somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

শামছুল ইসলাম
নিঃসীম নীল আকাশে পাখী যেমন মনের আনন্দে উড়ে বেড়ায়, কল্পনার ডানায় চড়ে আমিও ভেসে চলেছি মনের আনন্দে--রূঢ় পৃথিবীটাকে পিছনে ফেলে।

একটি নাস্তার দাওয়াত

০২ রা মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রোদ্রকরোজ্জল ফালগুনের সকালে ছোট্ট এক ফুলের বাগানে একঝাক প্রৌঢ় ছবি তুলছে । সবার-ই চুলে, দাঁড়িতে পাক ধরেছে, সাদা রংয়ের আধিক্য । কিন্তু মনটা এখনো সবুজ, এই ফুলে শোভিত বাগানের মতই । বেলা তখন ১০ টা । শুক্রবার ছুটির দিনে এই সময় এদের অনেকেই বিছানা ছেড়ে ওঠে না । অথচ আজ সকাল ৮ টায় ঢাকা ক্লাবের গেস্ট হাউসে সবাই সমবেত । ৮০-৮২ সালে নটরডেম কলেজে পড়ার সময় তো এটাই অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল । সেই দিনগুলোর স্মৃতিকে জাগিয়ে তোলার জন্য এক সকালের ঘুমকে বিসর্জন দিয়ে ২৮ জন একত্র হয়েছিল ।
.
শুনতে যতটা সোজা মনে হচ্ছে, বহুকাল বিচ্ছিন্ন এতগুলো লোককে একত্র করা কিন্তু চাট্টিখানি কথা নয় । এই কৃতিত্বের সিংহভাগ বুলুর – ওর বিশাল নামটা ছোট হয়ে এই প্রিয় নামেই বন্ধুরা ডাকে । মেসেঞ্জারে বুলু ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে নাস্তার দাওয়াত দিল । অনেকেই সাড়া দিচ্ছে । দিল্লির সুলতানের মত আমাদের একজন সুলতান আছেন । উনি সুলতানদের মতোই খাওয়া-দাওয়ার বিষয়ে খুব সিরিয়াস; প্রায়ই বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের ছবিসহ ফেসবুকে পোস্ট দেন । মহামান্য সুলতান খাবারে মেনু জানতে চাইলেন । মেনুর আইটেম দেখে আমি প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলাম, জিভে জল এসে গেছে । সুতরাং ১০০০ টাকা নাস্তাবাবদ খরচ ধার্য হলেও পেট পূজার এই সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না ।
.
সকাল ৮:২৬ এ ঢাকা ক্লাবের গেটে । উনাকে(স্ত্রী) একটা ফোন দিলাম । নতুবা উনি চিন্তিত থাকেন । কারণ মুঠোফোনের সাথে আমার সখ্যতা মোটেই সুখের নয় । ওরা প্রায়ই আমাকে ছেড়ে ছিনতাইকারীর হাতে চলে যায় । নিরাপত্তারক্ষী আমার কাছে জানতে চায় কোথায় যাব? বললাম, গেস্ট হাউস । উনি পথ দেখিয়ে দিলেন । উনার নির্দেশিত পথে পৌঁছে গেলাম আমাদের মিলন মেলায় – গেস্ট হাউসে । দেখি প্রবেশমুখে জাওয়াদ সুখটান দিচ্ছে সিগারেটে, সাথে শশ্রুমন্ডিত, সাজ্জাদ (লাইক থেকে নামটা পেলাম।) । (যাহ, নামটা মনে আসছে না। অনেকের নামই মনে নেই; তবে চেহারা দেখলেই চিনতে পারি কলেজের বন্ধুকে।) আড্ডায় গেলে আমি বন্ধুদের থেকে সিগারেট চেয়ে খাই; এমনিতে খাওয়া হয় না । সিগারেট খেতে খেতে আলাপ চলছে । এর মধ্যে শাফিনের গাড়ি এসে থামল, খালেদ সহ জনা চারেক বন্ধু নামলো । সবাই মিলে ভিতরে ঢুকলাম । ততক্ষণে খাওয়ার টেবিলের চারিদিকে জড়ো হয়ে গেছে প্রায় বিশ জন । এতো সকালে উত্তরা থেকেও বন্ধুরা এসেছে । তাই দেখে সোহেল রসিকতা করে বলল, উত্তরাবাসীরা এতো সকালে কেমন করে আসলো? তারা কি বিশেষ কোন পেশার লোক কি-না? ( মানে চুরি বিদ্যার সাথে জড়িত কি-না।) এমন ছোটখাট আরো অনেক রসিকতায় সকালটা গড়িয়ে যেতে থাকলে । তার দু’চারটা বলাই যায়।
.
আমার পাশে বসেছিল, নামটা মনে আসছে না, জাহিদকে মোবাইল ডাইলের ফ্যাক্টরি সম্বন্ধে জানতে চাইলো । জাহিদ ওর স্বভাবসুলভ মজার ভাষায় বলে চলেছে; আমরা সবাই হাসছি । আমি নিশ্চিত, এই ঘটনাটা আমি বললে সবাই এভাবে হাসতো না । বলাটা একটা আর্ট, সবাই পারে না । হাসির রেশ না কাটতেই জাহিদ ওর স্টক থেকে দ্বিতীয়টা বের করলো । একজন চাকরিপ্রার্থী যুবককে ইন্টারভিউ বোর্ডের এক সদস্য জিজ্ঞেস করলো,
- ‘আপনি কোথায় থাকেন?’
প্রার্থী বললো, ‘বাহ্মণবাড়িয়া’।
প্রশ্নকর্তা হাসি হাসি মুখে বললে, বানান করুন তো ‘বাহ্মণবাড়িয়া’?
প্রার্থী তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল, ‘না, না, আমি ঢাকায় থাকি ।‘
আবারও হাসি ।
আরো হাসি, আরো মজার কিছু কথা ছিল । তবে সে গুলো শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় ছাপার অক্ষরে লিখলাম না । কিন্তু আমি নিশ্চিত, সবাই সেসব স্মরণ করে অবসরেও একচোট হেসে নেবে; আর স্মরণ করবে সুলতানের সুলতান ক__ম কাহিনি, জসিমের বিজ্ঞাপন চমক, গাজীর রাজা কাহিনি এবং জাহিদের করোনা নিয়ে কৌতুক।
.
সকালে নাস্তার প্রতিটি উপাদানই খুব মজার ছিল । নাস্তার সাথে সাথে চলছে আলাপ। করোনা থেকে ব্যাংক, কিছুই বাদ যাচ্ছে না । চা খেয়ে নাস্তা পর্বের ইতি টেনে বাইরে এলাম । মাহবুবের কাছ থেকে ধারকরা সিগারেট নিয়ে সুখটান দিচ্ছি।
.
জুম্মার দিন । তাই ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আমি আর খালেদ বেরিয়ে আসলাম । চলমান জীবনের ভিড়ে হারিয়ে গেলাম শাহবাগে । পিছনে পড়ে রইলো একটা মিষ্টি সকালের কিছু অমূল্য স্মৃতি ।
.
মো. শামছুল ইসলাম
০১ মার্চ ২০২০

সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মার্চ, ২০২০ দুপুর ১:৪৮
৫টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পঁই পঁই করে হিসাব রাখতে হবে, নতুবা বিপদে!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৩৪

আমরা ক'জনা বেশ কিছুদিন আগে ব্যবসা শুরু করেছি। প্রথমেই একজনকে হিসাবের সব দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি নিয়েছিলাম মার্কেটিং ও টেকনিক্যাল সাইড গুলির দ্বায়িত্ব। সৌদীতে অনেক POS রেডিমেড পাওয়া গেলেও আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশে কোন 'জঙ্গী' নেই

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৫:২৫

'জং' শব্দটার অর্থ 'যুদ্ধ'। এভাবে, জঙ্গী কথাটার অর্থ দাঁড়ায় - যোদ্ধা বা যুদ্ধ করেন। যে কোন যুদ্ধই প্রাণহানি ডেকে আনে। আগের কালে, রাজারা যুদ্ধ করে দেশ জয় করতেন। তাঁদের অণ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই প্রথম খাল বাবার পলিটিক্যাল ম্যাচুরিটির নিদর্শন পেলাম

লিখেছেন অপলক , ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪

২০১০ সালে ফেব্রুয়ারীর ২২ তারিখ। মেয়েলি ব্যাপার বলি, প্রতিহিংসার ব্যপার বলি অথবা পলিটিক্যাল ইমম্যাচুরিটির কথা বলি, বাংলাদেশ জিয়া আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের নতুন করে আকীকা দিয়ে নাম রাখা হয়েছিল হযরত শাহজালাল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাষণময়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫১


বিশ্বাসগুলো হাবুডুবু খাচ্ছে
ভাগ্যের কম দোষটার হাত
ঝাঁকনি কম নেই তো- তাহলে
বিশ্বাসগুলো মরে যাচ্ছে এই;
মাটির আনন্দটা শুধু ফুল গন্ধ
নাকের সুসংবাদ যে দৌড়াচ্ছে
রাতের ঘুমটা যেনো স্বপ্নবিরল কষ্ট
ভোরের শিশির গড়ে না আর শক্ত;
তবু নিশ্বাসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

।।মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনার রাস্ট্রীয় জঙ্গীবাদ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮


মাদার অব ড্রাকুলা হাসিনা ভারতের প্রযোজনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীদেরকে দিয়ে জঙ্গী জঙ্গী নাটক মঞ্চস্থ করতো। বহিবিশ্বকে বোঝাতো দেশে ইসলামী জঙ্গী দিয়ে ভরে গেছে এবং সেই জঙ্গীরা ইউরোপ আমেরিকার ভয়াবহ ক্ষতি করবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×