা ঘাটায় দক্ষতা বেশ সমান সমান।
ঘাটাঘাটির ঘনঘটায় তোমাকে খুব তৃপ্ত দেখি,
তুমি বরং ওই পুকুরেই নাইতে নামো
উংক পাবে, জলও পাবে।
চুল ভেজারও তেমন কোন আশঙ্কা নেই,
ইচ্ছেমত যেমন খুশি নাইতে পারো।
ঘোলা পানির আড়াল পেলে
কে আর পাবে তোমার দেখা।
মাছ শিকারেও নামতে পারো
তুমি বরং ঘোলা পানির মাছ শিকারে
দেখাও তোমার গভীর মেধা।
তুমি তোমার স্বভাব গাছে দাঁড়িয়ে পড়ো
নিরিবিলির স্বপ্ন নিয়ে আর কতকাল?
শুধু শুধুই মগজে এক মোহন ব্যধি
তুমি বরং কুকুর পোষো, বিড়াল পোষো,
কুকুর খুবই প্রভুভক্ত এবং বিড়াল আদরপ্রিয়
তোমার জন্য এমন সামঞ্জস্য তুমি কোথায় পাবে?
পরিশেষে একটা কথা মনে বাজে । আহারে জীবন ! চিরসখা কেন যে হয় চিরবৈরী !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

.jpg)