চট্টগ্রামের এক শিক্ষকের ছাত্র পেটানোর ভিডিও নিয়ে খুব হইচই হচ্ছে। মাদ্রাসার শিক্ষক বলেই বোধ হয় হইচইটা একটু বেশি হচ্ছে । শিক্ষক মানুষ, ছাত্র পেটাবেন কেন? কয় টাকা সে বেতন পায় ? সমাজে তার অবস্থান কি ? কতো বড় সাহস যে, সে ছাত্র পেটায়। ঠিক আছে, পুলিশে ধরে নিয়ে গেছে । আচ্ছা করে পিটিয়ে হাত পা ভেঙ্গে দিক । তবেই বুঝবে পিটানোর মজা । তাই না ? এমনটাই হয়তো অনেকে ভাবছেন ।
আচ্ছা, এই যে ঘটনাটা ঘটল এর ফলে সমাজের সকলের কাছে কি ম্যাসেজ গেলো ? ওই হুজুর বেচে থাকতে আর কোনদিন কোন ছাত্রকে পড়ার জন্য পেটাবেন না । তাতে যদি ওনার কোন ছাত্র হাফেজ নাও হয় তাতেও ওনার কিছু যাবে আসবে না । অবশ্য এই ঘটনার পরেও যদি উনি এই শিক্ষকতা পেশায় থাকেন । এখন থেকে উনি মাসে মাসে বেতন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকবেন । আরাম করবেন , মাদ্রাসা ফেলে সরকারী প্রাইমারী শিক্ষকদের মতো স্কুল টাইমে বাসা, বাড়িতে গিয়ে বাজার সদাই করবেন। ক্ষেত খামারী দেখবেন । ছাত্রছাত্রী গোল্লায় গেলে কার কি ?
আচ্ছা, এই ঘটনায় ওই ছাত্র কি ম্যাসেজ পেলো ? সে তো এরপর থেকে ধরেই নিবে, সে যাই করুক না কেন কেউ আর তার শরীরে হাত তুলতে পারবে না । তাই সেই রাজা । ইচ্ছে হলে পড়বে ইচ্ছে না হলে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আড্ডা দিবে না । কার বাপের পোলার এতো সাহস যে তারে পেটায়?
পিতা মাতা, বন্ধুবান্ধব বেয়াদব হলে সন্তানের বেয়াদবি কোনদিন বন্ধ করা যায় না । সে ক্ষেত্রে বেতের বিকল্প নেই । প্রতিদিন চারপাশে এই যে এতো এতো ঘটনা ঘটছে আর আমরা শুনে শুনে চুকচাক শব্দ করছি । এর জন্য কি আমরা দায়ী নই ? তারাও তো কোন না বাবা মায়ের সন্তান। কোন না শিক্ষকের ছাত্রছাত্রী । স্কুলে স্কুলে এখন ছেলেদের গ্যাং হয়, মাস্তানি করে , ইভ টিজিং করে । ক্লাস সিক্স, সেভেন থেকে প্রেম ভালবাসা শুরু করে দেয়। কিছু বললে শিক্ষকের চোখ রেখে কথা বলে । উল্টো হুমকি দেয় । এর জন্য দায় কাদের ? শিক্ষকের,পিতা মাতার না রাস্ট্রের না সমাজের, না স্কুলের?
স্কুলগুলোতেও ওই একই অবস্থা । ছাত্রদের পেটানো যায় না, কঠিন ভাষায় বকাও দেওয়া যায়না । কিন্তু তবুও খুব ভাল রেজাল্ট হতে হবে । আদব কায়দা শেখাতে হবে এই সবের দায় ভার সব শিক্ষকদের। আদব কায়দা পরিবার থেকে শেখানো হবে না। তবুও আমরা চাইবো স্কুল, মাদ্রাসা থেকে সে আদব কায়দা শিখে আসবে । বাবা মা শুধু মাসে মাসে টাকা দিয়ে ফল ভোগ করবে । আগে ছেলে মেয়েরা স্কুলে যেতো লেখাপড়া শিখতে এখন যায় আড্ডা দিতে।
আমার ছোট বেলার স্কুলে ভর্তির দিনটির কথা খুব মনে আছে , ভর্তির সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে ক্লাসে বসিয়ে দিয়ে আসার সময় মা ক্লাসের শিক্ষককের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, স্যার, ওর চামড়া, মাংস আপনার হাড়গুলো শুধু আমার । হাড় থাকলে মাংস হবেই । শুধু খেয়াল রাখবেন যেনো মানুষের মতো মানুষ হয় । মানুষ হয়েছি কিনা জানিনা, তবে অমানুষ যে হইনি সেটা বেশ বুঝতে পারি, কারো মাথায় বারি দিয়ে খাইনা, দুর্নীতি করিনা। সৎ পথে খাই শান্তিতে ঘুমাই।
শিক্ষক, শিক্ষিকারা হচ্ছেন, পিতা মাতার ই আরেক রুপ। তারা প্রয়োজনে কখনো শাসন করবেন আবার কখনো মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করবেন ।
চারা গাছের শুধু যত্ন করলে হয় না প্রয়োজন তার আগাছা,ডাল পালাগুলোও ছেটে দিতে হয় , তবেই তাতে ফসল ফলে।
বাদশা আলমগীর চেয়েছিলেন তার সন্তান শুধু পানি ঢেলে নয় শিক্ষকের পা নিজ হাতে ধুয়ে দিয়ে শিক্ষকের প্রতি তার শ্রদ্ধা প্রদর্শণ করবে আর এই যুগের পিতা মাতা চাইছে , শিক্ষক তাদের সন্তানকে মাথায় তুলে রাখবে,মাথায় তুলে নাচবে তারা শুধু অর্থ দিয়েই খাল্লাস।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০২১ সকাল ৯:৪৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




