somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাখাওয়াত হোসেন  বাবন
ব্লগিং শুরু করি প্রথম আলো ব্লগে "আমার কবিতা নামে" আমি ব্লগিং করি মূলত নিজের ভেতরে জেগে উঠা ব্যর্থতা গুলোকে ঢেকে রাখার জন্য । দুনীতিবাজ, হারামখোর ও ধর্ম ব্যবসায়িদের অপছন্দ করি ।

আজ সোহিনীর বিয়ে (গল্প)

১৫ ই জুলাই, ২০২৫ বিকাল ৫:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



এক

গতকাল ছিলো গায়ে হলুদ ৷
বন্ধু,বান্ধব, শক্রু, মিত্র সকলে গিয়ে হাজির হয়েছিলাম ওদের বাড়িতে। আমি যাবো না, যাবো না করেও শেষ পর্যন্ত নীরা'র জোড়াজুড়িতে গিয়ে হাজির হলাম।

দুই

আজ সোহিনীর বিয়ে।
সকাল থেকে মুষলধারায় বৃষ্টি হচ্ছে।
সেই সঙ্গে গুরুম গুরুম শব্দে বাজ পড়ছে। আবহাওয়া সংবাদ দেখলাম, সারাদেশে তিন থেকে চার নাম্বার বিপদ সংকেত জারি করা হয়েছে ৷ এমন বৈরি আবহাওয়ার খবর শুনেও মনের কোণে ক্ষীণ একটা আশার আলো জ্বলে উঠলো।

তিন

রাত নটা।
বৃষ্টি একটুও কমেনি। রাস্তায় পানি জমে একাকার অবস্থা৷ কমিউনিটি সেন্টারে পৌছে দেখি বর পক্ষ এখনো আসেনি। অর্ধেক অতিথি খেয়ে দেয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গল্প,গুজব করছে।

সোহিনী লাল বেনারসি পড়ে সেজেগুজে বউ সেজে স্টেজে বসে আছে। আগত অতিথিরা ওর সাথে ছবি তুলছে ৷
আমাকে দেখে সোহিনী হেসে হাতের ইশারায় কাছে যেতে বলল। আমি দেখেও না দেখার ভান করে সরে গেলাম৷ ডাকলেই যেতে হবে নাকি?

সোহিনীর বাবা, ভাই আর মামাদের দেখলাম, গম্ভীর মুখে ইমাম সাহেবকে সাথে নিয়ে বসে আছেন ৷ তাদের চোখে মুখে অজানা উৎকন্ঠা। বর পক্ষ এখনো এসে পৌঁছায়নি দেখে, তারা খুবই বিচলিত হয়ে আছে ।

সকালের খুশিটা আবার ফিরে এলো। স্বার্থপরের মতো খুব করে চাইছি আজ যেনো বিয়েটা না হয় ৷ সব বিয়ে হতে হবে, সবাইকে বিয়ে করতেই হবে । এমন কথা কি কোথাও লেখা আছে?

আমাকে দেখতে পেয়ে নীরা এগিয়ে এলো।
দু'জন চুপচাপ পাশাপাশি বসে সোহিনী'কে দেখতে লাগলাম।

অনেকক্ষণ পর নীরা বলল,"কি অদ্ভুত সুন্দর লাগছে ওকে তাই না রে ? "
- হুম।
- "যা না ওর সাথে একটা ছবি তুলে আয়।" নীরা ফের বলল।
আমি কিছু বললাম না।
- কি রে, চুপ করে আছিস যে?
- ছবি তোলার দরকার কি?
- দরকার আবার কি ; স্মৃতি থাকবে। নীরা বিরক্ত হয়ে বলল।
- তোদের সাথে এমনিতেই অনেক স্মৃতি আছে। নতুন করে আর লাগবে না৷
- এই কি হয়েছে রে তোর? এমন খ্যাচখ্যাচ কথা বলছিস কেন?
আমি কিছু না বলে ওর দিকে তাকিয়ে হেসে বললাম, "আচ্ছা ধর, আজ ওর বর এলো না, তাহলে কি হবে? "
নীরা বেশ অবাক হয়ে আমার দিকে তাকিয়ে ভ্রু কুচকে বলল,"কি আর হবে বিয়ে বন্ধ হয়ে যাবে৷ এ প্রশ্ন করছিস কেন?"
আমি হেসে বললাম, "এমনি, কোন কারণ নেই। "
নীরা বলল, "এমন অলুক্ষুনে কথা, এমন সময় বলতে হয়?"
আমি অপ্রস্তুত হাসি হেসে বললাম, "বাদ দে।"
নীরা এবার সরাসরি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল," এ্যই বাবন; একটা কথা বল তো। তুই কি সোহিনী'কে ভালবাসিস?"

আমি আবারো অপ্রস্তুত হাসি হেসে বললাম,"কি সব যাতা বলিস? মাথা ঠিক আছে তো? "
নীরা কি বুঝলো জানি না৷ কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে, একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে উঠে চলে গেলো ।

চার


বর এলো রাত সাড়ে ১১টায়।
ঈমাম সাহেবের বড্ড তাড়া। তিনি দ্রুত বিয়ে পড়িয়ে হাদিয়া নিয়ে চলে গেলেন।

রাত সাড়ে ১২টায় সোহিনীকে বরের গাড়িতে তুলে দিয়ে বের হয়ে এলাম কমিউনিটি সেন্টার থেকে।

মুষুলধারে বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে ফুটপাত ধরে হাটতে লাগলাম। আজ সারারাত হাটবো। দু'গাল বেয়ে নোনা জলের ধারা বৃষ্টির জলের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যাচ্ছে । ভালোই হলো, বৃষ্টির জলে, চোখের জল দেখা যায় না৷

বি.দ্র. প্রায় প্রতিটি বিয়ের অনুষ্ঠানে, এমন দু'চারজন বাবন থাকে; যাদের চোখের জল, বৃষ্টির জলের সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় ৷

শেষ ।
১৫.০৭.২৫
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০২৫ বিকাল ৫:৩৫
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলে গেছো তাতে কি? নতুন একটা পেয়েছি, তোমার চেয়ে করে বেশী চাঁন্দাবাজিইইই....

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:২৭

আমি কবিতা লিখি না কখনও। চেষ্টাও করি না। আমি মূলত কবিতা অপছন্দ করি। কিন্তু....



আমি যখন ক্লাস ৪/৫ এ পড়ি, তখন স্কুলের বার্ষিক ক্রিড়া প্রতিযোগীতার সময় নিজের লেখা গল্প-কবিতা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজব পোশাক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৪৬


এক দেশে ছিল একজন রাজা। রাজার হাতিশালে হাতি, ঘোড়াশালে ঘোড়া। সিপাহী-সামন্ত লোকলস্করে রাজপুরী গমগম। রাজার ধন-দৌলতের শেষ নেই। রাজা ছিল সৌখিন আর খামখেয়ালি। খুব জাঁকজমক পোশাক-পরিচ্ছদ পরা তার শখ। নিত্যনতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×