somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শত্রু তুমি বন্ধু তুমি

২৭ শে এপ্রিল, ২০১৪ রাত ১১:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঠে লড়াই, বাইরে বন্ধুত্ব! গত ২৫ এপ্রিল হয়ে গেল আবদুল জব্বারের বলীখেলার ১০৫তম আসর । প্রতিবছর বিভিন্ন অঞ্চলের বলীরা লড়েন এই কুস্তি প্রতিযোগিতায়। এবার এসেছিলেন ১০৩ জন বলী। চ্যাম্পিয়ন হলেন রামুর দিদার বলী। (তথ্যটা টুকে রাখতে পারেন। বলা যায়না, সামনের কোন পরীক্ষাতে কমন পড়ে যেতে পারে.....হাহাহা!)

চট্রগ্রামের ঐতিহ্যবাহী লালদীঘির মাঠের বলীমঞ্চ ঘিরে মানুষ আর মানুষ। ক্ষণে ক্ষণে উল্লাসে ফেটে পড়ছে দর্শক। ভিড় ঠেলে খেলা দেখার সুযোগ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার বটে। এদিকে মাঠের ভিড় ছাপিয়ে মঞ্চের কাছে যেতে দেখা গেল বলীদের ভিড়! শ খানেক বলী ঠেলাঠেলি করছেন কার আগে কে মঞ্চে উঠবেন এই নিয়ে। সবার খালি গা। শক্তি সামর্থ্যেও কারও চেয়ে কেউ কম নন। এর মধ্যে ভিড়ের একেবারে শেষ ভাগে দাঁড়িয়ে আছেন দুই প্রৌঢ়। কেন দাঁড়িয়েছেন প্রশ্ন করতেই একসঙ্গে উত্তর, ‘আমরা বলী’। এই বয়সেও বলী ধরা? পেশি দেখিয়ে বললেন, ‘এখনো গায়ে যে শক্তি তাতে আরও কয়েক বছর খেলা চালিয়ে যেতে পারব।’ ভিড় ঠেলে রিংয়ে উঠতে পারবেন তো? এবারও আত্মবিশ্বাস, ‘অবশ্যই’।

এই দুই প্রৌঢ়ের একজন মোহাম্মদ শহীদ (৬২)। বলী ধরতে এসেছেন কুমিল্লা থেকে। আর অপরজন মোহাম্মদ হোসেন (৫৬)। তিনি এসেছেন কক্সবাজার থেকে। কিছুক্ষণ পর দেখা গেল ভিড় ঠেলে এই দুজন ঠিকই রিংয়ে উঠে গেছেন। মল্লযুদ্ধে এক অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। প্রায় পাঁচ মিনিট পর্যন্ত চলল লড়াই। শেষে মাটিতে পিঠ লাগল হোসেনের, হাত তুলে বিজয় উল্লাস করলেন শহীদ। কিন্তু এ কী? রিং থেকে নেমেই দুজন আবার একসঙ্গে। জানালেন, মাঠে লড়াই হলেও বলীখেলায় আসার মধ্যে দুজনের বন্ধুত্ব গত চার বছর ধরে। তবে মাঠে গেলে বন্ধুত্ব নেই।

হোসেন ও শহীদের মতো খেলেছেন আরও দুই প্রৌঢ় বলী মোহাম্মদ মফিজ (৫৫) ও খাজা আহম্মদ (৫৬)। এই দুজনও গত বেশ কয়েক বছর ধরে খেলছেন। এবার অনেকক্ষণ লড়ার পরও ফল না আসায় দুজনকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। অবশ্য এই দুই বলী খেলা শেষে ঘোষণা দেন অবসরের। আগামী দিনে আর খেলা নয় আসবেন দর্শক হয়ে।

বলীমঞ্চের নিচে বেষ্টনীতে হাত ধরে ঘোরাঘুরি করছিল খালি গায়ের দুই কিশোর—সিটি করপোরেশন পাথরঘাটা বালক উচ্চবিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ শাখাওয়াত আলম ও মিউনিসিপ্যাল মডেল উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র মো. সোহেল। তাদের কাছে গিয়ে কী ব্যাপার জিজ্ঞেস করতেই বলল, ‘আমাদের নাম এন্ট্রি করেছে। কিন্তু খেলতে দিচ্ছে না।’

এত অল্প বয়সে বলী খেলা, এ তো শক্তির লড়াই।
শাখাওয়াত বলল, ‘এখন থেকে যদি আমরা তৈরি না হই, তাহলে আগামী দিনে লড়ব কীভাবে?’
খেলতে না পারার দুঃখ দুই বন্ধুকে বেশ পুড়িয়েছে। মলিন চেহারায় অনেকক্ষণ ঘোরাঘুরি করে শেষে আর রিংয়ে ওঠা হয়নি।

এদিকে লড়াই শেষে রিং থেকে মাঠে নেমে গা মুছে নিচ্ছিল সিটি কলেজের ব্যবসায় শিক্ষার প্রথম বর্ষের ছাত্র মুনতাসীর মামুন। পাশে তার প্রতিদ্বন্দ্বী শামসুল আলম। এরা দুজন বন্ধু আবার সহপাঠীও। তাহলে কি রিংয়ে হলো পাতানো খেলা? মুনতাসীর বলল, ‘আমাদের বন্ধুত্ব আছে এটা সত্য। কিন্তু রিংয়ে যখন উঠেছি তখন এসব ভুলে গেছি। চিন্তা ছিল কীভাবে জিতব। অবশ্য শামসুলকে হারিয়ে আমিই জিতেছি। এ জন্য ভালোও লাগছে।’

আর শামসুল, ‘আমার কাছে জেতার চেয়ে নিজেকে তৈরি করাটাই মূল লক্ষ্য। সামনে তো আরও দিন বাকি। লড়েই যাব।’ হেরেও মনোবল অটুট তার। হবেই তো, ব্রিটিশদের তাড়াতে শামসুল, মুনতাসীরদের মতো তরুণদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন আবদুল জব্বার সওদাগর। সেই পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে এই প্রজন্মের তরুণেরাও। তারা মাঠের লড়াই মাঠেই শেষ করে। নিজেদের মধ্যে তা জিইয়ে রাখে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


৭ই নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস....

দেখা হবে যুদ্ধ ফুরোলে সন্ধের মাহফিলে;
দেখা হবে ঠিক চেনা রাস্তার অচেনা-অন্ত্যমিলে।
ছড়াব আবার শস্যের দানা দেশ থেকে মহাদেশে
মানুষই জেতে, খুঁজে নেয় আলো অন্ধকারের শেষে...

তোমার গল্পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×