আমি নিজে লজ্জাবোধ করি যখন দেখি অনেক কবি, লেখকেরা নিজের পকেটের টাকায় বই ছাপিয়ে সেই বই বিক্রির জন্য ভিক্ষুকের মতো হন্যে হয়ে পরছে তখন সত্যিই লজ্জায় বেগুনি হয়ে যাই । বই হচ্ছে আত্মার খোরাক ভাল লেখা এমনিতেই পাঠক খুঁজে নেবে । তার জন্য ভিক্ষুকের মতো দাড়িয়ে থেকে অথবা পরিচিত পরিজনকে সৌজন্য সংখ্যা না দিয়ে বই উল্ট বই কিনে পড়তে উপদেশ দিয়ে বুক ফুলিয়ে বলা, বই কিনে সাহিত্যের উন্নতি ঘটান ইত্যাদি মার্কা কথাবার্তা সত্যিই লজ্জার । আরে বাবা, কোন কবি বা লেখকের দু'একটা সৌজন্য সংখ্যা পেয়েই তো পরিচিতজন তার সেই লেখার মান বুঝতে পেরে অন্যকে সেই বই পড়তে অনুপ্রেরণা যোগাবে । অপরিচিত মানুষ তো আর নিজের টাকায় অখাদ্য কিনে নিতে চাইবে না এটাই স্বাভাবিক । মুখের স্বাদের জন্য আমরা কতো কিছু না করি আর আত্মার খাবারের জন্য বই কিনবো না সেটা কি হয় ?
বর্তমান যুগ হচ্ছে বিজ্ঞাপনের । বিজ্ঞাপন ছাড়া মার্কেট পাওয়া যায় না । ভাল জিনিষেরও প্রচারের প্রয়োজন রয়েছে । নতুন লেখকদের উচিত বেশি বেশি প্রচার মুখ হওয়া । বিজ্ঞাপনের আশ্রয় নেওয়া । লিখতে লিখতে যেমন লেখক তেমনি গাইতে গাইতে গায়ক । অনেক কবি লেখককে দেখেছি নিজের গাঁটের টাকায় তুমুল উত্তেজনায় টাকায় বই ছাপিয়ে তার চেয়েও তুমুল উত্তেজনায় দমে যেতে । আমি চাই না এমনটা সবার ক্ষেত্রে হোক ।
সাহিত্য একটি বিশাল ব্যাপার । এখানে একটু একটু করে জায়গা করে নিতে হয় । লেগে থাকতে হয় । এমন কি জীবন দশায় না হলেও মৃত্যুর পরও ভাল সাহিত্যের মূল্যায়ন হয়ই হয় । এম ভুঁড়ি ভুঁড়ি উদাহরণ রয়েছে । যাই হোক সাত সকালে কঠিন কঠিন কথা বলে কারো মনে কষ্টে দিতে চাই না । সকল নতুন লেখকদের জন্য রইল শুভেচ্ছা ও শুভকামনা । পরিশেষে আবারও বলছি, একজন লেখক বা কবিকে আর যাই মানাক না কেন নির্লজ্জ হওয়া মানায় না ।
এখন কথা হচ্ছে মুনফাখোর প্রকাশক তো নতুনদের ভিড়তে দেয় না তা হলে , কি করবেন ? উত্তর হচ্ছে প্রকাশককে উষ্টা মেরে হলেও লিখে যাবেন । নিজের টাকায় যদি বই ছাপাতেই হয় তা হলে প্রতি বছর যেন আপনার কম করে হলেও দুটো বই বাজারে থাকে সেটা নিশ্চত করুন । বাকিটা সৃষ্টিকর্তার মর্জি ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১০:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।





