somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রুবা

০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




তারপর থেকে এইবাড়ির সদস্য হয়ে গেলাম। মামী অর্থাৎ ইসহাক সাহেবের স্ত্রীর দেখাশুনা করতাম। মামী , খুবি ভালো মানুষ। এই পৃথিবীতে সব ভালো মানুষের একটা করে বড় অসুখ থাকে । যেমন ছিলো আমার মায়ের, মা খাইতে পারতো না , যা খাইতো তাই বমি করে ফেলে দিতো । না খাইতে পেরেই মা আমার মরে গেলো । মামী চলতে পারে না । বিছানাতেই তার দুনিয়া । আমার কাজ ছিলো সারাদিন মামীর সাথে থাকা থাকা তার তত্ত তালাশ করা । খাওয়া দাওয়া আগাই পিছাই দেওয়া। আর গল্প করা । মামী দুনিয়ার গল্প জানেন।

মামীর জোড়জুরিতেই আমি আবার পড়াশুনা শুরু করলাম । ডিগ্রী ফেল করছি দুইবার তারপর আর পড়ি নাই । এই বাড়িতে আমার থাকার জায়গা হইছিলো কিন্তু শান্তি ছিলো না । প্রথম ঘটনা ঘটে আমি আসার দুই সপ্তাহ পর । রাত্রে মামী কে সব ঔষাধ খাইয়ে আমি রান্না ঘরে ঘুমাতে চলে গেলাম । জুন জুলাই মসের গরমে তেমন ঘুম আসছিলো না । এমন সময় টের পেলাম কে জেনো আমার শরীর হাতরায় । চমকে তাকিয়ে দেখি আধো আলো তে ইসহাক সাহেব আমার জামার ভেতর হাত ঢুকিয়ে দিয়েছে । আমি চমকে উঠে বসলাম । মামা, কি করেন , আচমকা জোর গলায় বলে উঠলাম। ইসহাক সাহেবের চোখ জোড়া যেন জ্বলজ্বল করছিলো।আমাকে জোর করে মাটিতে ঠেলে দিল। আমার মুখ এক হাতে চেপে ধরে অন্য হাত দিয়ে আমার পাজামা খুলে ফেললো । তারপর যা মনে চাইলো তাই করলো । আমার গায়ে অতো শক্তি ছিলো না যে আমি জোর দেখাবো । আমাকে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে গেলো । যাওয়ার আগে কানের কাছে বলে গেলো মামী কে জানালে কাইটা নদীতে ভাসায় দেবে ।

এইরকম প্রতি সপ্তাহে চলতে লাগলো । একদিন আর সহ্য করতে না পেরে মামী কে জানিয়ে দিলাম । মামী আমাকে কুৎসিত গালি দিল । বাড়ি থেকে চলে যেতে বললো । কিন্তু আমি যাবো কোথায়।আমি থেকে গেলাম কেবল মামী আমার হাতে খাওয়া বন্ধ করে দিল।কথা বলা বন্ধ করে দিল। দূর থেকে দেখতাম মামী কত কষ্ট করে উঠে খাবার খেতো কিন্তু আমাকে ডাকতো না ।

তখন আমার ইন্টারমেডিয়েট পরিক্ষা শেষ । কোন রকমে টায় টায় পাশ । ইসহাক সাহেব আমাকে স্থানীয় এক ডিগ্রী কলেজে ভর্তি করে দিল। কলেজে তেমন যেতাম না । সারাক্ষন ঘরেই থাকতাম । ইসহাক সাহেবের যন্ত্রনা ধীরে ধীরে কমে যেতে লাগলো । তিনিও তেমন আমাকে আর সহ্য করতে পারতেন না । কথায় কথায় গালি দিতো । মামীর সাথে আমার সম্পর্ক ধীরে ধীরে আবার স্বাভাবিক হয়ে গেলো।মাঝে মাঝে কেবল প্রচন্ড ঘৃনা নিয়ে আমার বুকের দিকে তাকিয়ে থাকতেন , যখন আর সহ্য করতে না পারতেন এক দলা থুতু ছুড়ে দিতেন । আমি বেশিরভাগ সময় ওড়না জড়িয়েই রাখতাম । একদিন ইসহাক সাহেব মামীর সামনেই আমার বুকে হাত দিলেন । মাথায় আগুন চড়ে গেলো । ইসহাক সাহেবের গালে কষে একটা চড় বসিয়ে দিলাম, ইসহাক সাহেব কোন কথা না বলে ঘরে ছেরে চলে গেলো, ওয়ি দিন প্রথম আমি মামী কে হাসতে দেখলাম। তৃপ্তির হাসি। আমাকে কাছে ডেকে নিলেন, গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। মায়ের আদর অনেকদিন পাই না । সেদিন অনেক কেদেছিলাম, মামীর কোলে মুখ লুকিয়ে কেদেছিলাম। মামী মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

এইভাবেই চলছিলো জীবন । এমনই এক সময় আপনার বাবা এলেন আমাদের বাসায় । পড়ে শুনেছি তিনি ইসাহাক সাহেবের মক্কেল । প্রথম প্রথম মাঝে মধ্যে এসে ইসাহাক সাহেবের সাথে কি যেন আলাপ আলচনা করতেন । এর মাঝে একদিন আমি চা নিয়ে ইসাহাক সাহেবের ঘরে গেলে আপনার বাবা আমাকে দেখেন । ইসহাক সাহেব আমাকে তার ভাগ্নী বলে পরিচয় করিয়ে দেন । আপনার বাবা আমার খোজ খবর নিলেন ।

একদিন খুব বৃষ্টি হচ্ছিলো ।কে যেন দড়জায় জোড়ে জোড়ে কড়া নাড়ছিলো । বাসায় ইসাহাক সাহেব নাই। কেবল আমি আর মামী । আমি দড়জা খুলতে চাচ্ছিলাম না । মামীর বকা খেয়ে দড়জা খুলে দেখি আপনার বাবা । ভিজে প্রায় দাড়কাক হয়ে আছেন । আধভাজা দড়জা থেকে বললাম - মামা, এখনো ফেরে নাই । আপনি পড়ে আসেন । যদিও এমন ঝরঝরে বৃষ্টেতে ভেজা এক লোক কে বলতে খারাপ লাগছিলো কিন্তু তারপরেও বললাম । তিনি অসহায়ের মতো আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন তারপর বৃষ্টির দিকে ইশারা করে বললেন , আমি কিছু সময় বসি? বৃষ্টি কমলেই চলে যাবো । মায়া হলো , কিছু না ভেবেই বললাম আসেন ।

অনেক কথা হলো সেইদিন । লোকটা একা, তার স্ত্রী অনেক আগে গত হয়েছেন । ছেলের জন্য আর বিয়ে করেন নাই । ইত্যাদী ইত্যাদী । আপনার বাবা বেশ গুছিয়ে কথা বলতে পারেন । অনেক হাসির গল্প বলেছিলেন । হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গেছিলো সেই দিন । এরমধ্যে মামী বেশ কয়েকবার জিজ্ঞাসা করলেন কে এসেছে। আমি কোন সারা দেই নাই । অনেকদিন পর হাসতে পেরে নিজেকে বেশ হালকা লাগছিলো ।

কখন যে বৃষ্টি থেমে গেছিলো টেরই পাই নাই । বেশ রাত হয়ে গেছিলো । তাই তাকে আর না খাইয়ে ছাড়ি নাই । মামার লোক এতো রাতে না খাইয়ে ছাড়লে রাগ করতে পারে ভেবে ঘরে সামান্য ডিমের তরকারি আর ভাত ছিলো তাই দিয়ে খেতে দিলাম । ভদ্রলোক জিজ্ঞাসা করলেন কে রান্না করেছে । আমি লজ্জায় লাল হয়ে বললাম আমি রান্না করেছি । তিনি বেশ মাথা নেড়ে নেড়ে খেতে লাগলেন । অনেকদিন পর এতো ভালো রান্না খেলাম। জানি যে রান্না ভালো হয় নাই কারন আমি রাধাতে পারি না । বৃষ্টির দিন রান্নার বুয়া আসে নাই তাই বাধ্য হয়ে আমাকেই রাধতে হয়েছিল।

আপনার বাবা চলে যাবার পর মামীর কাছে অনেক বকা খেলাম । কাছে ডেকে নিয়ে চুলের ঝুটী ধরে খুব মারলেন । কিন্তু আশ্চার্য বিষোয় আমার একটুকু ব্যাথা লাগে নাই । আমার কেবল আপনার বাবার সেইসব হাসির কথা গুলো মনে পরছিলো আর আমি খিল খিল করে হাসছিলাম । মার খেয়েও যে কেউ হাসতে পারে এটা বোধহয় মামীর জানা ছিলো সে আরো মারতে লাগলো আর আমি আরো জোড়ে জোড়ে হাসতে লাগলাম ।


প্রথম পর্ব

দ্বিতীয় পর্ব

তৃতীয় পর্ব


চলমান......

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৫
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীর ভাবনা

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫৭


আজ দেশজুড়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে। ২৪ -এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভ্ন্নি সময়ে বহু নিরীহ প্রাণ অকালে ঝরেছে। আবু সাঈদ, মুগ্ধ ছাড়াও নাম জানা-অজানা হাজারো ব্যাক্তি তাদের প্রাণ হারিয়েছেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেহরানের ছায়া কি এখন ঢাকা সেনানিবাসে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:০১


সোমবার সকালে জলসিঁড়িতে একটা অনুষ্ঠান হলো। ফিতা কাটা, ফুলের তোড়া, বক্তৃতা, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, স্বাভাবিক একটা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যা যা থাকে সবই ছিল। সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান নিজে হাজির, পাশে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাতিঘর (Lighthouse)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৬



বাতিঘর নিয়ে সেই ছোট্টবেলা থেকেই আমার অনেক কৌতুহল ছিল। কেন ঐ বয়সেই বাতিঘর নিয়ে আমার এতটা আগ্রহ ছিল, তার কারণ আজও খুঁজে পাই না। অথচ আমি নিজ চোখে কোন বাতিঘর... ...বাকিটুকু পড়ুন

"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



"‘৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে’- একটি বক্তব্যের রাজনৈতিক পাঠ"

"৫ই আগস্ট সবার জন্য ভালো হয়েছে। শেখ হাসিনার প্রয়োজন ছিল বিশ্রাম। আওয়ামী লীগের দরকার ছিল শুদ্ধিকরণ। অন্যান্য দলগুলোরও... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে বিষয়ে মজিবর ও হাসিনা এক বিন্দুও ভুল করেনি!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


বাংলাদেশের ইতিহাসে মজিবরের শেষ শাসন কাল ও হাসিনার শেষ শাসন কাল দুটি ভিন্ন সময়ে হলেও গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত মিল বহন করে। নির্বাচনী বৈধতার নিরিখে ১৯৭৩ সালের নির্বাচনের সংগে ২০১৪, ২০১৮... ...বাকিটুকু পড়ুন

×