ইচ্ছেরা আমার শীতল পরশ মেখে
তোমার সুন্দর গ্রীবা ছুঁতে চেয়েছিলো।
বর্ষার মাতাল হাওয়া বৃষ্টির সুরে গান গেয়েছিলো
অমন মধুর দিনে ছিলে পাশে একলা ঘরের কোণে
ইচ্ছেরা আমার বর্ষামঙ্গলের মতোন মাতন তুলেছিলো।
শরতের মেঘলা আকাশ হয়েছিলে তুমি
ইচ্ছেরা আমার ঝাউবন, কাশফুল ছুঁয়ে
হিমালয় থেকে বঙ্গোপসাগর অবধি নদীর ঢেউ হয়েছিলো।
মধুর হেমন্তে হয়েছিলে সোনাধান কৃষকের মাঠে
তোমার কনক বর্ণে রেখে দু'চোখ করেছিলাম নবান্ন উৎসব।
শীতে কাক-ডাকা ভোরে দিয়েছিলে উষ্ণতা অপার
গভীর নিশীথে খুব কাছে এসেছিলাম তোমার মোহমায়া টানে।
বসন্তের কোকিলের সাথে তুমিও ডেকেছিলে হঠাৎ
ভেঙেছিলে ঘুম, বিমুগ্ধ দু'চোখ দেখেছিলো স্বপ্ন
বছরের শেষে সেই স্বপ্ন উটের গ্রীবার মতো দীর্ঘ হয়েছিলো।
গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত
বারো মাস ছয়টি ঋতুতে ছিলে পাশে তুমি
অথচ বছর শুরুর কাল-বৈশাখী ঝড় কী এক বিরহে
হঠাৎ উড়িয়ে নিলো সাজানো বাসর, নববর্ষের বরণ
ইচ্ছেরা, স্বপ্নেরা হারালো অসীম নীলে, মুক্ত হাওয়ায়
আমার ছয়টি ঋতু সমস্ত বছর শুধুই ভাঙা ভিটায়
তোমার শূন্যতা এখন এ আমাকেই কুঁড়ে খায়।
20.04.2006
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




