একজন পিয়ন, একজন ড্রাইভার, একজন রিকশা চালকের চেয়েও একজন শিক্ষকের মাসিক আয় কম। তার উপরে প্রায় এক বছর যাবত বেতন বন্ধ। অনেকে পেশা পালটে ফেলেছেন, অনেকে পুঁজি ভেঙ্গে খেয়ে, ধার দেনা করে যুদ্ধটা চালিয়ে যাচ্ছেন ভাবা যায়? অথচ এই শিক্ষকেরাই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জাতিকে আলোর পথ দেখাচ্ছে।
দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেবার তারিখ পেছাতে পারে। যদি রোজাকে বিবেচনায় আনি তাহলে বন্ধ রাখাটাই যুক্তিযুক্ত। এই দেশে এখন আর কোন সিদ্ধান্ত বিবেচনার ভিত্তিতে নেওয়া হয় না। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় চাটাচাটির ভিত্তিতে।
যারা সৎভাবে কোন কিছু কর্তে চায় তাদের হয় প্রমোশন দেওয়া হয়না, না হয় শাস্তি দেওয়া হয়। ভেজাল দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো ম্যাজিস্ট্রেট সাহেবকে প্রমোশন দেওয়া হয় নাই। আড়ং এর মতো প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে তাকে রাতারাতি বদলি করা হয়েছিলো। এবার বঞ্চিত করা হলো প্রমোশন থেকেও।
রেলওয়ে যোগদিয়ে প্রশাসনকে দুর্নীতি মুক্ত করার কথা বলায় অন্যজনকে শাস্তি দেওয়া হয়। ওএসডি করে বসিয়ে রাখা হয়েছে। এরপর আর কার বুকের পাটা হবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার।
বঙ্গবন্ধুর ভাষায় যদি বলি, তাহলে বলতে হয়, সব দখল করে নিয়েছে চাটার দল। এই দেশে এখন ভাল কিছু করার ইচ্ছা প্রকাশ করার অর্থ হচ্ছে,দুর্নীতিবাজদের চক্ষুশূল হওয়া।
জনগণ ও এখন লেজ গুটিয়ে থাকে। সবাই চায় অন্য বলুক অন্য করুক আমি না বাবা। আমি শুধু বসে বসে মোয়া খাবো।
যা বলতে চাচ্ছিলাম, "শিক্ষা যদি হয় জাতির মেরুদণ্ড শিক্ষকেরা তাহলে সেই মেরুদণ্ড তৈরি করার কারিগর।"
বিশ্ব ব্যাপী করোনা পরিস্থিতি বিরাজ করার পর বাংলাদেশের শিক্ষকেরা মানবেতর জীবন যাপন করছে। বিশেষ করে বেসরকারি শিক্ষকদের অবস্থা খুবই করুন।
এমনিতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার ফলে, মালিক পক্ষ শিক্ষকদের নামমাত্র বেতন, ভাতা দিয়ে নিজেদের লাভটাই বুঝে নিয়েছেন সবসময়।
শিক্ষকেরা প্রাইভেট টিউশনি দিয়ে জীবন জীবিকার সংগ্রাম চালিয়ে গেলেও করোনাকালিন সময় সেসবও বন্ধ হয়ে গেছে। কোন কোন স্কুল হাফ বেতন দিলেও অনেক স্কুলই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শিক্ষকেরা মানুষ গড়ার কারিগর হয়েও দিনমজুরের চেয়েও করুন জীবন যাপন করছে।
সরকার তাদের দিকে ফিরেও তাকাচ্ছে না। অথচ দেশের শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে ৯৫% ভাগ বেসরকারি শিক্ষকদের অবদান। তারাই কিনা সব দিক থেকে বঞ্চিত হয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে।
দ্রব্য মূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়তে লড়তে তাদের এখন স্ত্রী, পুত্র, কন্যা নিয়ে আত্মহত্যা করাটাই বাকি।
এই দেশের জনগণের টাকায় শিক্ষক এবং কৃষকদের অধিকার সব চেয়ে বেশি হওয়ার কথা । সরকারের উচিত বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের ও কৃষকদের ভর্তুকি দেওয়া। প্রয়োজনে তাদের সরকারী কোষাগার থেকে বিশেষ সর্তে লোণ এর ব্যবস্থা করা।
হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়ে যায় পাচার হয়ে যায় অথচ দেশের শিক্ষকেরা কৃষকেরা থাকেনা না খেয়ে আধা পেটে।
একজন পিয়ন, একজন ড্রাইভার, একজন রিকশা চালকের চেয়ে ও একজন শিক্ষকের মাসিক আয় অনেক কম। অথচ এই শিক্ষকেরাই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। জাতিকে আলোর পথ দেখাচ্ছে।
বেসরকারি শিক্ষকদের উচিত নিজেদের দাবী দাওয়া নিয়ে শিক্ষামন্ত্রনালয়ে দাবী দাওয়া পেশ করা। নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে বন্ধ রেখে সরকারকে নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়া।
শিক্ষকদের বঞ্চিত করে যে জাতি তৈরি হচ্ছে,তারা চাটার দল ছাড়া আর কিছু ই হবে না। তাদের দিয়ে শুধু দুনীতিই হবে দেশের উন্নতি হবে না।
জাতিকে উন্নত করতে চাইলে শিক্ষকদের প্রাপ্য তাদের বুঝিয়ে দিন। দশ বছরের অধিক চালু থাকা স্কুলগুলোকে সরকারি করে নেওয়া।
সাখাওয়াত বাবনের ব্লগ থেকে
১৩.০৩.২১
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই মার্চ, ২০২১ রাত ৯:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




