somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্মকথন ৪ঃ নিজেরে খুঁজি

৩০ শে এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত মাসের ২৫ তারিখ সকাল ৬ টায় বাসা (জিগাতলা) থেকে বেরিয়ে আজিমপুর হয়ে ধানমন্ডি লেক ঘুরে ৮:৩০ আবার ঘরের ছেলে ঘরে ফিরে এলো।
আড়াই ঘন্টার কিছু স্মৃতি নিয়ে আত্মকথন শিরোনাম দিয়ে লিখে ফেললাম

১) Click This Link

২) Click This Link

৩) Click This Link

এর মাঝে লেকের অনেক জল গড়িয়েছে, সূর্যটা গাছগাছালির ওপাশ থেকে উঁকি দিয়ে আস্তে আস্তে উপরের দিকে উঠেছে, বেলা গড়িয়ে সাঁঝ হয়ে রাত্রি নেমেছে, আবার সকাল হয়েছে - দিন-রাত্রির পরিক্রমায় বন্দী আমি তাকাই নিজের দিকে- দেখি, বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মত স্মৃতিরা আমায় প্লাবিত করে দিচ্ছে। তাই মনের আলাদা একটা ফ্রেমে কিছু ছবি, কথা গুছিয়ে রাখি সুন্দর করে বলার জন্য- সময় থাকলে চলুন দেখি, শুনি।

সেদিন সকালের রেশটা সারাদিন অনুভব করলাম, কাজে-কর্মে বেশ জোর পাচ্ছি, শরীরটাও বেশ ঝরঝরা লাগছে। মনে মনে একটা প্ল্যান করি। তবে বাসায় গিন্নীকে জানাই না। কারণ এর আগে আমার অনেক দৃঢ় পরিকল্পনা কিছুদিন সদর্পে চালানোর পরে মুখ থুবড়ে পড়েছে।
এবং সেসবের উদাহরণ টেনে গিন্নী হালকা রসিকতা করেন সুযোগ পেলেই। সুতরাং এবার গোপন মিশনে পরদিন সকালে ফজরের নামাজে যাওয়ার আগে কেডস পরে সন্তর্পনে বের হলাম, গিন্নী গভীর ঘুমে।

জিগাতলা বাসস্ট্যান্ডের যাত্রী ছাউনর পাশের গেট দিয়ে লেকে প্রবেশ করি। সকালের না-ফোটা আলোয় আরো দু'এক জনকে দেখতে পেলাম, হাঁটি-হাঁটি পা-পা করে এগিয়ে যাই, তার পর বহু বছর পর দৌঁড়তে শুরু করলাম। খেলার মাঠের অদম্য দমের সেই ছেলেটা, ভুলে গেল আজ বয়সটা। ভাবি, রোজা রেখেও বাসার পিছনের মাঠে ঘন্টার পর ঘন্টা ফুটবল খেলেছি। বাবা রাগ করতেন, রোজা রেখে কেউ বল খেলে? ফুটবল পাগল আমার হুশ থাকত না, সাইরেনের একটু আগে তাড়াহুড়ো করে বাসায় ফেরা, বাবার মৃদু বকুনি। পাঁচ মিনিট দৌঁড়ে হাঁপাতে লাগলাম, গতি কমিয়ে আবার হাঁটা শুরু করলাম - হায় বয়স। লেকের দু'পাড়ের মাঝের সংযোগ ব্রিজটা পেরিয়ে মৃদু বাতাস বুক ভরে টেনে জলের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাঁটি, কি যে ভাল লাগে!

রবীন্দ্র সরোবরে কাছাকাছি এসে মিলিত স্বরের হা..হা...হা... শুনতে পাই, দেখি কিছু লোক হালকা ব্যায়াম করছে। বিশেষ কিছু না ভেবেই তাদের পিছনে দাঁড়িয়ে আমিও শুরু করে দেই-অনেক ভেবে চিন্তে পরিকল্পনা করে আমার কিছু করা হয়ে ওঠে না। যখন যেটা ভাল লাগে, হুট করে শুরু করে দেই।পরে জেনেছি উনারা পরমায়ু সংঘের সদস্য।
ছবি দেখুনঃ

১।



উনারা ৫:৪৫ এ শুরু করেন, ৩০ মিনিটা চলে। ছবিতে দেখছেন ৩ জন, এটা ছিল শুরু তারপর আরো লোকজন আসে। ব্যায়ামের শেষে সবাই একটু বিশ্রাম নেয়, আমিও সামিল হই। গাবতলা মসজিদের আরোক নিয়মিত মুসল্লিকে পেয়ে যাই, নতুন করে পরিচয় হয় বাচ্চু ভাইয়ের সাথে। উনি অন্যদের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেন। এই ব্যায়াম পরিচালনা করেন একজন লিডার, কবির ভাই। উনি বললেন, যাক জিগাতলার লোক কমে যাচ্ছিল, বাচ্চু ভাই, আপনাদের একজন সদস্য বাড়ল। এর মধ্যে দেখি লিডার নতুন ঘোষণা দিলেন, "পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে পাশেই বটতলায় অনুষ্ঠান হবে, যারা অংশ গ্রহণ করতে চান, জন প্রতি ... করে দিতে পারেন।"
সদ্স্য হিসাবে পাকাপোক্ত হবার এমন একটা মোক্ষম সুযোগ আমি হাত ছাড়া করতে চাইলাম না, মানিব্যাগ হাতিয়ে দেখি আছে।

আমাদের ব্যায়ামের সময় ১,২,৩,৪ করে একজন আওয়াজ দেয়, অন্যরা তাকে অনুসরণ করে। এর মধ্যে কিছু রসিক লোকের কথা-বার্তাও চলতে থাকে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, এত কিছুর মধ্যেও দেখি পাশেই অঘোরে ঘুমাচ্ছে পথশিশুরা। কেউ একজন ওদের এই সুখনিদ্রা দেখে আফসোসের সাথে বলল, "ওষুধ খেয়েও ঘুম আসে না, আর এরা ....."।
দেখুন, লেকের তরল জলের পাশে সোনাঝরা রোদের আলোয় সুখনিদ্রায়রত পথশিশুরাঃ

২।



সাঙ্গ হলো খেলা (ব্যায়াম), এবার বিদায়ের পালা। ধানমন্ডির সদস্যরা ৮ নম্বরে ব্রিজের দিকে পথ ধরল, ৭ সদস্যের জিগাতলার সদস্যদের সাথে লিডার যোগ দিল, আমরা ৮ জন চললাম জিগাতলার নতুন হোটেল ইউনাইটেডের গুণগত মান পরীক্ষার জন্য সকালের নাস্তার উদ্দেশ্যে্। হোটেলে পৌঁছতে পৌঁছতে গল্পে গল্পে পরিচয় হলো করিম ভাইয়ের সাথে, আরো ৪ জনের সাথে ( নাম গুলো স্মরণে আসছে না)। উনাদের খাওয়া-দাওয়ার বহর দেখে আমি মনে মনে আনন্দিত ও একই সাথে শংকিত হয়ে পড়লাম। আনন্দ এই জন্য, আহারে এখনো আমার খুবই রুচি আর শংকা এই ভেবে, ব্যায়ামের মাধ্যমে অর্জিত সাফল্যটুকু বিলীন না হয়ে যায় !!!

দেখুন, কতবড় বেকুব (অকৃতজ্ঞ) আমি। আধঘন্টার নতুন সংগীদের পেয়ে বেমালুম ভুলে গেলাম সারাজীবনের সংগীর কথা !!!
হোটেলের দিকে আসার পথে মোবাইলটা বেজে ওঠে ছিল,দেখি গিন্নীর ফোনঃ
-হ্যালো ।
-কোথায় তুমি?
-এই তো লেকে।
-এতক্ষণ হয়ে গেল, কোন খবর নেই।
তাঁর গলার উৎকন্ঠাটা ভাল লাগে।
আমি নিস্পৃহ গলায় উত্তর করিঃ
-তাই বুঝি।
ওপাশ থেকে তাড়া দেয়ঃ
-তাড়াতাড়ি এসো।
-ঠিক আছে, বলে কথা শেষ করি।

ওর উৎকন্ঠাটা আমি বুঝি, তাও না বোঝার ভান করি। আজকাল বাড়ি থেকে বেরুলে বাসার লোকজনদের উৎকন্ঠিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ পত্রপত্রিকা ও টিভি খুললেই সবাই টের পাই। চোখে ভেসে ওঠে রবীন্দ্র সরোবরে শুয়ে থাকা স্নেহ বঞ্চিত ছেলেগুলো - ওরাই কি অথবা যাদের আমরা দেখতে পাইনা অথচ বেড়ে উঠছে সুরম্য আবাসে স্নেহ-ভালবাসাহীন পরিবেশে, একদিন বড় হয়ে নিষ্ঠুর "ছিনতাই" পেশাটাকে আয়ের উৎস করে নেবে?

কলিং বেল বাজার সাথে সাথে দরজা খুলে যায়-উৎকন্ঠা সর্বত্র।
চেয়ারে বসে কেডসটা খুলছি, ওর বিস্ময়।
আমার কেডস পরার গূঢ় রহস্য বেমালুম চেপে গেলাম।
ও নাস্তার আয়োজন করে, খাব না বলতে গিয়েও একটা ব্রেক দেই-পরমায়ুর ব্যাপারটা আপাততঃ চেপে যাই।
আমরা ৩ জন গল্পে গল্পে নাস্তা শেষ করি। যদিও ভরা পেটে আবারও খেতে একটু কষ্ট হচ্ছিল।

আগামী কয়েকদিন আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ, সকালের ব্যায়ামটা চালিয়ে নিতে পারব কি?
সদস্যপদটা বহাল রাখতে পারব তো?


নোটঃ লেখার শেষে ইচ্ছে করেই "চলবে...." কথাটা যোগ করি না, যদি এ বিষয়ে আর লেখতে ইচ্ছে না করে, তখন কথা না রাখার অপরাধ বোধটা কাজ করবে।

ঢাকা
৩০ এপ্রিল ২০১৬
সর্বসত্ব সংরক্ষিত
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৪৩
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×