somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুকুর বা ডগ : From London With Love (পর্ব-৭)

১৬ ই এপ্রিল, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
কুকুর বা ডগ



আমার কুকুরভীতি রয়েছে। প্রথমেই, কুকুরপ্রেমীদের বলে নেই যে আমি মোটেও কুকুর-ঘৃণা করিনা। বরং আমি কুকুর ভালোবাসি। কুকুরভীতি এবং কুকুর-ঘৃণার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দূর থেকে কুকুর দেখতে আমার ভা্লো লাগে। কুকুর আপনার সাথে খেলছে, ঘেউ ঘেউ করছে আর দৌড়াদৌড়ি করছে- এসব জিনিস দেখতে আমার ভালো লাগে। সমস্যা শুরু হয় কুকুর কাছে আসলে।

এই কুকুরভীতির কারণ আমার ছোটবেলার এক বাজে অভিজ্ঞতা। ছোটবেলা মামার সাথে হাঁটতে বের হয়েছিলাম। মামা কি বুঝে বলেছিল- দেখি তুমি কত জোরে দৌড়ে ওই লাল গাড়িটার দিকে যেতে পার দেখব। আমি কিছু না বুঝেই দৌড় দিলাম। দৌড় দেয়ার সাথে সাথে কোথা থেকে ৩ টা কুকুর আমাকে কামড়ানোর জন্য আমার দিকে ধেয়ে আসলো। আমি ভাবলাম কুকুরগুলো মনে হয় আমাকে ধরে খেয়ে ফেলবে। আমি আরও জোরে দৌড় দিলাম। কিন্তু এক পর্যায়ে তারা আমার অনেক কাছে চলে আসলো। আমার ভয় দেখে আশেপাশে থাকা কিছু কন্সট্রাকশন শ্রমিক আমার জীবন রক্ষা করল। তারা ঢিল মেরে কুকুরগুলোকে দূর করল। অনেক ভয় পেয়েছিলাম সেদিন। তাই আমাকে বাসায় নিয়ে লবণ পানি খাইয়ে শান্ত করা হয়েছিল। পরে আমাকে মামা ও পরিবার মিলে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল যে কুকুরগুলো নাকি আমার সাথে খেলা করার জন্য আমার পিছু নিয়েছিল। কর্তৃপক্ষের তথ্যের ওপর সেই যে আমার বিশ্বাস উঠে গেছে এখন পর্যন্ত আর ফিরে আসেনি।

দেশে ও বিদেশে এই কুকুরভীতির কারণে আমি এলিট সমাজের কাছে অসভ্য ও নির্দয় হিসাবে বিবেচিত হই।

>অসভ্যঃ ধানমন্ডি এলাকায় অনেকেই কুকুর বা ভদ্র ভাষায় ডগ যাকে বলা হয়, সেটা নিয়ে চলাচল করে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ডগ লালন-পালন করা অনেক জনপ্রিয়। কম বাজেটের ডগ হল বিড়াল বা ক্যাট। কিন্তু বিড়াল নিয়ে কেউ তেমন একটা হাঁটতে বের হয়না। হাঁটতে বের হয় ডগ নিয়ে। একবার আমাদের বাসায় ঢোকার মূল গেটের সামনে কয়েকটা ছেলে খুব সুন্দর একটা বিদেশী ডগ নিয়ে খেলা করছে। এই ডগ দেখে আমি আর আর গেটের ভেতর ঢুকতে পারছিলামনা। আমার অবস্থা দেখে ছেলেরা খুবই বিরক্ত হয়ে বলল- এইটা ত দেশী কুকুর না, বিদেশী কুকুর! অর্থাৎ, আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করল যে এই কুকুর খুবই নম্র-ভদ্র স্বভাবের। মানুষের ক্ষতি করবে না। কিন্তু আমি দেশী-বিদেশী সব ধরনের কুকুরকে সমানভাবে ভয় পাই। কোন ডিসক্রিমিনেশন নাই। পরে আমার অবস্থা দেখে তারা এই ব্যাটা কোথা থেকে আইসে? - টাইপের একটা লুক দিয়ে চলে যায়। এই কুকুরভীতির কারণে বাংলাদেশের সভ্য সমাজের অংশ হতে পারিনি।

>>নির্দয়ঃ সভ্য আমি নই। তাই সভ্য সমাজের অংশ হতে না পারায় আমার কোন আফসোস নেই। তবে আমি নির্দয় নই। মানুষজন নির্দয় ভাবলে তাই আমার খারাপ লাগে। আমাকে আমার স্ত্রী ❤ ছাড়া কেউ নির্দয় ভাবেনা। কিন্তু লন্ডনে এসে কুকুরভীতির কারণে আমাকে অনেকেই নির্দয় ভেবেছে সেটা আমি নিশ্চিত। লন্ডনে সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা কুকুর নিয়ে হাঁটে। এদের কাছে কুকুর হল নিজের সন্তানতুল্ল্য। কুকুরকে নিজের পরিবারের সদস্যের মত ভালোবাসে তারা। ধরেন আপনি আপনার শিশু নিয়ে হাঁটছেন। আদরের শিশু সবাই যাকে আদর করে। হাঁটার সময় আপনার বাচ্চা আমার সামনে পড়ায় আমি আপনার বাচ্চাকে দেখে দূরে সরে গেলাম।আপনার কেমন লাগবে? নিশ্চই ভাববেন আমি কত খারাপ ও নির্দয় ! তারাও বহুবার সেটাই ভেবেছে।

টেসকো ও অন্যান্য চেইনশপে কুকুর নিয়ে প্রবেশ নিষেধ। তাই তারা টেসকোতে প্রবেশের আগে কুকুর বেঁধে রেখে ভেতরে যায়। আর বাইরে কুকুর বাঁধা থাকায় আমি গেট দিয়ে ঢুকতে ভয় পাই। অপেক্ষা করি কুকুর সরানোর। তবে সাহস একটু হলেও বেড়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুকুরের সামনে দিয়েই হেঁটে গেছি কয়েকবার।

একবার বাসে উঠলাম। পাশের সিটে এক বৃদ্ধা তার কুকুর সহ বসল। সাধারণত বাসে কাউকে কুকুর নিয়ে উঠতে দেখিনা। বাসে কুকুর নিয়ে ওঠার নিয়ম আছে কিনা জানা নেই। মনে হয় নেই। সেই একদিনই দেখলাম কাউকে কুকুর নিয়ে উঠতে, আর আমার পোড়া কপাল যে আমার পাশের সিট এ এসেই বসল ! কুকুর আমার সাথে আবার খেলতে চাইল। আমার উশখুশ দেখে বৃদ্ধা কুকুরটিকে নিয়ে অন্য আরেকটি সিটে যেয়ে বসল। আমার খুব খারাপ লেগেছিল। মনে হয়েছিল আমার ফোবিয়ার কথা তাকে জানাই। কিন্তু জানানো হয়নি। জানিনা সেই বৃদ্ধা এবং তার কুকুর এখন এই সময় কোথায় আছে। আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুক। পৃথিবীর সকল দেশের সকল প্রাণী ভালো থাকুক।

আগের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই এপ্রিল, ২০২২ সন্ধ্যা ৭:৫৪
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

×