পিতা মাতা ছেলে মেয়ে নিয়ে টিভি দেখছেন কিন্তু বিজ্ঞাপনের নামে যা দেখানো হলো তাতে টিভির চ্যানেল পরিবর্তণ না করে কোন উপায় নেই – আর ছেলে মেয়ে যদি প্রশ্ন করে বসে তা হলে তো কথাই নেই ।
যে কোন পুরুষ নারীর জীবনে শৌশব ,কৌশর একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় । এ বয়ষের যে কোন শিক্ষা বা স্মৃতি যে কোন মানুষের জীবনে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থেকে যায় । নারী-পুরুষ যে কোন লিঙ্গের জন্যই এ সময়টি মানষিক এবং শারীরিক বৃদ্ধির জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ । বর্তমান প্রর্যন্মের পিতা-মাতারা এ ব্যাপারে অত্যান্ত সচেতন । একটি শিশু যখন তার শিশুত্ব অতিক্রম করে শরীরিক কঠিন পরিবর্তণগুলোর মুখোমুখি হয় তখন পিতা মাতারাই বন্ধুর মতো এগিয়ে আসে । কঠিন ব্যাপারগুলো বুঝিয়ে দিয়ে সেগুলোকে সহজ করে তুলে । আজকের একজন পুরুষ বা নারী যেসব ধারার মধ্য দিয়ে তার যৌবনে পৌছিয়েছেন সেই একই ধারার মধ্য দিয়ে একটি শিশুও তার যৌবনে পদারপণ করবে । এ ক্ষেত্রে বর্তমান সমা্জের পিতা মাতারা অত্যান্ত সচেতন ।
কিন্তু ইদানিং মিডিয়াতে সচেতনতার নামে যে নোংড়ামি দেখিয়ে বিজ্ঞাপর্ণ প্রচার করা হচ্ছে সেগুলোর প্রতিবাদ করার জন্যই আমার আজকের এ লেখা ।
প্রথমে আসি, একটি কনডমের বিজ্ঞাপনে – সবাই কম বেশি বিজ্ঞাপনটি দেখেছি । সেটি হলো একজন নারী গভীর রাত্রিরে ঘুম থেকে জেগে বিছানার সাইট টেবিল খুলে স্বামীকে মেডেল দিচ্ছেন । আমার বা আপনার শিশু সন্তান প্রশ্ন করতে পারে, বাবা মেয়েটি ঘুম থেকে জেগে লোকটিকে ম্যাডেল দিচ্ছে কেন ? তখন জবাব কি দেবেন ? অথবা মনে করুন আপনি পিতা মাতার সামনে বসে টিভি দেখছেন তখন কি অবস্থার মধ্যে আপনাকে পরতে হবে ? কনডম ব্যবহার করলে নাকি আসল পুরুষ হওয়া যায় । এখন কথা হলো এসব বিজ্ঞাদাতা এবং নিমাতাদের পিতারা তাদের জন্মের সময় তো কনডম ব্যবহার করেনি - তবে কি তারা পুরুষ ছিলেন না ছিলেন হিজরা ?
এবার আসি, মেয়েদের স্যানেটারি ন্যাপকিন নিয়ে একটি বিজ্ঞাপনের কথায়- বিজ্ঞাপনটিতে দেখায়, জাহাজে নাবিক হিসাবে কর্মরত একজন নারী ন্যাপকিন ব্যবহার করে অন্যদের সঙ্গে কুচকাওয়াজ করছে । মেয়েটি হেটে যাওয়ার সময় ক্যামেরায় এমন ভাবে মেয়েটির পেছনের অংশ দেখায় । যা কিনা অত্যান্ত লজ্জার এবং নোড়ামি ।
এছাড়া ন্যাপকিনের শোষন ক্ষমতা এমন ভাবে দেখানো হয় যে, যা কিনা পরিবাবের সবার সঙ্গে বসে দেখা যায় না । বিজ্ঞাপনে বলছে, সচেতনতার কথা কিন্তু আসলে দেখাচ্ছে নোংড়ামি । আবার দৈনিক পত্রিকাগুলোর প্রথম পাতায় ছবিসহ এমন ভাবে বিজ্ঞাপন ছাপানো হচ্ছে যা কিনা সত্যিই লজ্জার ।
পণ্য বিক্রির জন্য সচেতন করার দোহাই দিয়ে শিশু এবং সমাজকে নোড়ামির দিকে ঢেলে দিচ্ছে কয়েকটি কো্ম্পানী । এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েদের উপড় ভয়াবহ প্রভাব পরবে বলে আমি মনে করছি । বেশ কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম সেভেন-এইটের ছেলে মেয়েরা এখন কনডম , মেয়েদের স্যানেটারি ন্যাপকিন নিয়ে ক্লাসের বাহিরে আলোচনা করে হাসাহাসি করে একে ওকে খারাপ ঈঙ্গিত করে । এই হচ্ছে সচেতনার ফসল । সমাজের উপড় তলার মানুষ যারা যারা বুদ্ধিজীবি নামের উপাদি ধারন করে বসে আছেন – যারা সরকারী বিশেষ বিশেষ দিনে সরকারের টাকায় খাবার খেয়ে থাকেন তারা কি এসব দেখেন না ? নাকি দেখেও সচেতনতার নামে ইচ্ছে করে চোখ বন্ধ করে থাকেন ? শিক্ষার নামে যারা কুশিক্ষার বীচ সমাজে বপণ করে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার । এ ব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আহবান জানাচ্ছি ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ৮:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



