somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাখাওয়াত হোসেন  বাবন
ব্লগিং শুরু করি প্রথম আলো ব্লগে "আমার কবিতা নামে" আমি ব্লগিং করি মূলত নিজের ভেতরে জেগে উঠা ব্যর্থতা গুলোকে ঢেকে রাখার জন্য । দুনীতিবাজ, হারামখোর ও ধর্ম ব্যবসায়িদের অপছন্দ করি ।

শিক্ষক শব্দটার ধর্ম কি ? এই শব্দটা হিন্দু না মুসলমান নাকি বৌদ্ধ না খ্রিষ্টান ? শিক্ষক শব্দটার কোন ধর্মের সম্পত্তি ?

১৮ ই মে, ২০১৬ দুপুর ১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



শিক্ষকের কান ধরে উঠ বস করানো নিয়া যারা জাত গেল জাত গেল করতাছেন তাদের বলছি , শিক্ষকেরা ও মানুষ । তারাও দুনীতি করে, স্কুলের টাকা মেরে খায় । জি হ্যাঁ তারাও সুযোগ পেলে ফুসলিয়ে ফাঁসলিয়ে ছাত্রী ধর্ষণ করে । পরিমলের কথা কি ভুলে গেছেন ? আমাদের স্মৃতি শক্তি এমতেই খুব দুর্বল সব কিছু খুব তাড়াতাড়ি ভুলে যাই । শেখ হাসিনা একবার তামাশা করে এক বক্তিতায় বলছিলেন এ কথাটা । কথাটা মনের ভেতর গেঁথে আছে ।
আচ্ছা বলুন তো দেখি, শিক্ষক শব্দটার কোন ধর্মের ? এই শব্দটা হিন্দু না মুসলমান নাকি বৌদ্ধ না খ্রিষ্টান ? এ দেশে এখন আন্দোলনগুলো জাতী ধর্মের উপর নির্ভর করে । সবাই সবাইকে আলাদা করে দেখে । কেউ কাউকে মানুষ হিসাবে দেখে না । এখন আমরা আর মানুষ নই হয় মুসলমান নয় হিন্দু নতুবা অন্য কিছু । ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখেন এখন এটাই হচ্ছে । টাকার বস্তা নিয়ে ধরা পরার পরেও রহস্যজনক কারণে কেউ দপ্তরহীনমন্ত্রী থেকে যায় । আবার জামাতের দলীয় পরিচয় মুছে ফেলে কেউ নৌকার টিকিট পায় । আবার সংখ্যা লঘুর তকমা লাগিয়ে ফায়দা লুটে । কিন্তু নির্যাতিত বিচার পায় না । মিডিয়ার কাটতি বাড়ে। রাজনীতিতে সব চলে ।
শিক্ষক শব্দটির কোন ধমের অন্তভুক্ত নয় । এট কোন ধমের সম্পত্তিও নয় । এই শব্দের সঙ্গে যিনি নিজের নাম যুক্ত করেন তিনি হয়ে উঠেন সকল র্ধমের লোকের জন্য আর্দশ । শিক্ষক শব্দটি একটি আর্দশের নাম । একটি শ্রদ্ধীয় উর্চ্চরন । বাংলা ভাষায় যতোগুলো শব্দ রয়েছে পিতা, মাতার পরেই আমি এই শব্দটিকে রাখবে । কেননা শিক্ষকেরা মানুষ গড়ার কারিগর । তারাই সমাজ গড়েন । তাদের হাতেই জাতীর ভবিষ্যত । কিন্তু তারা ও তো মানুষ ! তাদের মধ্যেও ভাল মন্ধের মিশ্রন রয়েছে । সমাজে ভাল শিক্ষক যেমন আছেন খারাপ শিক্ষকও তেমনি আছেন । একজন শিক্ষকের কারণে একটি শিশুর জীবন যেমন উজ্জল হয়ে উঠে ঠিক তেমনি কিছু শিক্ষকের কারণে অনেকের জীবন নরকে পরিনত হয় ।
নারায়নগঞ্জের শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার পর দেখতে পাচ্ছি বিষয়টিকে অনেকেই হিন্দু মুসলিম দৃষ্টি কোণ থেকে দেখছেন । এটা ঠিক হচ্ছে না । অপরাধী যেই হোক তাকে শাস্তি পেতেই হবে । সে এমপি হোক কিংবা শিক্ষক হোক । আমি মনে করি একজন আদর্শ শিক্ষক যতোক্ষন তার শিক্ষা প্রতিষ্টানে থাকেন ততোক্ষন তিনি পিতার আসনটি দখল করে থাকেন । নারায়নগঞ্জের এমপি সাহেব অত্যান্ত অন্যায় একটি কাজ করেছেন । সব চেয়ে মজার বিষয়টি হচ্ছে, ভাল করে খোজ নিয়ে দেখুন ঐ শিক্ষকের শাস্তিতে ঐ বিদ্যালের অনেক শিক্ষই খুশিতে ডুগডুগি বাজাচ্ছেন । তাদের অনেকে আবার দীঘদিন যাবত এই চক্রান্তের সাথে জড়িত ।
সবচেয়ে ভাল ছাত্রটিই সবচেয়ে ভাল শিক্ষক হতে পারেন । সেটাই হওয়া উচিত কিন্তু এদেশে এখন যারা শিক্ষাকে পেশা হিসাবে বেছে নিচ্ছেন তারা বাধ্য হয়ে নিচ্ছেন । কেননা দেশের বর্তমান অবকাঠামো অনুযায়ী তাদের যে বেতন দেওয়া হয় তাতে জীবন চলে না । চলার কথা নয় । ভাল ছাত্ররা চলে যায় অন্য পেশায়। খারাপেরা তাই এই পেশাটিকে নিয়ে বাণিজ্য শুরু করে ।
এক একটি শিক্ষা প্রতিষ্টান এখন পরিনত হয়েছে বাণিজ্য প্রতিষ্টানে । এক সময়ের সব চেয়ে খারাপ ছাত্রটিই এখন একটি বাণিজ্যিক শিক্ষা প্রতিষ্টানের মালিক । তারই আন্ডারে কাজ করতে হচ্ছে, অনেক ভাল শিক্ষকদের । যারা প্রায় সকলেই মামা খালুর জোড় নেই বলে । চাকরী বাকরী না পেয়ে একান্ত বাধ্য হয়ে শিক্ষাকে পেশা হিসাবে বেছে নিয়েছেন । শিক্ষা প্রতিষ্টানগুলো ছাত্র ছাত্রীদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা নিলে ও শিক্ষকেরা সে টাকার মুখ দেখেন না । এটা সমাজের জন্য লজ্জার । এটা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জার ।

একজন শিক্ষকের সাথে অশোভন আচরণ করা হয়েছে, তাই আমরা তার প্রতিবাদ করছি । যারা এটাকে ধর্মীয় রঙ্গে রাঙিয়ে রং ছড়াতে চাইছেন তাদের কে বলবো সব কিছু নিয়ে রাজনীতি ফাজনীতি করা ঠিক নয় । তাতে নিজেরই ক্ষতি হয়ে থাকে ।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০১৬ দুপুর ১:৫৭
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগের পর-

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০৮



সময় তখন ১৯৫০ সাল।
ওমর আলীর জ্বর এসেছে। জ্বর নিয়েই তিনি পত্রিকা পড়ছেন। দীর্ঘদিনের অভ্যাস। টারজান গিয়েছে বাজার করতে। এর আগেও টারজান বেশ কয়েকবার বাজার করেছে। বাজার করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×