somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ক্লে ম্যান
আমি পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী এবং হ্মমতাধর সুপারভিলেন| কিন্তু বিশ্বাসঘাতক মেয়েরা আমার চেয়েও বেশী . . .।

ছোটগল্পঃ স্বপ্নীল প্রেমের অকালমৃত্যু

২২ শে আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্বঃ ২

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে, ভর্তি পরীহ্মা দেওয়ার সময়|আবার তিশার সাথে লিলির দেখা হয়|তখন লিলি তার কিছু ছবি তিশাকে দেয়|তিশাও তার ভাইয়ার কিছু ছবি লিলিকে দেয়|পুলক যেদিন লিলির ছবি দেখে|সেদিন সে আরও অবাক হয়ে যায়|লিলি এত সুন্দর হতে পারে,এটা তার কল্পনাও ছিল না|এদিকে লিলিরও একই অবস্থা|ছবি পাওয়ার পর থেকে,লিলি সারাদিন ছবি গুলো চোখের সামনে নিয়ে থাকে|আর ভাবে কবে দেখা হবে তাদের| আর গুন গূন করে গান গাইতো| অবশ্য লিলি খুব ভাল গান গাইতে পারতো|লিলির কন্ঠ ছিল মিষ্টি প্রকৃতির|যেটা পুলকের সবচেয়ে বেশী ভাল লাগতো|লিলির কন্ঠে একটু গান শোনার জন্য,পুলক সবসময় ব্যাকুল হয়ে থাকতো|আর লিলিও গান শোনাতে খুব ভালবাসতো|পুলক কখনো গান শুনতে চাইলে,লিলি কখনো না করতো না|

লিলি ছিল, কিছুটা সহজ সরল প্রকৃতির মেয়ে|বাইরের জগৎ সর্ম্পকে তার ধারনা একটু কম ছিল|বাবা মার আদরের সন্তান হওয়ায়,সবার কাছে প্রিয় পাত্র ছিল| সে সহজ সরল ভাবে সবাইকে বিশ্বাস করতো|বাড়িতে ভাইবোনদের সাথে সবসময় দুষ্টিমীতে মেতে থাকতো |লিলির মুখে সবসময় হাসি লেগে থাকতো|তার সহজ সরলতা যে, তা জীবনে একদিন ঘন অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে|লিলি কখনো এটা বুঝতে পারেনি|কোন একদিন কথার ফাঁকে লিলি তার ভালবাসার কথা, সহজসরল ভাবে তার আম্মুকে বলে দেয়|এটাও বলে যে, ছেলেটার সাথে এখনো দেখা হয়নি|তবে ছেলেটার ছবি তার কাছে আছে|পুলক সর্ম্পকে,তার মা সবকিছু জেনে নেয় এবং ছবি গুলো দেখে|

লিলিকে বলে, ছেলেটাকে অপছন্দ হওয়ার তেমন কিছু নেই|তবে তোমাকে এত দুর বিয়ে দিব না এবং ছেলেটা এখনো লেখাপড়া করছে|আমরা এতদিন অপেহ্মা করতে পারবো না|তোমার জন্য পাত্র দেখা হচ্ছে,ছেলে পছন্দ হলে, তোমাকে বিয়ে দিয়ে দেয়া হবে|এ কথা বলে ওর আম্মু চলে যায়|

সেদিন রাতে কথা বলার সময় লিলি অনেক কান্নাকাটি করে|লিলি সবকিছু পুলককে খুলে বলে ।পুলক তাকে বোঝানোর চেষ্টা করে এবং বলে, তার আব্বু আম্মুকে বোঝানোর জন্য|পুলকের কথামত,লিলি সবকিছু তার আম্মুকে বোঝায়|কিন্তু তাতে কোন লাভ হয়না|

হঠাৎ করে,লিলিকে না জানিয়ে, ওর বাবা মা একদিন পাত্র পহ্ম নিয়ে আসে|লিলি তাদের সামনে যায় না|পরিস্থিতি যখন আয়ত্বের বাইরে চলে যাচ্ছিল|তখন ওর আব্বু গিয়ে,ওকে বোঝায়। মা, দেখলেই তো বিয়ে হয়না|লোকজন চলে আসছে| তুমি আমদের সম্মানটুকু রহ্মা কর|
সেদিন লিলি ওর বাবার মুখের দিকে চেয়ে,পাত্র পহ্মের সামনে যায়|পাত্র পহ্ম লিলিকে পছন্দ করে ফেলে|
পাত্র ব্যাংকে চাকুরী করে, তাই লিলির বাবা মা পাত্রকে হাতছাড়া করতে চায় নি| বিয়েটা মোটামুটি,সেদিন তারা ঠিক করে ফেলে|

সেদিন রাতে,লিলির সাথে পুলকের কথা হয়|সব ঘটনা পুলককে খুলে বলে এবং কান্না করতে থাকে |লিলি, পুলককে কিছু একটা করার জন্য বলে|পুলক লিলিকে বোঝানোর চেষ্টা করে|কিছু একটা করবে বলে, আশ্বাস দিয়ে,লিলিকে শান্ত করে|

পুলকের এখনো লেখাপড়া শেষ হয়নি|
সে কি করবে,কিছু ভেবে পায় না|সব ঘটনা পুলকের ছোটবোন তিশাকে খুলে বলে|তিশা তার বাবা মার সাথে যোগাযোগ করে|ছেলের মুখের দিকে চেয়ে, পুলকের বাবা মা। লিলির বাবা মার সাথে কথা বলতে রাজি হয়ে যায়|এদিকে তিশাও লিলির আব্বু আম্মুর সাথে যোগাযোগ করে|কিন্তু,লিলির বাবা মা এ বিষয় নিয়ে কথা বলতে চায় না|তারা তাদের মেয়েকে যেখানে খুশি,সেখানে বিয়ে দেবে|এ বিষয় কথা বলতে তিশাকে নিষেধ করে দেয়|

লিলিকে দেখার এক সপ্তাহের মধ্যে,সেই পাত্রের সাথে লিলির বিয়ে হয়ে যায়|এর মধ্যে পুলকের সাথে লিলির আর যোগাযোগ হয়নি।
বিয়ের আগের রাতে শেষবারের মত,পুলকের সাথে লিলির বাবা মার কথা হয়|পুলক,লিলির বাবা মাকে বোঝানোর চেষ্টা করে|কিন্তু তাতে কোন লাভ হয় না|

পুলক কথা বলে যতটুকু বুঝতে পারে|লিলির বাবা মা, বিয়েতে লিলির কোন মতামত নেওয়ার চেষ্টা করে নি|লিলি আপ্রান চেষ্টা করেও তার বাবা মাকে বোঝাতে পারনি| লিলি সমাজ সংসার,পরিবার,বাবা মা র হেরে যায় |

আসলে আমাদের দেশের মেয়েরা,ইচ্ছে থাকলেও সবকিছু করতে পারে না|আজও তারা বন্দী শিকলে বাধা,চার দেয়ালের মাঝে|যেখানে তাদের ভালবাসার কোন মুল্য হয় না|
লিলির বিয়ে হয়ে যায়|হয়তো,লিলি হাসি মুখই থাকবে|

কিন্তু,তার হ্নদয়, প্রথম যে মানুষটিকে ভাল বেসেছিল|তাকে কি সে কখনো ভুলতে পারবে?
পুলকও হয়তো,তাকে ভুলতে পারবে না|
কিন্তু, জীবনতো কারও জন্য থেমে থাকে না|

শুধু,এই দুটি মানুষের হ্নদয়ের মাঝে, সারাজীবন নিভু নিভু করে যে দহন হবে।
সেটা হয়তো,কি কেউ কখনো বুঝতে পারবে না| কেউ বোঝার চেষ্টাও করবে না . . . .
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ১২:৫৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

কলকাতায় গ্যাস কিনতে লাগে ১ হাজার টাকা, বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কলকাতায় কি ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েনি?

লিখেছেন জিয়া চৌধুরী, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৩০

কলকাতায় গ্যাস কিনতে লাগে ১ হাজার টাকা, বাংলাদেশে ২ হাজার ৫০০ টাকা। কলকাতায় কি ইরান যুদ্ধের প্রভাব পড়েনি? একই গ্যাস, দামের এত পার্থক্য কেন? এনসিপির আকতার হোসেনের প্রশ্ন।

একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না; কবীরা গুনাহ, জাহান্নাম ও আল্লাহর অসীম ক্ষমা: কুরআন ও হাদীসের আলোকে একটি বিশ্লেষন

লিখেছেন নতুন নকিব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

রহমতের দরজা কখনো বন্ধ হয় না; কবীরা গুনাহ, জাহান্নাম ও আল্লাহর অসীম ক্ষমা: কুরআন ও হাদীসের আলোকে একটি বিশ্লেষন

ছবি গুগল থেকে গৃহিত।

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَٰنِ الرَّحِيمِ

◆ ভূমিকা: এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×