somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাসা বিড়ম্বনা

২৯ শে অক্টোবর, ২০১৪ রাত ২:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম দিকে বাসা থেকে শপ , শপ থেকে বাসা নানান ঝামেলার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতাম। এখন ডিরেক্ট পথ আবিস্কার করে ফেলেছি, সাথে সাথে প্রচুর হাটতেও পারি। হা হা হা

আমার মনে হত বাসা এতো দূরে না হয়ে কাছে হলে আমি মনে হয় আরো দেরি করতাম আসা যাওয়াতে।

এখন আমার আগে আমার কর্মচারীরা উপস্থিত হলেও গত এক্তা বছর আমি তাদের আগেই আসতাম ।

আসলে ভালো টীম পাওয়া যেকোন কাজের জন্যে বেশ আশীর্বাদের মত।

ফ্যাক্টরী যেহেতু ঢাকায় তাই ঢাকায় প্রোডাকশন চলাকালীন মাসে ২/৩বার আসা লাগতোই।
তখন ক্যাম্পাসের এক্স রুমমেট বড় আপুদের বাসা বা বান্ধুবীদের বাসায় উঠতাম। যদিও অনেক আত্মীয় আছেন ঢাকায়, আপন মামা, চাচা সবাই এখানে।

যেহেতু বিজনেস পারপাসে আসা তাই তাদের সেখানে উঠা বেশ বিরক্তিকর লাগতো।

যখন প্রথম দিকে বাসা খুজছিলাম একা মেয়ে বলে তেমন কোথাও পেলাম না, সাবলেট নিবো ভেবেও কয়েক জায়গায় দেখেও ভালো লাগ্লো না। আসলে প্রচুর প্রোডাক্ট থাকবে,তাই সিকিউরিটির ও একটা প্রশ্ন ছিলো।

কিছুদিন আগে আমার এই সমস্যা থেকে বের হতে পারলাম । এখন বেশ নিরাপদ আর নিশ্চিন্তে থাকি।
এতো স্বাধীন যে আমার তাঁতীরা এখন বাসায় আসে নিয়মিত। কেও কেও অর্ডার গুলো দিয়ে যায়, কেও বা ডিজাইন নিয়ে যায়।

একেবারে খাতা কলমে এঁকে এঁকে তাদের দেখানো লাগে।

আমি বেশ আনন্দ অনুভব করি, যখন তারা বলে আপা আপনার আসা লাগবেনা কষ্ট করে, আমরা আসতেসি। আমি এত বুঝাই তাদের কাজের ঝামেলা না করতে, কিন্তু আমার কষ্টের কথা ভেবে আমাকে দিনে দিনে আরো বেশি আলসে করে দিচ্ছে।

আসলে আমার বেশি ভালো বাসা সহ্য হয়না মনে হয়। কেন যেন ভীষন খারাপ লাগে, যা চাই করতে তাঁদের জন্যে অনেক সময় পারিনা কিছু বাঁধার কারনে। তবে নিজের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করি তাদের জন্যে ভালো কিছু করতে।

এবার আসি আরেক প্রসঙ্গে আমার এখনকার বাসাটা যেহেতু অনেক বড় তাই চাইছিলাম একটা বেড সাবলেট হিসেবে ভাড়া দিতে, আবার যেহেতু আমি বেশিরভাগ সময়-ই চট্টগ্রাম থাকি।
সমস্যা হল ফ্যামিলি না এসে বেশি আসছে কিছু স্টুডেন্ট অথবা ব্যাচেলর ছেলেরা। মায়া হয় এদের তো এভাবে ভাড়া দিতে চাইলেও পারছিনা।

আমি কোন সমাধানে আসতে পারিনা মাঝে মাঝে একা বাসা থাকার যন্ত্রনা কিভাবে দূর করা যায়।
আচ্ছা কাজ ছাড়া কিভাবে থাকা সম্ভব? রান্না করতে আমার বড়জোর ১ঘন্টা লাগে(অনেক পদ করলে) , তাছাড়া খুব দ্রুত আমি রাধতে পারি, রান্না ঘরের কাজ ছাড়া বাসার অন্যান্য কাজ সামাল দেয়ার পর সারাদিন আর কি কি উপায়ে সময় ইউটিলাইজ করে অন্যরা?

আমি একটুও সময় পাইনা নিজের জন্যে বেশিরভাগ সময়, কিন্তু মাঝে মাঝে ভাবি (যখন কাজের চাপ কম থাকে) কিভাবে অন্যরা বা আমার আপন মানুষ গুলো দিন কাটায়!!

কিভাবে সিঙ্গেল ফ্যামিলিতে থাকা সম্ভব! ঘর ভর্তি মানুষ না থাকলে আসলেই কি থাকা যায়!
আচ্ছা টিভি যারা সারাদিন দেখেও তাও কি তাদের এক্তা সময় একা লাগেনা?
আসলে আমরা সবাই কি একা?
সবাই যে যার মত একাই... মাঝে কিছুটা সময় অন্যান্যদের সাথে সময় কাটানো অভিনয় ছাড়া কিছুই না ।
নচিকেতা দারুন ভাবে নতুন ভাবে গেয়েছেন গান টা। যদি তোর ডাক শুনে কেও না আসে, তবে নাকি একলা চলতে হয় :)


আমার একটা ব্যাক্তিগত মতামত হল, নিজে নিজে বাঁচার মধ্যে কোন আনন্দ নেই, শুধুই নিজের জন্যে বাঁচা কোন বাঁচা না।

অন্যের জন্যেও বাঁচতে হয় মাঝে মাঝে। সবাই অনেক বেশি ভালো থাকুন কাছের মানুষ দের নিয়ে।
১২টি মন্তব্য ১২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নিশীথের মুঠোয় - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪



আমি সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়,
হিমশীতল সকালের ভেতর নত চোখে চেয়ে আছি।
হিমার্ত জানালায় জমে ওঠে নিঃশ্বাসের মেঘ—
আঙুল বুলিয়ে মুছে দিই;,
যদিও জানি, আজ সেখানে তোমার পদচিহ্ন নেই।

শরতের বৃক্ষেরা পত্রমোচনের ভাষা জানে;
আমি কেবল তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জেফরি আর্চারের জগৎ বিখ্যাত উপন্যাস ‘A Prisoner of Birth’ এবং অন্যান্য প্রসঙ্গে....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৭


ছবিতে আমি, মারুফ জামান এবং লেঃ কর্নেল রাজীব।
জেলে থাকতে জেফরি আর্চারের (Jeffrey Archer) লেখা ‘A Prisoner of Birth’ বইটির পড়ার জন্য বলেছিলেন ক্যাপ্টেন (চাকুরিচ্যুত) খন্দকার রাজীব... বইটি সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কো রুবিও ভারতে কী করছেন?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২


আওয়ামী দোসর নবনীতা আপার মতে, মার্কো রুবিও ভারতে গেছেন শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে। ডিসেম্বর মাসে যাতে শেখ হাসিনা ট্রাভেল পাস নিয়ে দেশে ফিরতে পারেন, সেই আলোচনা করতেই নাকি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সুন্দর সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:২১



সবকিছুই পাওয়া যায় এখন বিপণনের কল্যাণে,
বিপনি বিতানে বিতানে;
চাইলে কিনে নিতে পারো লালনীলহলুদ মনও!

মন চাইলে পোষ মানাতে পারো বনের অবাধ্য পশুও;
শুধু পোষ মানাতে যেও না মানুষ;... ...বাকিটুকু পড়ুন

×