কবিতাটি যার উপহার বা অবজ্ঞা পেয়ে লিখেছিলাম, সে এখন ফিনল্যান্ডে। আমি ওভারসিওর- কোনো বাঙালিকে বিয়ে করেনি সে। পারলে ফিনিশিয় একজনকেই বেছে নেবে- এমন কথা তার আত্মীয়দের কাছ থেকে জেনেছিলাম তাও বেশ আগে। রবি ঠাকুরের কালো মেয়ের কালো হরিণ চোখের মতো ছিলো তার চোখ। কালো বলা ঠিক হবে না- তার গায়ের রং ছিলো শ্যামলা। ঐ যে তার চোখ আমাকে টানতো, তবে মেয়েটি আমাকে চিনতে চাইতো না; কারণ সে ছিলো দারুন স্বচ্ছল ঘরের, স্মার্ট মেয়ে। আর আমি ছিলাম অস্বচ্ছল, ক্ষেতুস। তবে তার বাবা-মা দু'জনই আমার উচ্চ-শিক্ষায় ভর্তি হবার পর বা অস্বচ্ছলতার সুবাদেই কীনা আমাকে খুব পছন্দ করতেন। পেছনে হয়তো কোনো আশাও ছিলো, কিন্তু সেটা পূর্ণ হয়নি....22 বছর আগের ঘটনা এটা। বাড়িতে গেলেই তার বাবা-মার কাছ থেকে পেতাম হাত-খরচের টাকা। মেয়েটি কী ভেবে যেন একটা আধুলি দিয়েছিলো আমাকে একদিন। উপহার না অবজ্ঞার বুঝিনি তখন! তবে দারুণ একটা কবিতা লিখেছিলাম ওটা পেয়ে- যা আমাকে কবিমহলে একটা পরিচিতি বয়ে এনেছিলো। হ্যাঁ, ওটাই আমার কবিমহলে আদৃত ময়মনসিংহ সাহিত্য সংসদের মুখপত্র পত্রিকায় প্রথম ছাপানো কবিতা।
স্বপ্নের আধুলি
না, কোনো ভিক্ষার দান নয়। হৃদয়ের জলাধারে
মসৃণ শরীরে ভেসে থাকা এক রূপালি ইলিশ।
নয় কোনো ঘৃণা কিংবা কণ্ঠলগ্ন পরিহাসও নয়
ভাবের ব্যানারে আঁকা অমলিন হৃদয় কুসুম।
ঘুমহীন চোখে আনে অবিনাশী মাধবী পিয়াস
স্বপ্নের আধুলি জ্বলজ্বল করে বনজ আঁধারে।
প্রকাশ: অক্টোবর, 1984
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০০৬ ভোর ৪:৩২